উত্তর আমেরিকার বাণিজ্য সম্পর্কে এক অভূতপূর্ব উত্তেজনা দেখা দিয়েছে। মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের সাম্প্রতিক একপাক্ষিক শুল্ক আরোপের সিদ্ধান্তের জবাবে এবার কঠোর অবস্থান নিয়েছে কানাডা। অটোয়া আনুষ্ঠানিকভাবে মার্কিন পণ্যের ওপর ২০ বিলিয়ন মার্কিন ডলার সমপরিমাণ পাল্টা শুল্ক আরোপের ঘোষণা দিয়েছে। কানাডার প্রধানমন্ত্রী জাস্টিন ট্রুডো গত সন্ধ্যায় এক জরুরি সংবাদ সম্মেলনে এই সিদ্ধান্তের কথা জানান। দেশটির সরকারের পক্ষ থেকে পরিষ্কার করা হয়েছে যে, মার্কিন অসংবেদনশীল বাণিজ্যিক নীতির কারণে নিজস্ব অর্থনীতি, স্থানীয় শিল্প ও শ্রমিকদের স্বার্থ রক্ষার্থেই এই 'দাঁতভাঙা জবাব' দিতে বাধ্য হয়েছে তারা।
আন্তর্জাতিক বাণিজ্য বিশেষজ্ঞদের মতে, দুই বন্ধুত্বপূর্ণ প্রতিবেশী দেশের মধ্যে এই ধরনের শুল্কযুদ্ধ বৈশ্বিক বাজারেও প্রভাব ফেলতে পারে। অটোয়ার এই সিদ্ধান্তটি কীভাবে কার্যকর হচ্ছে এবং সার্বিক পরিস্থিতিতে এর প্রভাব কী, তা নিচে তুলে ধরা হলো:
পাল্টা শুল্কের আওতায় যেসব মার্কিন পণ্য কানাডা সরকারের অর্থমন্ত্রণালয় থেকে প্রকাশিত তালিকা অনুযায়ী, এই ২০ বিলিয়ন ডলারের শুল্ক মূলত যুক্তরাষ্ট্রের তৈরি পোশাক, স্টিল, অ্যালুমিনিয়াম, কৃষি পণ্য এবং ভারী যন্ত্রপাতির ওপর কার্যকর হবে। শুল্কের হার পণ্যভেদে ১০ শতাংশ থেকে ২৫ শতাংশ পর্যন্ত নির্ধারণ করা হয়েছে। আগামী মাস থেকেই এই নতুন ট্যাক্স কাঠামো কার্যকর করার পরিকল্পনা রয়েছে।
কানাডা সরকারের স্পষ্ট বার্তা সংবাদ সম্মেলনে কানাডার প্রধানমন্ত্রী জানান, কানাডা কখনোই কোনো বাণিজ্যযুদ্ধ চায়নি। তবে জাতীয় স্বার্থের জায়গায় কোনো আপস করা হবে না। ট্রুডো বলেন, "আমরা বাণিজ্য অংশীদারদের সম্মান করি, কিন্তু কানাডার শ্রমিকদের ওপর অন্যায্য শুল্ক চাপিয়ে দিলে আমরা হাত গুটিয়ে বসে থাকব না।" তিনি আরও যোগ করেন, যুক্তরাষ্ট্র যদি তাদের শুল্ক নীতি পুনর্মূল্যায়ন করে, তবে কানাডাও তাদের সিদ্ধান্ত সংশোধন করতে প্রস্তুত।
অর্থনৈতিক ও বৈশ্বিক প্রভাব মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র এবং কানাডার মধ্যকার বাণিজ্য সম্পর্ক বিশ্বের বৃহত্তম অর্থনৈতিক অংশীদারিত্বগুলোর একটি। হুট করে এই শুল্ক আরোপের ফলে উভয় দেশের ভোক্তাদের ওপরই প্রভাব পড়বে এবং নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের দাম বৃদ্ধি পেতে পারে। মার্কিন ব্যবসায়ীদের একটি বড় অংশ ইতোমধ্যে ওয়াশিংটনের মূল সিদ্ধান্তের সমালোচনা করেছে, কারণ কানাডার এই পাল্টা পদক্ষেপের ফলে মার্কিন রপ্তানিকারকরা বড় ধরনের আর্থিক ক্ষতির মুখে পড়বেন।
পরিস্থিতি সামাল দিতে উভয় দেশের উচ্চপদস্থ কর্মকর্তাদের মধ্যে কূটনৈতিক ও বাণিজ্যিক আলোচনার পথ এখনো খোলা রাখা হয়েছে। এখন দেখার বিষয়, অটোয়ার এই অর্থনৈতিক চাপের মুখে মার্কিন প্রশাসন তাদের রাজস্ব নীতিতে কোনো নমনীয়তা আনে কি না।
প্রতিবেদক:বিডিএস বুলবুল আহমেদ
আরও খবর জানতে ভিজিট করুন: বাংলাদেশ প্রতিদিন
| ফজর | 3:50 AM ভোর |
|---|---|
| যোহর | 12:04 দুপুর |
| আছর | 4:44 PM বিকাল |
| মাগরিব | 6:50 PM সন্ধ্যা |
| এশা | 8:17 PM রাত |
| জুম্মা | 1.30 pm দুপুর |