| বঙ্গাব্দ

খাদ্যে বিষের সমূদ্র: পানি থেকে শিশুখাদ্য—নিত্যপণ্যে মিলল ক্ষতিকর রাসায়নিক ও সিসা

রিপোর্টারের নামঃ BDS Bulbul Ahmed
  • আপডেট টাইম : 07-08-2026 ইং
  • 26166 বার পঠিত
খাদ্যে বিষের সমূদ্র: পানি থেকে শিশুখাদ্য—নিত্যপণ্যে মিলল ক্ষতিকর রাসায়নিক ও সিসা
ছবির ক্যাপশন: নিত্যপণ্যে মিলল ক্ষতিকর রাসায়নিক ও সিসা

নিরাপদ খাদ্য কর্তৃপক্ষের চাঞ্চল্যকর প্রতিবেদন: শাকসবজি, তেল ও দুধে মরণব্যাধি বিষাক্ত উপাদানের উপস্থিতি

স্বাস্থ্য ও জনজীবন সংবাদ

৭ আগস্ট, ২০২৬

খাদ্যে বিষাক্ত উপাদানের ভয়াবহ উপস্থিতি নিয়ে প্রকাশ্যে এসেছে এক চাঞ্চল্যকর তথ্য। বাংলাদেশ নিরাপদ খাদ্য কর্তৃপক্ষের (বিএফএসএ) ২০২৪-২৫ অর্থবছরের পরীক্ষার প্রতিবেদনে দেখা গেছে, পানীয় পানি থেকে শুরু করে শাকসবজি, তেল, দুধ, মসলা, মিষ্টি ও শিশুখাদ্য—নিত্যপ্রয়োজনীয় নানা খাদ্যপণ্যে ক্ষতিকর রাসায়নিক, ভারী ধাতু এবং মরণব্যাধি জীবাণুর অস্তিত্ব মিলেছে। বিশেষজ্ঞরা সতর্ক করে বলেছেন, এসব দূষিত খাদ্য গ্রহণের ফলে মানুষের শরীরে ক্যানসার, কিডনি, লিভার ও হৃদরোগের মতো জটিল রোগের ঝুঁকি মারাত্মকভাবে বাড়ছে।

স্মার্ট সারসংক্ষেপ

  • পানিতে মরণব্যাধি জীবাণু: দিনাজপুরে প্রতি ১০০ মিলি পানিতে ১২০ সিএফইউ এবং খাগড়াছড়িতে ৬০ সিএফইউ ফিকাল কলিফর্ম (মলের জীবাণু) শনাক্ত হয়েছে, যা পানিবাহিত ডায়রিয়া ও টাইফয়েডের ঝুঁকি বাড়াচ্ছে।

  • সবজিতে ভারী ধাতু: ঢাকার বাজারে পাওয়া সবজির নমুনায় স্বাভাবিকের চেয়ে বহুগুণ বেশি সিসা (সর্বোচ্চ ২.৩৭ পিপিএম) এবং ক্যাডমিয়ামসহ ই-কোলাই ও সালমোনেলার উপস্থিতি পাওয়া গেছে।

  • গুড়, মুড়ি ও চানাচুরে নিষিদ্ধ কেমিক্যাল: গুড় ও জিলাপিতে নিষিদ্ধ সোডিয়াম হাইড্রোসালফাইট, মুড়িতে ইউরিয়া এবং চানাচুরে মাত্রাতিরিক্ত লবণ ও অ্যাফ্লাটক্সিন শনাক্ত করা হয়েছে।

  • দুধ ও মিষ্টিতে কারসাজি: মিল্ক পাউডারে সিসা, ঘিতে মিল্ক ফ্যাটের অনুপস্থিতি এবং মধুতে অতিরিক্ত সুক্রোজ-গ্লুকোজের মিশ্রণ পাওয়া গেছে।

  • বিশেষজ্ঞদের উদ্বেগ: কনজুমারস অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশের (ক্যাব) মতে, কঠোর আইন থাকলেও যথাযথ প্রয়োগের অভাবে মানুষ প্রতিনিয়ত বিষাক্ত খাবার খাচ্ছে।

প্রতিবেদনের মূল ফলাফল: পাতে ওঠা প্রতিদিনের খাবারেই ‘বিষ’

বাংলাদেশ নিরাপদ খাদ্য কর্তৃপক্ষের সাম্প্রতিক গবেষণায় নিত্যদিনের প্রায় প্রতিটি প্রধান খাদ্যপণ্যে ভেজাল ও বিষাক্ত রাসায়নিকের উপস্থিতি নিশ্চিত করা হয়েছে। অতি মুনাফার লোভে মাছ, মাংস, ফল ও মসলায় ক্ষতিকর কেমিক্যাল মেশানোর পাশাপাশি অপরিপক্ব ফল পাকাতে কার্বাইড ও হরমোন ব্যবহার করা হচ্ছে।

প্রতিবেদনের উল্লেখযোগ্য কিছু তথ্য নিচে তুলে ধরা হলো:

নিরাপদ খাদ্য কর্তৃপক্ষের প্রতিবেদনে চিহ্নিত প্রধান ভেজালসমূহ:
┌─────────────────────────────────────────────────────────────────────────────┐
│ • পানীয় পানি    : ফিকাল কলিফর্ম বা মলের জীবাণু (ডায়রিয়া ও টাইফয়েডের ঝুঁকি)।  │
│ • শাকসবজি       : উচ্চমাত্রার সিসা (সর্বোচ্চ ২.৩৭ পিপিএম) ও ক্যাডমিয়াম।      │
│ • গুড় ও জিলাপি  : নিষিদ্ধ সোডিয়াম হাইড্রোসালফাইট (রং ও উজ্জ্বলতা বাড়াতে)। │
│ • মুড়ি ও চানাচুর : ইউরিয়ার উপস্থিতি এবং মাত্রাতিরিক্ত লবণ ও অ্যাফ্লাটক্সিন।    │
│ • দুধ ও মধু      : মিল্ক পাউডারে সিসা এবং মধুতে অতিরিক্ত সুক্রোজ ও ফ্রুক্টোজ।  │
└─────────────────────────────────────────────────────────────────────────────┘

জনস্বাস্থ্য ও শিশুখাদ্যের ওপর মারাত্মক হুমকি

ইবনে সিনা মেডিকেল College-এর ডায়েটিশিয়ান সিরাজাম মুনিরা ও জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞ ডা. শামীম আহমেদ জানিয়েছেন, এই ধরনের বিষাক্ত ও ভারী ধাতুযুক্ত খাবার দীর্ঘমেয়াদে মানুষের লিভার, কিডনি, স্নায়ুতন্ত্র ও মস্তিষ্কের স্থায়ী ক্ষতি করছে। বিশেষ করে শিশুরা এসব ভেজাল খাবারের কারণে মারাত্মক পুষ্টিহীনতা, অ্যালার্জি এবং বিকাশজনিত জটিলতার শিকার হচ্ছে।

আইনগত কঠোরতা প্রসঙ্গে ক্যাব-এর ভাইস প্রেসিডেন্ট এসএম নাজের হোসাইন উল্লেখ করেন, ফরমালিন নিয়ন্ত্রণ আইন-২০১৫, নিরাপদ খাদ্য আইন-২০১৩ এবং ১৯৭৪ সালের বিশেষ ক্ষমতা আইনে সর্বোচ্চ মৃত্যুদণ্ডের বিধান থাকলেও সঠিক প্রয়োগের অভাবে খাদ্যে ভেজাল থামানো যাচ্ছে না। অন্যদিকে, বিএফএসএ চেয়ারম্যান মো. শফিকুল ইসলাম জানিয়েছেন যে, জেলা পর্যায়ে ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা এবং বিএসটিআইয়ের সঙ্গে যৌথ অভিযানের মাধ্যমে দোষীদের শাস্তির আওতায় আনার কাজ নিয়মিতভাবে চলছে।

প্রতিবেদক:বিডিএস বুলবুল আহমেদ
আরও খবর জানতে ভিজিট করুন: বাংলাদেশ প্রতিদিন

নিউজটি শেয়ার করুন

এ জাতীয় আরো খবর..
ফেসবুকে আমরা...
নামাজের সময়সূচী
জাতীয় সঙ্গীত
©সকল কিছুর স্বত্বাধিকারঃ বাংলাদেশ প্রতিদিন সত্যের সন্ধানে সব সময় | আমাদের সাইটের কোন বিষয়বস্তু অনুমতি ছাড়া কপি করা দণ্ডনীয় অপরাধ
সকল কারিগরী সহযোগিতায় BDS Digital Marketing Agency