ভারতের পূর্বাঞ্চলীয় রাজ্য বিহারে সাম্প্রতিক বন্যা পরিস্থিতি এবং গঙ্গার জলস্তর বৃদ্ধিকে কেন্দ্র করে রাজ্য রাজনীতির পারদ চড়তে শুরু করেছে। বিহারের বন্যা দুর্ভোগের জন্য ফারাক্কা ব্যারেজের পলি জমা ও জল ধারণক্ষমতা হ্রাসকে দায়ী করে ব্যারেজের সমস্ত গেট খুলে দেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন বিহারের মুখ্যমন্ত্রী নীতিশ কুমার। এই বিষয়ে তিনি পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভার বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারীর দৃষ্টি আকর্ষণ করে কেন্দ্রীয় সরকারের ওপর চাপ সৃষ্টির তাগিদ দেন। অন্যদিকে, পশ্চিমবঙ্গের নিরাপত্তা ও নদী তীরবর্তী নিচু এলাকা প্লাবিত হওয়ার আশঙ্কায় নীতিশ কুমারের এই দাবির তীব্র বিরোধিতা করেছেন বিজেপি নেতা শুভেন্দু অধিকারী।
পলি জমাই কি মূল সমস্যা?
বিহারে প্রতি বছর বর্ষাকালে গঙ্গা নদী উপচে পড়ে বিস্তৃত এলাকা প্লাবিত হয়। বিহার সরকারের দীর্ঘদিনের অভিযোগ, ফারাক্কা ব্যারেজের কারণে গঙ্গার স্বাভাবিক পলি প্রবাহ ব্যাহত হচ্ছে। ফলে নদীর তলদেশ ভরাট হয়ে জল ধারণক্ষমতা আশঙ্কাজনকভাবে কমে গেছে। মুখ্যমন্ত্রী নীতিশ কুমার বহুবার ফারাক্কা ব্যারেজ পুনর্মূল্যায়ন বা এর গেটগুলো সার্বক্ষণিকভাবে খোলা রাখার পক্ষে মত দিয়েছেন, যাতে পলি জমে নদীর নাব্যতা নষ্ট না হয়।
শুভেন্দু অধিকারীর প্রতিক্রিয়া
বিহারের মুখ্যমন্ত্রীর এই দাবির পরপরই কড়া প্রতিক্রিয়া জানিয়েছেন শুভেন্দু অধিকারী। তার মতে, ফারাক্কার সব গেট একসঙ্গে খুলে দেওয়া হলে পশ্চিমবঙ্গের মুর্শিদাবাদ, নদীয়াসহ পার্শ্ববর্তী বিস্তীর্ণ এলাকা ভয়াবহ বন্যার কবলে পড়বে। এতে শুধু ভারতের অংশই ক্ষতিগ্রস্ত হবে না, বরং নীচু অববাহিকা হিসেবে বাংলাদেশের বিশাল এলাকা প্লাবিত হওয়ার চরম ঝুঁকি তৈরি হবে। আন্তর্জাতিক নদী চুক্তি এবং আঞ্চলিক নিরাপত্তার কথা বিবেচনা না করে এমন মন্তব্য করা অনুচিত বলে মনে করেন তিনি।
আন্তর্জাতিক ও কৌশলগত প্রভাব
ফারাক্কা ব্যারেজ ভারত ও বাংলাদেশের নদী জল বন্টনের ক্ষেত্রে একটি অত্যন্ত সংবেদনশীল বিষয়। প্রকৌশলীদের মতে, বর্ষা মৌসুমে ফারাক্কার গেট খোলার বিষয়টি একটি নির্দিষ্ট নিয়মনীতি ও পানির প্রবাহের ওপর ভিত্তি করে পরিচালিত হয়। হঠাৎ করে সব গেট উন্মুক্ত করে দিলে ভাটির অঞ্চলে পানির তোড় সামলানো অসম্ভব হয়ে পড়বে, যা পরিবেশগত ও সামাজিক বিপর্যয় ডেকে আনতে পারে।
ফারাক্কা ব্যারেজ নিয়ে বিহার ও পশ্চিমবঙ্গের রাজনীতিবিদের এই বাদানুবাদ কেবল স্থানীয় রাজনীতিতেই সীমাবদ্ধ নেই, তা গঙ্গা অববাহিকার সামগ্রিক পানিসম্পদ ব্যবস্থাপনা নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন তুলে দিয়েছে।প্রতিবেদক:বিডিএস বুলবুল আহমেদ
আরও খবর জানতে ভিজিট করুন: বাংলাদেশ প্রতিদিন| ফজর | 3:50 AM ভোর |
|---|---|
| যোহর | 12:04 দুপুর |
| আছর | 4:44 PM বিকাল |
| মাগরিব | 6:50 PM সন্ধ্যা |
| এশা | 8:17 PM রাত |
| জুম্মা | 1.30 pm দুপুর |