রাজনীতি ও নির্বাচনী পর্যবেক্ষণ ডেস্ক
৩১ জুলাই, ২০২৬
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে দলীয় নির্বাচনী ব্যয়ে রাজনৈতিক দলগুলোর মধ্যে বড় ধরনের বৈষম্য ও ভিন্ন চিত্র ভেসে উঠেছে। নির্বাচন কমিশনের (ইসি) প্রকাশিত প্রতিবেদনে দেখা গেছে, প্রধান বিরোধী দল বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী নির্বাচনে সর্বোচ্চ দলীয় ব্যয় দেখিয়েছে।
ব্যয়ে শীর্ষ দুই: জামায়াতে ইসলামী ২২৭ আসনে প্রার্থী দিয়ে ব্যয় দেখিয়েছে ৪ কোটি ৪৯ লাখ ৪৭,৯৭২ টাকা।
নতুন দল এনসিপি: প্রথমবার নির্বাচনে অংশ নেওয়া জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি) ৩২ জন প্রার্থী দিয়ে ১২ লাখ ৮৪,৪০০ টাকা খরচ করেছে।
সর্বনিম্ন ব্যয়: ৪ জন প্রার্থী দেওয়া বাংলাদেশ মুসলিম লীগ (বিএমএল) মাত্র ৩,০০০ টাকা দলীয় ব্যয় হিসাব দেখিয়েছে, যা নিবন্ধিত দলগুলোর মধ্যে সর্বনিম্ন।
শূন্য’ ব্যয়ের রেকর্ড: এলডিপি, গণফোরাম, জাকের পার্টি, সিপিবি-র অংশসহ মোট ২৮টি দল প্রার্থীর অনুকূলে দলীয় তহবিলের অনুদান 'শূন্য' দেখিয়েছে।
আইন অনুযায়ী (আরপিও) প্রার্থীর সংখ্যার ওপর দলীয় ব্যয়ের ঊর্ধ্বসীমা নির্ধারিত হয়। দলগুলো সরাসরি প্রার্থী প্রতি সর্বোচ্চ ১.৫ লাখ টাকা পর্যন্ত অনুদান দিতে পারে।
শীর্ষ রাজনৈতিক দলগুলোর নির্বাচনী ব্যয় বিবরণী (ইসি প্রতিবেদন অনুযায়ী):
┌─────────────────────────────────────────────────────────────────────────────┐
│ • বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী : ৪,৪৯,৪৭,৯৭২ টাকা (প্রার্থী: ২২৭ জন) │
│ • বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল : ৩,৮০,৮৯,১৩৭ টাকা (প্রার্থী: ২৯১ জন) │
│ • ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ : ৩৩,৬৫,৯৭১ টাকা (প্রার্থী: ২৫৮ জন) │
│ • সিপিবি : ২০,৯৬,২৬৩ টাকা (প্রার্থী: ৬৫ জন) │
│ • নেজামে ইসলাম পার্টি : ২০,১৬,৬০০ টাকা (প্রার্থী: ২৮ জন) │
│ • এবি পার্টি : ১৭,৮১,৭১০ টাকা (প্রার্থী: ৩০ জন) │
│ • জাতীয় নাগরিক পার্টি (NCP) : ১২,৮৪,৪০০ টাকা (প্রার্থী: ৩২ জন) │
│ • গণঅধিকার পরিষদ : ৮,১০,০০০ টাকা (প্রার্থী: ৯০ জন) │
│ • জাতীয় পার্টি (এরশাদ) : ৫,০৫,০০০ টাকা (প্রার্থী: ২০০ জন) │
└─────────────────────────────────────────────────────────────────────────────┘
ইসি সূত্রে জানা গেছে, যেসব দল ‘শূন্য’ ব্যয় দেখিয়েছে, তাদের ক্ষেত্রে দলীয় তহবিল থেকে প্রার্থীদের সরাসরি কোনো নগদ বা উপকরণগত অনুদান দেওয়া হয়নি। সংশ্লিষ্ট প্রার্থীরা সম্পূর্ণ নিজ দায়িত্বে বা ব্যক্তিগত অর্থায়নে নির্বাচনী প্রচারণা চালান, যার হিসাব প্রার্থীরা রিটার্নিং কর্মকর্তার কাছে পৃথকভাবে জমা দিয়েছেন।
‘শূন্য’ ব্যয় দেখানো উল্লেখ্যযোগ্য রাজনৈতিক দলসমূহ:
লিবারেল ডেমোক্রেটিক পার্টি (এলডিপি), গণফোরাম, জাকের পার্টি, গণসংহতি আন্দোলন, নাগরিক ঐক্য, বাংলাদেশ কল্যাণ পার্টি, বাংলাদেশ জাতীয় পার্টি (বিজেপি), ইনসানিয়াত বিপ্লব, এবং বিপ্লবী ওয়ার্কার্স পার্টিসহ ২৮টি দল।
রাজনৈতিক ও নির্বাচন বিশেষজ্ঞদের মতে, নিবন্ধিত রাজনৈতিক দলগুলো নির্বাচন কমিশনে যে তথ্য জমা দেয়, তার সাথে মাঠপর্যায়ের প্রকৃত ব্যয়ের বিশাল ফারাক রয়েছে।
কাগজে-কলমে বনাম বাস্তব ব্যয়: সাবেক নির্বাচন ব্যবস্থা সংস্কার কমিশনের সদস্যরা ইঙ্গিত করেছেন যে, নির্বাচনকালীন অনানুষ্ঠানিক অনুদান ও বিপুল অর্থিক লেনদেন ইসির এই প্রাতিষ্ঠানিক রিপোর্টিংয়ের বাইরে থেকে যায়।
আইনি বাধ্যবাধকতা: গেজেট প্রকাশের ৯০ দিনের মধ্যে হিসাব দেওয়ার নিয়ম থাকায় প্রায় সব দল ফরমালিটি শেষ করতে আর্থিক বিবরণী জমা দিলেও ব্যয়ের খাতভিত্তিক স্বচ্ছতার বিষয়ে ইসি বিস্তারিত অডিট করে না।
প্রতিবেদক:বিডিএস বুলবুল আহমেদ
আরও খবর জানতে ভিজিট করুন: বাংলাদেশ প্রতিদিন
| ফজর | 3:50 AM ভোর |
|---|---|
| যোহর | 12:04 দুপুর |
| আছর | 4:44 PM বিকাল |
| মাগরিব | 6:50 PM সন্ধ্যা |
| এশা | 8:17 PM রাত |
| জুম্মা | 1.30 pm দুপুর |