| বঙ্গাব্দ

জুমার নামাজে দেরিতে পৌঁছালে যেসব মহিমান্বিত সওয়াব থেকে বঞ্চিত হতে হয়

রিপোর্টারের নামঃ BDS Bulbul Ahmed
  • আপডেট টাইম : 18-09-2026 ইং
  • 3582 বার পঠিত
জুমার নামাজে দেরিতে পৌঁছালে যেসব মহিমান্বিত সওয়াব থেকে বঞ্চিত হতে হয়
ছবির ক্যাপশন: জুমার নামাজে দেরিতে পৌঁছালে যেসব মহিমান্বিত সওয়াব থেকে

জুমার নামাজে দেরিতে পৌঁছালে যেসব মহিমান্বিত সওয়াব থেকে বঞ্চিত হতে হয়

জুমার নামাজে নির্ধারিত সময়ের চেয়ে দেরিতে পৌঁছানোর কারণে একজন মুমিন অজান্তেই একাধিক বিশেষ সওয়াব ও ফজিলত থেকে বঞ্চিত হন। পবিত্র হাদিস শরিফ অনুযায়ী, সপ্তাহের শ্রেষ্ঠ দিন জুমাবারে গোসল করে প্রথম প্রহরে মসজিদে গমনকারীদের জন্য একটি উট বা গরু কুরবানির সমপরিমাণ সওয়াব নির্ধারিত থাকে। তবে ইমাম খুতবা দেওয়ার উদ্দেশ্যে মিম্বারে উঠলে সওয়াব লেখার বিশেষ খাতা বন্ধ হয়ে যায়। ফলে যারা দেরিতে বা খুতবা শুরুর পর মসজিদে পৌঁছান, তারা এই বিশেষ মর্যাদা ও হাদিসে বর্ণিত বিশাল সওয়াব থেকে বঞ্চিত হন। আত্মশুদ্ধি অর্জন ও সঠিক সময়ে মসজিদে উপস্থিত হওয়ার তাগিদ দিয়ে ইসলামিক চিন্তাবিদ ও খতিবগণ এই বিষয়ে সতর্ক করে আসছেন।

জুমায় দেরিতে পৌঁছালে যেসব সওয়াব থেকে বঞ্চিত হতে হয়

সহিহ হাদিসের আলোকে জুমার নামাজে অবহেলা বা দেরির কারণে বেশ কিছু তাৎপর্যপূর্ণ নেকি হাতছাড়া হয়ে যায়।

  • কুরবানির সমপরিমাণ সওয়াব লাভ না হওয়া: প্রথম প্রহরে মসজিদে গেলে উট, দ্বিতীয় প্রহরে গরু এবং পরবর্তী প্রহরগুলোতে দুম্বা বা মুরগি কুরবানির সওয়াব পাওয়া যায়। দেরিতে গেলে এই বিশেষ মর্যাদা মেলে না।

  • ফেরেশতাদের খাতায় নাম না ওঠা: জুমার দিন মসজিদের দরজায় আমলনামা লেখার জন্য ফেরেশতাগণ অবস্থান করেন। খুতবা শুরু হলে তারা খাতা বন্ধ করে খুতবা শুনতে বসে যান; ফলে বিলম্বকারীদের নাম সেই বিশেষ তালিকায় থাকে না।

  • খুতবার হেদায়েত ও বরকত থেকে বঞ্চিত হওয়া: জুমার খুতবা শোনা ওয়াজিব। দেরিতে পৌঁছানোর কারণে খুতবার মূল বার্তা ও এর দ্বারা অর্জিত আত্মিক প্রশান্তি থেকে মুসল্লিরা বঞ্চিত হন।

এক নজরে জুমার দিন মসজিদে সময়মতো উপস্থিতির গুরুত্ব

  • বিষয়: জুমার নামাজে দ্রুত পৌঁছানোর ফজিলত ও দেরির পরিণতি

  • প্রথম প্রহরের সওয়াব: একটি উট বা গরু কুরবানি করার সমান সওয়াব

  • বিশেষ সতর্কতা: ইমাম মিম্বারে বসলে সওয়াব লিপিবদ্ধকারী ফেরেশতাদের খাতা বন্ধ হয়ে যায়

  • মূল করণীয়: আজান হওয়ার সাথে সাথে সমস্ত দুনিয়াবি কাজ গুটিয়ে মসজিদের উদ্দেশ্যে রওনা হওয়া

খুতবার সময় কথা বলা ও অনর্থক কাজের ওপর নিষেধাজ্ঞা

দেরিতে পৌঁছানোর পাশাপাশি অনেকে খুতবা চলাকালে অসাবধানতাবশত কথা বলেন বা মোবাইল ফোন ব্যবহার করেন। হাদিস অনুযায়ী, খুতবা চলাকালীন পাশে থাকা কাউকে 'চুপ করো' বলাও একটি অনর্থক কাজ, যা জুমার সওয়াব কমিয়ে দেয়। তাই দেরিতে পৌঁছানো ও খুতবার সময় অমনোযোগী হওয়া—উভয়টিই পরিহার করা আবশ্যক।

ওয়াক্ত হওয়ার সাথে সাথে মসজিদে যাওয়ার তাগিদ

ইসলামি শরিয়তের নির্দেশনা অনুযায়ী, জুমার দিন আজান শোনার সাথে সাথে ব্যবসা-বাণিজ্য বা অন্যান্য দুনিয়াবি ব্যস্ততা ত্যাগ করে দ্রুত মসজিদের দিকে ধাবিত হওয়া উচিত। সঠিক সময়ে উপস্থিতির মাধ্যমেই কেবল জুমার দিনের পূর্ণাঙ্গ ফজিলত ও রহমত লাভ করা সম্ভব।

প্রতিবেদক:বিডিএস বুলবুল আহমেদ
আরও খবর জানতে ভিজিট করুন: বাংলাদেশ প্রতিদিন

নিউজটি শেয়ার করুন

এ জাতীয় আরো খবর..
ফেসবুকে আমরা...
নামাজের সময়সূচী
জাতীয় সঙ্গীত
©সকল কিছুর স্বত্বাধিকারঃ বাংলাদেশ প্রতিদিন সত্যের সন্ধানে সব সময় | আমাদের সাইটের কোন বিষয়বস্তু অনুমতি ছাড়া কপি করা দণ্ডনীয় অপরাধ
সকল কারিগরী সহযোগিতায় BDS Digital Marketing Agency