| বঙ্গাব্দ

মেসেঞ্জারে সালামের জবাব দিলে কি তালাক হবে?

রিপোর্টারের নামঃ BDS Bulbul Ahmed
  • আপডেট টাইম : 28-09-2026 ইং
  • 14052 বার পঠিত
মেসেঞ্জারে সালামের জবাব দিলে কি তালাক হবে?
ছবির ক্যাপশন: মেসেঞ্জারে সালামের জবাব দিলে কি তালাক হবে?

মেসেঞ্জারে লিখে সালামের উত্তর দেওয়ায় কি তালাক পতিত হয়? জেনে নিন ইসলামি শরিয়তের বিধান

প্রতিবেদক: বুলবুল আহমেদ

দাম্পত্য জীবনের পবিত্রতা ও সুশৃঙ্খলা রক্ষায় ইসলাম অত্যন্ত সুনির্দিষ্ট ও সতর্কতামূলক দিকনির্দেশনা প্রদান করেছে। অনেক সময় মানুষ রাগের বশে কিংবা আবেগের তাড়নায় এমন কিছু শর্ত বা কসম করে বসেন, যা পরবর্তীতে বড় ধরনের পারিবারিক জটিলতার সৃষ্টি করে। তেমনি একটি সংবেদনশীল বিষয় হলো—নির্দিষ্ট কোনো ব্যক্তির সঙ্গে যোগাযোগ বা কথা বলার ওপর নিষেধাজ্ঞা আরোপ করা। বর্তমান ডিজিটাল যুগে মেসেঞ্জার বা চ্যাট মাধ্যমেই এ ধরনের শর্তের মুখোমুখি হওয়ার ঘটনা প্রায়ই ঘটে। এ বিষয়ে শরিয়তের প্রকৃত বিধান কী, তা প্রতিটি দম্পতির জন্যই জানা জরুরি।

ঘটনার প্রেক্ষাপট:

জনৈক ব্যক্তি প্রায় এক বছর আগে তাঁর স্ত্রীকে শর্ত দিয়েছিলেন যে, ‘রহমান নামের কোনো লোকের সাথে কথা বললে তুমি তালাক।’ এরপর কয়েক মাস আগে ওই স্বামী তাঁর স্ত্রীকে মেসেঞ্জারে লিখিত সালাম পাঠান এবং স্ত্রীও তার লিখিত জবাব দেন। এই ঘটনার পর প্রশ্ন ওঠে যে, মেসেঞ্জারে লিখিতভাবে সালাম আদান-প্রদানের কারণে কি স্ত্রীর ওপর তালাক পতিত হয়েছে কি না।

শরিয়তের বিধান ও সমাধান:

ইসলামি ফিকহের মূলনীতি অনুযায়ী, আলোচ্য বিবরণটিতে মেসেঞ্জারে লিখিতভাবে সালামের জবাব দেওয়ার কারণে স্ত্রীর ওপর কোনো তালাক পতিত হয়নি।

এর মূল কারণ হলো—ইসলামি ফিকহের পরিভাষা এবং সামাজিক প্রথা বা রীতিনীতি (উরফ) অনুযায়ী, কোনো কিছু লিখে যোগাযোগ করা কিংবা চ্যাট করা সরাসরি মুখে কথা বলার বা কালামের অন্তর্ভুক্ত নয়। তাই কেবল মেসেজে লিখিতভাবে সালামের উত্তর দেওয়ার কারণে স্বামীর করা শপথ বা শর্ত ভঙ্গ হয় না।

নিয়তের ওপর ভিত্তি করে ব্যতিক্রম:

তবে এ ক্ষেত্রে একটি বিশেষ ও গুরুত্বপূর্ণ ব্যতিক্রম রয়েছে। স্বামী যখন স্ত্রীকে ‘কথা বললে তালাক’ শর্তটি আরোপ করেছিলেন, তখন যদি তাঁর সুনির্দিষ্ট নিয়ত বা অন্তরের উদ্দেশ্য থাকে যে— কেবল মুখে কথা বলা নয়, বরং চ্যাট করা, লিখে বা মেসেজে যোগাযোগ করাও এই নিষেধাজ্ঞার অন্তর্ভুক্ত, তবে সে ক্ষেত্রে তালাক পতিত হওয়ার বিধান প্রযোজ্য হবে। অর্থাৎ, স্বামীর নিয়তের ওপর ভিত্তি করে শরিয়তের হুকুমে পরিবর্তন আসতে পারে।

কুরআন ও হাদিসের আলোকে দলিল:

ইসলামি শরিয়তে শপথ এবং কথা বলার সংজ্ঞায় মৌখিক উচ্চারণকে প্রধান প্রাধান্য দেওয়া হয়েছে। প্রখ্যাত ফিকহ ও ফাতাওয়ার কিতাবে বিষয়টি অত্যন্ত স্পষ্টভাবে উল্লেখ করা হয়েছে—

وَلَوْ قَالَ: ‌وَاَللَّهِ ‌لَا ‌أُكَلِّمُ ‌فُلَانًا ‌بِهَذَا ‌الْأَمْرِ فَهَذَا عَلَى الْكَلَامِ بِعَيْنِهِ لَا يَحْنَثُ بِكِتَابٍ وَلَا رَسُولٍ

অর্থ: কেউ যদি বলে, ‘আল্লাহর কসম, আমি অমুকের সাথে এ বিষয়ে কথা বলব না,’ তবে তা কেবল সরাসরি মুখের কথার ওপরই প্রযোজ্য হবে। এটি লেখা বা কোনো দূতের মাধ্যমে বার্তা পাঠানোর দ্বারা শপথ ভঙ্গ (হানাস) হবে না। (বদায়িউস সানাই, খণ্ড ৩, পৃষ্ঠা ৮৮)

অন্য একটি কিতাবে এসেছে—

(‌الْكَلَامُ) ‌وَالتَّحْدِيثُ (‌لَا ‌يَكُونُ ‌إلَّا ‌بِاللِّسَانِ) فَلَا يَحْنَثُ بِِشَارَةٍ وَكِتَابَةٍ كَمَا فِي النُّتَفِ

অর্থ: ‘কথা বলা এবং কোনো বিষয়ে কথোপকথন কেবল জিহ্বা বা মুখ দিয়েই হয়ে থাকে। তাই ইশারা বা লেখার মাধ্যমে কথা বলার শপথ ভঙ্গ হয় না, যেমনটি ‘আন-নুতাফ’ গ্রন্থে উল্লেখ রয়েছে।’ (রদ্দুল মুহতার তথা ফাতাওয়া শামী, খণ্ড ৫, পৃষ্ঠা ৫৯৬)

আরও খবর জানতে ভিজিট করুন: বাংলাদেশ প্রতিদিন

নিউজটি শেয়ার করুন

এ জাতীয় আরো খবর..
ফেসবুকে আমরা...
নামাজের সময়সূচী
জাতীয় সঙ্গীত
©সকল কিছুর স্বত্বাধিকারঃ বাংলাদেশ প্রতিদিন সত্যের সন্ধানে সব সময় | আমাদের সাইটের কোন বিষয়বস্তু অনুমতি ছাড়া কপি করা দণ্ডনীয় অপরাধ
সকল কারিগরী সহযোগিতায় BDS Digital Marketing Agency