আন্তর্জাতিক ভূ-রাজনীতি বিশ্লেষণ
৩ আগস্ট, ২০২৬
ইরানের সাবেক প্রেসিডেন্ট মাহমুদ আহমাদিনেজাদকে নিজেদের গোপন এজেন্ট বানিয়ে ইসলামি প্রজাতন্ত্রের পতনের পর নতুন শাসক হিসেবে বসানোর ষড়যন্ত্র করেছিল ইসরাইলি গোয়েন্দা সংস্থা মোসাদ—যুক্তরাষ্ট্রের অন্যতম শীর্ষ দৈনিক নিউ ইয়র্ক টাইমস-এ প্রকাশিত এমন একটি চাঞ্চল্যকর অনুসন্ধানী প্রতিবেদন বিশ্ব রাজনীতিতে তুমুল শোরগোল ফেলেছে।
তবে সাবেক ইতালীয় কূটনীতিক মারকো কার্নেলোসসহ প্রবীণ গোয়েন্দা বিশ্লেষকদের মতে, গল্পটি দেখতে রোমাঞ্চকর মনে হলেও এতে অসংখ্য গুরুতর কৌশলগত অসঙ্গতি ও অযৌক্তিকতা রয়েছে।
চাঞ্চল্যকর দাবি: মোসাদ প্রধান ডেভিড বার্নিয়ার সঙ্গে বুদাপেস্টে secret বৈঠক এবং ১.৫ দশকের শত্রু আহমাদিনেজাদকে তেহরান থেকে উদ্ধারের কথিত অভিযান।
ক্ষমতার আসল রূপরেখা: ইরানে রাষ্ট্রপতির ক্ষমতার সীমাবদ্ধতা রয়েছে; নীতি নির্ধারণের মূল চাবিকাঠি সুপ্রিম লিডার ও আইআরজিসির (IRGC) হাতে।
কৌশলগত অমিল: ইসরাইল ধ্বংসের ডাক দেওয়া এবং পশ্চিমা বিশ্বে চরম ঘৃণিত একজন চরিত্রকে ক্ষমতার পরিবর্তনের পর প্রধান সমন্বয়ক ভাবা বড় ধরনের গোয়েন্দা ভুল হিসেবে চিহ্নিত।
অভ্যন্তরীণ বিরোধ: ইসরাইলি সামরিক গোয়েন্দা বিভাগ (Military Intelligence) নিজেই মোসাদের এই পরিকল্পনাকে অসম্ভব ও আত্মঘাতী বলে মনে করেছিল।
ইসরাইলের সাবেক গোয়েন্দা কর্মকর্তা ও ভূ-রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা প্রতিবেদনটিতে উত্থাপিত যুক্তিগুলোর বেশ কিছু মূল দুর্বলতা চিহ্নিত করেছেন:
মোসাদ-আহমাদিনেজাদ কথিত অপারেশনের প্রধান ৩টি বৈপরীত্য:
┌─────────────────────────────────────────────────────────────────────────────┐
│ ১. গোয়েন্দা নীতিভঙ্গ: মোসাদ প্রধান সরাসরি উচ্চ-ঝুঁকিপূর্ণ টার্গেটের সাথে দেখা করবেন না।│
│ ২. অযোগ্য কাভার : জলবায়ু সম্মেলনকে কেন্দ্র করে সাবেক রাষ্ট্রপ্রধানের সাথে বৈঠক। │
│ ৩. জনভিত্তির অভাব : আহমাদিনেজাদ নিজ দেশে কট্টর ও সংস্কারবাদী—উভয় পক্ষেই প্রত্যাখ্যাত। │
└─────────────────────────────────────────────────────────────────────────────┘
ইসরাইলি সংবাদপত্র হারেৎজ-এর তথ্যমতে, মোসাদের বাইরে থাকা ইসরাইলি সামরিক গোয়েন্দা বিভাগের শীর্ষ কর্মকর্তারা শুরু থেকেই এই পরিকল্পনাটিকে অবাস্তব হিসেবে আখ্যা দিয়েছিলেন। তাদের আশঙ্কা ছিল, সরকার পতনের পর আহমাদিনেজাদকে বসানোর স্বপ্ন ব্যর্থ হয়ে ক্ষমতা সরাসরি কট্টরপন্থী ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কর্পসের (IRGC) হাতে চলে যেত।
তাছাড়া আহমাদিনেজাদের দপ্তরও এই রিপোর্টকে সম্পূর্ণ প্রত্যাখ্যান করে এটিকে ‘হলিউড-স্টাইলের বানোয়াট দাবি’ বলে অভিহিত করেছে। পুরো প্রতিবেদনটি মূলত নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক কয়েকজন কর্মকর্তার দাবির ওপর নির্ভর করে তৈরি, যার সপক্ষে দৃশ্যমান বা দালিলিক প্রমাণের প্রচণ্ড অভাব রয়েছে।
| ফজর | 3:50 AM ভোর |
|---|---|
| যোহর | 12:04 দুপুর |
| আছর | 4:44 PM বিকাল |
| মাগরিব | 6:50 PM সন্ধ্যা |
| এশা | 8:17 PM রাত |
| জুম্মা | 1.30 pm দুপুর |