| বঙ্গাব্দ

ইসরাইলি নেতা ইয়ার গোলান আয়াতুল্লাহ খামেনিকে হত্যা করাটা ভুল ছিল

রিপোর্টারের নামঃ BDS Bulbul Ahmed
  • আপডেট টাইম : 10-10-2026 ইং
  • 14652 বার পঠিত
ইসরাইলি নেতা ইয়ার গোলান  আয়াতুল্লাহ খামেনিকে হত্যা করাটা ভুল ছিল
ছবির ক্যাপশন: ইসরাইলি নেতা ইয়ার গোলান আয়াতুল্লাহ খামেনিকে

খামেনিকে হত্যা করা ইসরাইলের জন্য বড় ভুল সিদ্ধান্ত ছিল: বিরোধীদলীয় নেতা ইয়ার গোলান

প্রতিবেদক: বুলবুল আহমেদ

যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইলের ইরান যুদ্ধ শুরুর প্রথম দিকে দেশটির সাবেক সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনিকে হত্যা করার সিদ্ধান্তটি ইসরাইল রাষ্ট্রের জন্য একটি চরম ‘ভুল’ পদক্ষেপ ছিল বলে মন্তব্য করেছেন দেশটির অন্যতম বিরোধী দল ‘ডেমোক্রেটিক পার্টি’-র প্রধান ইয়ার গোলান।

ইসরাইলের তেল আবিবের দক্ষিণাঞ্চলীয় শহর রিশন লেজিওনে আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে দেওয়া বিশেষ সাক্ষাৎকারে ইয়ার গোলান এই বিস্ফোরক মন্তব্য করেন। গত শুক্রবার (৯ অক্টোবর ২০২৬) ইসরাইলি প্রভাবশালী সংবাদমাধ্যম ‘দ্য টাইমস অব ইসরাইল’-এ তার এই বক্তব্যের একটি বিস্তারিত প্রতিবেদন প্রকাশিত হয়।

খামেনি হত্যাকাণ্ড ও নেতৃত্বের উগ্রতা

সাক্ষাৎকারে ইয়ার গোলান তার দৃষ্টিভঙ্গি পরিষ্কার করে বলেন:

‘আমি দ্ব্যর্থহীনভাবে মনে করি, খামেনির মতো ব্যক্তিত্বকে হত্যা করাটা চরম ভুল ছিল। তিনি যে মরার যোগ্য ছিলেন না—বিষয়টি মোটেও তেমন নয়; আসল বিষয় হলো তার এই হত্যাকাণ্ড ইসরাইল রাষ্ট্রের কূটনৈতিক ও ভূরাজনৈতিক স্বার্থের অনুকূলে যায়নি।’

এ সময় খামেনির বয়সের বিষয়টি স্মরণ করিয়ে দিয়ে তিনি উল্লেখ করেন যে, মৃত্যুর সময়ে খামেনির বয়স হয়েছিল ৮৬ বছর। ইসরাইলি এই জ্যেষ্ঠ রাজনীতিক ও বিরোধী নেতা দাবি করেন, আয়াতুল্লাহ আলী খামেনির বিদায়ের পর তার ছেলে মোজতবা খামেনি ইরানের মসনদে বসার ফলে দেশটি এখন আরও অনেক বেশি ‘উগ্র, অনমনীয় ও সহিংস ব্যক্তিদের’ প্রত্যক্ষ নেতৃত্বে পরিচালিত হচ্ছে, যা ইসরাইলের নিরাপত্তার জন্য আরও বেশি ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে উঠেছে।

নেতানিয়াহুর নীতির তীব্র সমালোচনা

ইয়ার গোলান একই সাথে ইসরাইলি প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুর যুদ্ধ কৌশলের কড়া সমালোচনা করেন। তিনি বলেন, নেতানিয়াহু ইরান সরকার পতনের যে ‘অবাস্তব ও অদূরদর্শী লক্ষ্য’ নির্ধারণ করেছিলেন, তা পুরোপুরি ব্যর্থ হয়েছে এবং মূল লক্ষ্য অর্জিত হয়নি।

উল্লেখ্য, চলতি ২০২৬ সালের গত ২৮ ফেব্রুয়ারি যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইল যৌথভাবে ইরানের বিরুদ্ধে সামরিক অভিযান ও যুদ্ধ শুরু করে। এর কঠোর জবাবে তেহরান পুরো মধ্যপ্রাচ্য অঞ্চলে একযোগে বিধ্বংসী ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলা চালায় এবং সামরিক দিক থেকে অত্যন্ত কৌশলগত হরমুজ প্রণালি সম্পূর্ণ বন্ধ করে দেয়।

এই সর্বাত্মক যুদ্ধের ফলে পুরো মধ্যপ্রাচ্যে স্মরণকালের ভয়াবহতম আঞ্চলিক উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে। বিশেষ করে বিশ্বের অন্যতম প্রধান এই সামুদ্রিক রুট দিয়ে বাণিজ্যিক তেল পরিবহন বন্ধ হয়ে যাওয়ায় আন্তর্জাতিক বাজারে জ্বালানি তেলের দামে তীব্র সংকট ও রেকর্ড মূল্যবৃদ্ধি ঘটে। পরবর্তীতে পাকিস্তান ও কাতারের কূটনৈতিক মধ্যস্থতায় সংঘাত স্থগিত করতে এবং মধ্যস্থতার পথ সুগম করার লক্ষ্যে গত জুন মাসে ওয়াশিংটন ও তেহরান একটি কাঠামোগত চুক্তি স্বাক্ষর করে।

আরও খবর জানতে ভিজিট করুন: বাংলাদেশ প্রতিদিন

নিউজটি শেয়ার করুন

এ জাতীয় আরো খবর..
ফেসবুকে আমরা...
নামাজের সময়সূচী
জাতীয় সঙ্গীত
©সকল কিছুর স্বত্বাধিকারঃ বাংলাদেশ প্রতিদিন সত্যের সন্ধানে সব সময় | আমাদের সাইটের কোন বিষয়বস্তু অনুমতি ছাড়া কপি করা দণ্ডনীয় অপরাধ
সকল কারিগরী সহযোগিতায় BDS Digital Marketing Agency