| বঙ্গাব্দ

রোবট দিয়ে কুরবানি কি জায়েজ?

রিপোর্টারের নামঃ BDS Bulbul Ahmed
  • আপডেট টাইম : 10-10-2026 ইং
  • 7270 বার পঠিত
রোবট দিয়ে কুরবানি কি জায়েজ?
ছবির ক্যাপশন: রোবট দিয়ে কুরবানি

রোবট বা স্বয়ংক্রিয় যন্ত্র দিয়ে কুরবানি ও পশু জবাইয়ের ইসলামি বিধান

প্রতিবেদক: বুলবুল আহমেদ

আধুনিক প্রযুক্তি ও শিল্পায়নের যুগে পশুপালন, প্রক্রিয়াজাতকরণ এবং জবাই করার ক্ষেত্রে রোবট বা মেকানাইজড মেশিনের ব্যবহার বিশ্বব্যাপী বৃদ্ধি পাচ্ছে। তবে ইসলামি শরিয়তে রোবট বা যন্ত্র দিয়ে পশু জবাই ও কুরবানি করার বৈধতা নিয়ে ফকীহ ও আলেমদের মধ্যে সুনির্দিষ্ট ও সু স্পষ্ট দৃষ্টিভঙ্গি রয়েছে। মূলত এই পদ্ধতির শরয়ী বিধান নির্ভর করে রোবটের পরিচালনা ও নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থার ওপর।

ইসলামি ফেকাহশাস্ত্রবিদদের মতে, রোবট বা মেকানিক্যাল মেশিন দিয়ে পশু জবাইয়ের বিষয়টি প্রধানত দুটি ভাগে বিভক্ত:

১. মুসলিম চালক দ্বারা নিয়ন্ত্রিত ও প্রতি পশুর ক্ষেত্রে 'বিসমিল্লাহ' পাঠ (জায়েজ)

রোবট যদি কোনো স্বাধীন সিদ্ধান্ত গ্রহণকারী সত্তা না হয়ে কেবল একটি হাতিয়ার বা যন্ত্র হিসেবে ব্যবহৃত হয়—যাকে একজন প্রাপ্তবয়স্ক মুসলিম ব্যক্তি সরাসরি বোতাম টিপে বা লিভারের মাধ্যমে নিয়ন্ত্রণ করছেন, তবে সেই রোবটকে চালকের হাতের ব্যবহৃত ছুরি বা অস্ত্রের বর্ধিত রূপ ধরা হয়।

  • শর্তাবলী: প্রতিটি পৃথক পশু জবাইয়ের মুহূর্তে উক্ত মুসলিম চালককে অবশ্যই নিজ মুখে ‘বিসমিল্লাহি আল্লাহু আকবার’ বলতে হবে এবং প্রচলিত জবাইয়ের সমস্ত শরঈ শর্ত (যেমন: রগ কাটা ও রক্ত প্রবাহিত হওয়া) সঠিকভাবে পূরণ হতে হবে।

  • এ পদ্ধতিতে নির্দিষ্ট পশুর গলায় ছুরি চালানোর সঙ্গে চালকের ‘বিসমিল্লাহ’ যুক্ত থাকায় এবং জবাইকারী নিজে মুসলিম হওয়ায় এ জাতীয় যন্ত্রে কৃত জবাই ও কুরবানি শরিয়তসম্মত এবং জায়েজ হবে।

২. সম্পূর্ণ স্বয়ংক্রিয় বা এক 'বিসমিল্লাহ'-তে দীর্ঘক্ষণ চালিত রোবট (নাজায়েজ ও হারাম)

কোনো রোবট বা মেকানাইজড মেশিনকে যদি সম্পূর্ণ স্বয়ংক্রিয়ভাবে ছেড়ে দেওয়া হয়—যেখানে একজন চালক শুরুতে একবার বোতাম টিপে বা ‘বিসমিল্লাহ’ বলে চালু করে দিলেন এবং এরপর রোবট ঘণ্টার পর ঘণ্টা নিজে থেকে একের পর এক পশু কেটে ফেলল, কিংবা কম্পিউটারে আগে থেকে প্রোগ্রাম সেট করে জবাই সম্পাদন করা হলো—তবে এই পদ্ধতিতে জবাইকৃত পশুর মাংস খাওয়া এবং তা দিয়ে কুরবানি করা কোনোভাবেই সহিহ বা জায়েজ হবে না।

শরিয়তের দলিল ও যুক্তি

ইসলামি শরিয়তে পশু জবাইয়ের ক্ষেত্রে প্রতিটি নির্দিষ্ট পশুর ওপর পৃথকভাবে আল্লাহর নাম স্মরণ করা জরুরি। রোবট বা মেশিন নিজে কোনো ‘মুকাল্লাফ’ বা ধর্মীয় বিধানের আওতাভুক্ত বুদ্ধিমান সত্তা নয়।

  • কুরআনের নির্দেশ: পবিত্র কুরআনে মহান আল্লাহ তাআলা স্পষ্ট ঘোষণা করেছেন:

    “যার ওপর আল্লাহর নাম উচ্চারণ করা হয়নি, তা তোমরা আহার করো না। নিশ্চয়ই তা ফিসক (পাপ)।”

    — সূরা আল-আনআম, আয়াত: ১২১

  • হাদিসের নির্দেশনা: রাফে ইবনু খাদিজ (রা.) থেকে বর্ণিত, রাসুলুল্লাহ ﷺ বলেছেন:

    “যে জিনিস (ধারালো অস্ত্র) রক্ত প্রবাহিত করে দেয় এবং যার ওপর আল্লাহর নাম নেওয়া হয়েছে, তা খাও; তবে দাঁত ও নখ দিয়ে নয়।”

    — সহিহ আল-বুখারি: ৫৫০৬

  • ফিকহের মূলনীতি (রদ্দুল মুহতার): বিখ্যাত ফকীহ আল্লামা ইবনে আবিদীন শামী (র.) তাঁর প্রখ্যাত গ্রন্থ ‘ফাতাওয়া-ই-শামী’-তে উল্লেখ করেছেন যে, বিসমিল্লাহ অবশ্যই প্রত্যক্ষ জবাইকারীর (বা অস্ত্র চালনাকারীর) পক্ষ থেকেই হতে হবে; অন্য কেউ তার পক্ষ থেকে উচ্চারণ করলে তা যথেষ্ট হবে না।

মূল নির্যাস

যেহেতু কুরবানি কেবল পশু হত্যা বা মাংস সংগ্রহ নয়; বরং এটি একটি বিশেষ আত্মত্যাগ ও গুরুত্বপূর্ণ ইবাদত। তাই রোবট বা স্বয়ংক্রিয় যন্ত্রের মতো জটিল ও আশঙ্কাপূর্ণ পদ্ধতির পরিবর্তে সম্ভব হলে নিজ হাতে কুরবানির পশু জবাই করা অথবা কোনো পরহেজগার যোগ্য মুসলিম ব্যক্তিকে দিয়ে জবাই করানোই সর্বাধিক উত্তম, নিরাপদ ও সুন্নাহসম্মত।

আরও খবর জানতে ভিজিট করুন: বাংলাদেশ প্রতিদিন

নিউজটি শেয়ার করুন

এ জাতীয় আরো খবর..
ফেসবুকে আমরা...
নামাজের সময়সূচী
জাতীয় সঙ্গীত
©সকল কিছুর স্বত্বাধিকারঃ বাংলাদেশ প্রতিদিন সত্যের সন্ধানে সব সময় | আমাদের সাইটের কোন বিষয়বস্তু অনুমতি ছাড়া কপি করা দণ্ডনীয় অপরাধ
সকল কারিগরী সহযোগিতায় BDS Digital Marketing Agency