| বঙ্গাব্দ

বাবা কন্যাকে কি সব সম্পত্তি দান করতে পারবেন?

রিপোর্টারের নামঃ BDS Bulbul Ahmed
  • আপডেট টাইম : 02-10-2026 ইং
  • 6913 বার পঠিত
বাবা কন্যাকে কি সব সম্পত্তি দান করতে পারবেন?
ছবির ক্যাপশন: সব সম্পত্তি দান করতে পারবেন?

জীবদ্দশায় কন্যাসন্তানদের সম্পত্তি লিখে দেওয়া কি জায়েজ? শায়খ আহমাদুল্লাহর ব্যাখ্যা

প্রতিবেদক: বুলবুল আহমেদ

বাংলাদেশে পারিবারিক সম্পত্তি নিয়ে বিরোধ একটি অত্যন্ত পরিচিত ও সাধারণ চিত্র। সমাজের প্রচলিত নিয়মের কারণে অনেক সময় বাবা-মা তাদের কন্যাসন্তানদের ভবিষ্যৎ ও নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে জীবদ্দশাতেই নিজেদের সব সম্পত্তি মেয়েদের নামে লিখে দিতে চান। এ বিষয়ে ইসলামি শরিয়তের বিধান কী এবং কোরআনের নির্দেশনার আলোকে দান বা হেবা ও অসিয়তের সঠিক নিয়ম কেমন—তা সম্প্রতি এক আলোচনায় বিস্তারিত তুলে ধরেছেন দেশের প্রখ্যাত আলেম শায়খ আহমাদুল্লাহ।

কোরআনের দৃষ্টিতে মেয়েদের সম্পত্তির অংশ

সাধারণত সমাজে দেখা যায়, যাদের শুধু কন্যাসন্তান রয়েছে, মৃত্যুর পর তাদের সম্পত্তি ভাই কিংবা চাচাতো ভাইদের মাধ্যমে গ্রাস হওয়ার আশঙ্কা থাকে। বাবা-মায়ের তখন মনে হয়, এত কষ্ট করে অর্জন করা সম্পত্তি তাদের মেয়েরা না পেয়ে অন্য কেউ নিয়ে যাবে।

এ বিষয়ে শায়খ আহমাদুল্লাহ পবিত্র কুরআনের নির্দেশনা তুলে ধরে বলেন, আল্লাহ তায়ালা কোরআনে উত্তরাধিকারের স্পষ্ট বিধান দিয়েছেন। সুরা নিসার নির্দেশনা অনুযায়ী, মৃত ব্যক্তির যদি কেবল কন্যাসন্তান থাকে—তাহলে একাধিক কন্যাসন্তান (দুয়ের অধিক) থাকলে তারা মোট সম্পত্তির তিনের দুই অংশ (২/৩) পাবেন। আর যদি কন্যাসন্তান মাত্র একজন হয়, তবে তিনি পাবেন সম্পত্তির ঠিক অর্ধেক (১/২)। বাকি অংশ শরিয়তের নিয়ম অনুযায়ী অন্যান্য ওয়ারিশরা পাবেন।

জীবদ্দশায় সম্পত্তি লিখে দেওয়ার বিধান ও শর্ত

আল্লাহর নির্ধারিত এই বিধানের বাইরে গিয়ে বাবা-মা অনেক সময় জীবদ্দশায় সম্পূর্ণ সম্পত্তি মেয়েদের লিখে দিতে চান। এ বিষয়ে শায়খ আহমাদুল্লাহ জানান, জীবদ্দশায় বাবা-মা তাঁদের সন্তানদের উপহার বা উপঢৌকন (হেবা) স্বরূপ সম্পত্তি দিতে পারেন, এতে শরিয়তে কোনো বাধা নেই। এমনকি তাঁরা চাইলে সব সম্পত্তিও লিখে দিতে পারেন। সন্তানরা তখন ওই সম্পত্তির পূর্ণ মালিক হয়ে যায়। তবে ইসলামি শরিয়তের দৃষ্টিতে এই দান কার্যকর হওয়ার ক্ষেত্রে দুটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ শর্ত রয়েছে:

১. হস্তান্তর প্রক্রিয়া সম্পন্ন হওয়া: দান বা হেবা তখনই সম্পূর্ণ ও কার্যকর হবে, যখন বাবা-মা জীবদ্দশায় সম্পত্তি আইনগত ও বাস্তবিকভাবে সন্তানদের বুঝিয়ে দেবেন এবং তারা সেটির দখল বুঝে নেবে। কেবল মুখের কথা বা দলিল করে নিজের দখলে রেখে দেওয়া সঠিক দান নয়।

২. নিয়ত বা উদ্দেশ্য সঠিক হওয়া: সম্পত্তি লিখে দেওয়ার পেছনের মানসিকতা কী, তা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। যদি উদ্দেশ্য এমন হয় যে, বাবা-মায়ের মৃত্যুর পর ওয়ারিশদের মধ্যে অন্যায়ভাবে সম্পত্তি দখল বা লুণ্ঠন রোধ করা, তবে তা স্বাভাবিক ও জায়েজ হতে পারে।

কোন ক্ষেত্রে এই দান নাজায়েজ ও গুনাহ হবে?

শায়খ আহমাদুল্লাহ স্পষ্ট করে বলেন, কোনো ব্যক্তির যদি মূল উদ্দেশ্য এটি হয় যে, আল্লাহ তায়ালা পবিত্র কুরআনে উত্তরাধিকারের যে বণ্টন বা বিধান দিয়েছেন, তিনি সেই বিধান মানবেন না এবং নিজের ক্ষোভ বা অন্য কোনো কারণে আল্লাহর বিধান ভেঙে সব সম্পত্তি শুধু মেয়েদের দিয়ে যাবেন—তাহলে পৃথিবীর সব আলেম একমত যে, এ ধরনের দান সম্পূর্ণ নাজায়েজ এবং কবিরা গুনাহ বলে গণ্য হবে।


আরও খবর জানতে ভিজিট করুন: বাংলাদেশ প্রতিদিন

নিউজটি শেয়ার করুন

এ জাতীয় আরো খবর..
ফেসবুকে আমরা...
নামাজের সময়সূচী
জাতীয় সঙ্গীত
©সকল কিছুর স্বত্বাধিকারঃ বাংলাদেশ প্রতিদিন সত্যের সন্ধানে সব সময় | আমাদের সাইটের কোন বিষয়বস্তু অনুমতি ছাড়া কপি করা দণ্ডনীয় অপরাধ
সকল কারিগরী সহযোগিতায় BDS Digital Marketing Agency