সিরিয়ার দক্ষিণাঞ্চলে ভয়াবহ ইসরায়েলি হামলা, নিহত ৬ জন
ডামাস্কাস, ২৫ মার্চ ২০২৫: সিরিয়ার দক্ষিণাঞ্চলে এক ভয়াবহ ইসরায়েলি হামলায় কমপক্ষে ছয়জন নিহত হয়েছে। মঙ্গলবার (২৫ মার্চ) দেশটির পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের বরাতে ব্রিটিশ সংবাদ সংস্থা রয়টার্সের এক প্রতিবেদনে উঠে আসে এই তথ্য। হামলাটি সিরিয়ার কয়া প্রদেশে চালানো হয়। স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, হামলার লক্ষ্য ছিল সেখানকার সামরিক স্থাপনা, তবে এর মধ্যে নিরীহ বেসামরিক লোকের প্রাণহানিও ঘটেছে।
এই হামলার পর, সিরিয়া সরকার তীব্র প্রতিক্রিয়া ব্যক্ত করে। সিরিয়ার পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এক বিবৃতিতে ইসরায়েলের এই হামলাকে আন্তর্জাতিক আইন এবং মানবাধিকার লঙ্ঘন হিসেবে চিহ্নিত করেছে। সিরিয়ার সরকার তাদের জাতীয় সার্বভৌমত্ব এবং ভূখণ্ডের নিরাপত্তার প্রতি এই আগ্রাসনকে স্পষ্টভাবে নিন্দা জানিয়েছে। এ ছাড়াও, তারা আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের প্রতি আহ্বান জানিয়েছে, যাতে বিষয়টি নিয়ে একটি স্বাধীন তদন্ত কমিশন গঠন করা হয়।
জাতিসংঘের প্রতিক্রিয়া ও ইসরায়েলের সমালোচনা
সিরিয়ার ওপর ইসরায়েলি হামলা নিয়ে আন্তর্জাতিক প্রতিক্রিয়া শুরু হয়েছে। জাতিসংঘের নিরাপত্তা পরিষদে এ ঘটনার নিন্দা জানানো হয়েছে। এক বিবৃতিতে বলা হয়েছে, ইসরায়েলের এই হামলা আন্তর্জাতিক শান্তি ও নিরাপত্তার জন্য মারাত্মক হুমকি হয়ে দাঁড়িয়েছে। নিরাপত্তা পরিষদ শান্তির পথে ইসরায়েলের ওপর চাপ প্রয়োগের আহ্বান জানিয়েছে এবং সিরিয়ার সার্বভৌমত্বের প্রতি শ্রদ্ধা রাখার অনুরোধ করেছে।
ইসরায়েলি হামলার পর আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের তীব্র প্রতিক্রিয়ার মধ্যে, কয়েকটি দেশ তাদের উদ্বেগ প্রকাশ করেছে। জাতিসংঘের সদস্য রাষ্ট্রগুলি, বিশেষ করে আরব বিশ্ব, এই হামলাকে “অগ্রহণযোগ্য” হিসেবে অভিহিত করেছে এবং শীঘ্রই হামলা বন্ধের জন্য আন্তর্জাতিক চাপ বৃদ্ধি করার আহ্বান জানিয়েছে।
মধ্যপ্রাচ্যের দেশগুলোর উদ্বেগ
মধ্যপ্রাচ্যের বিভিন্ন দেশ, বিশেষ করে সৌদি আরব, কাতার, এবং অন্যান্য আরব দেশগুলি সিরিয়ায় ইসরায়েলি হামলা বন্ধের জন্য জোরালো দাবি জানিয়েছে। সৌদি আরবের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এক বিবৃতিতে এ হামলার নিন্দা জানিয়ে জানিয়েছে যে, ইসরায়েলের এই আগ্রাসন একটি নতুন সংঘাতের জন্ম দিতে পারে, যা পুরো অঞ্চলের শান্তি ও নিরাপত্তার জন্য ক্ষতিকর হতে পারে।
কাতারের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ও এই হামলার তীব্র নিন্দা জানিয়েছে এবং সিরিয়ার জনগণের প্রতি সহানুভূতি প্রকাশ করেছে। কাতার সরকারের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, “এ ধরনের হামলা আন্তর্জাতিক সম্পর্কের নীতি ও মানবাধিকার পরিপন্থী এবং একে মানবিক দৃষ্টিকোণ থেকেও সমর্থনযোগ্য নয়।”
সিরিয়ার শান্তির সম্ভাবনা এবং ভবিষ্যৎ পরিস্থিতি
এই হামলা সিরিয়ার জন্য নতুন এক চ্যালেঞ্জের সৃষ্টি করেছে। সিরিয়ার জাতীয় নিরাপত্তা পরিস্থিতি ইতোমধ্যেই সংকটাপন্ন ছিল, এবং ইসরায়েলি হামলা তা আরও জটিল করে তুলেছে। দেশটির সরকার বিভিন্ন আন্তর্জাতিক সমর্থন লাভের চেষ্টা করছে, তবে সিরিয়ার ভূখণ্ডে আন্তর্জাতিক শক্তির দখল ও হস্তক্ষেপ বিষয়টি আরও জটিল হয়ে উঠতে পারে।
বিশ্ব সম্প্রদায় ও আন্তর্জাতিক সংগঠনগুলোর ওপর এই মুহূর্তে চাপ বাড়ছে। বিশেষ করে, জাতিসংঘ, ইউরোপীয় ইউনিয়ন এবং অন্যান্য বিশ্ব শক্তি সিরিয়ার স্থিতিশীলতা ফিরিয়ে আনার জন্য কার্যকর পদক্ষেপ নেবার দিকে নজর দিতে পারে।
| ফজর | 3:50 AM ভোর |
|---|---|
| যোহর | 12:04 দুপুর |
| আছর | 4:44 PM বিকাল |
| মাগরিব | 6:50 PM সন্ধ্যা |
| এশা | 8:17 PM রাত |
| জুম্মা | 1.30 pm দুপুর |