প্রতিবেদক: বুলবুল আহমেদ
মসজিদ হলো মহান আল্লাহর ঘর এবং মুসলমানদের ইবাদতের পবিত্র স্থান। এখানে একনিষ্ঠভাবে আল্লাহর জিকির ও ইবাদত করা হয়। তাই মসজিদের সম্মান, পবিত্রতা ও শৃঙ্খলা রক্ষা করা প্রতিটি মুমিনের প্রধান দায়িত্ব। বর্তমান যুগে যোগাযোগ মাধ্যম হিসেবে মোবাইল ফোন আমাদের জীবনের সঙ্গে ওতপ্রোতভাবে জড়িত থাকলেও মসজিদের ভেতরে এর ব্যবহার কেমন হওয়া উচিত, সে বিষয়ে ইসলামি শরিয়তে সুনির্দিষ্ট কিছু আদব ও নীতিমালা রয়েছে।
মসজিদে ঢোকার পর মোবাইল ফোন ব্যবহার করা একেবারে নিষিদ্ধ নয়—প্রয়োজনে এবং বৈধ কোনো কাজে এটি ব্যবহার করা জায়েয আছে। তবে শর্ত হলো, এর মাধ্যমে যেন মসজিদের পবিত্রতা ক্ষুণ্ন না হয় এবং অন্য কোনো মুসল্লির ইবাদতে বিন্দুমাত্র বিঘ্ন বা কষ্ট না ঘটে।
বিনা প্রয়োজনে মসজিদ বা ইবাদতের জায়গায় ফোন ঘাঁটাঘুটি করা কোনোভাবেই ঠিক নয়। একইভাবে মসজিদে বসে মোবাইল ফোনে খেলাধুলা করা, অযথা মজা করা, দুনিয়াবি বাজে কথা বলা কিংবা ছবি বা ভিডিও দেখা সম্পূর্ণ নাজায়েজ। যে ধরনের আচরণ বা ব্যবহারে অন্য মুসল্লিদের মনে কষ্ট বা বিরক্তি সৃষ্টি হয়, সেসব অনর্থক কাজ থেকে দূরে থাকাই শরিয়তের নির্দেশ।
ফোন ঘরে বা অফিসে রাখা: সম্ভব হলে মসজিদে আসার সময় মোবাইল ফোন বাসা বা কর্মস্থলে রেখে আসাটাই সবচেয়ে ভালো।
ফোন বন্ধ বা সাইলেন্ট করা: ফোন সঙ্গে থাকলে মসজিদে প্রবেশের আগেই তা সম্পূর্ণ বন্ধ করে দেওয়া উচিত। যদি বন্ধ করা সম্ভব না হয়, তবে অন্তত ফোনটি সাইলেন্ট (Silent) বা ভাইব্রেশন মোডে রাখতে হবে।
রিংটোনের ক্ষেত্রে সতর্কতা: রিংটোন বা মেসেজের নোটিফিকেশন অ্যালার্ট হিসেবে কোনো ধরনের গান, বাজনা বা শরিয়তবিরোধী সুর রাখা যাবে না। ভালো হয় রিংটোন সম্পূর্ণ মিউট বা সাধারণ ভাইব্রেশন ব্যবহার করা, যাতে কোনো কারণে ভুলবশত ফোন বেজে উঠলেও গান-বাজনার মতো পাপ থেকে বেঁচে থাকা যায়।
নামাজ বা জিকিরের সময় হঠাৎ জরুরি কোনো ফোন চলে এলে করণীয় সম্পর্কে কিছু বিশেষ আদব রয়েছে:
বাইরে গিয়ে কথা বলা: জরুরি কল রিসিভ করতে হলে মসজিদ কক্ষ থেকে বাইরে বা বারান্দায় গিয়ে কথা বলা উচিত।
নীরব স্থান ও আস্তে কথা বলা: বাইরে যাওয়া সম্ভব না হলে মসজিদের কোনো নিরিবিলি কোণে গিয়ে খুব নিচু ও ফিসফিস করে কথা বলতে হবে। কথোপকথন অবশ্যই সংক্ষিপ্ত করতে হবে এবং কেবল যতটুকু প্রয়োজন ততটুকুই বলা উচিত।
মুসল্লিদের মাঝে কথা না বলা: صف (সফ) বা মুসল্লিদের মাঝখানে বসে ফোনে উচ্চস্বরে কথা বলা বা চ্যাট করা সম্পূর্ণ অনুচিত। এতে আশপাশে থাকা নামাজি ও ইবাদতকারীদের চরম কষ্ট হয়। বিশেষ করে জামাত চলাকালীন বা কেউ নফল ইবাদত ও কোরআন তিলাওয়াতে মগ্ন থাকলে আরও বেশি সতর্ক থাকতে হবে।
হোয়াটসঅ্যাপ ও মেসেঞ্জার: অত্যন্ত জরুরি কোনো বার্তা পাঠানো বা প্রাতিষ্ঠানিক যোগাযোগ রক্ষা করার ক্ষেত্রে এগুলো ব্যবহার করা জায়েয। তবে খেয়াল রাখতে হবে যেন এর মাধ্যমে কোনো প্রাণীর ছবি বা ভিডিও দেখা না হয়, গান-বাজনা শোনা না হয় কিংবা বিনা কারণে সময় নষ্ট করা না হয়।
ফেসবুক, ইউটিউব, টিকটক ও ইনস্টাগ্রাম: মসজিদের পবিত্র পরিবেশে ফেসবুক, ইউটিউব, টিকটক বা ইনস্টাগ্রামের মতো বিনোদনমূলক বা সোশ্যাল মিডিয়া প্ল্যাটফর্মগুলো ব্যবহার করা সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ। এটি মসজিদের মর্যাদার পরিপন্থী।
সংক্ষেপে বলতে গেলে, মসজিদের ভেতরে মোবাইল ব্যবহারের মূল নিয়মটি অত্যন্ত সহজ—প্রয়োজনে ও বৈধ প্রয়োজনে তা ব্যবহার করা যাবে, তবে অবশ্যই মসজিদের আদব ও শান্তিশৃঙ্খলা বজায় রেখে। অন্য মুসল্লিদের ইবাদতে বাধা সৃষ্টি করে এমন যেকোনো ব্যবহার থেকে পুরোপুরি বিরত থাকাই একজন মুমিনের প্রকৃত দায়িত্ব।
| ফজর | 3:50 AM ভোর |
|---|---|
| যোহর | 12:04 দুপুর |
| আছর | 4:44 PM বিকাল |
| মাগরিব | 6:50 PM সন্ধ্যা |
| এশা | 8:17 PM রাত |
| জুম্মা | 1.30 pm দুপুর |