বিজ্ঞান ও চিকিৎসা প্রযুক্তি ডেস্ক
৩১ জুলাই, ২০২৬
ত্বকের ক্যানসার 'মেলানোমা' চিকিৎসায় রাশিয়ার তৈরি প্রথম ব্যক্তিগতকৃত (Personalized) ভ্যাকসিনের পরীক্ষামূলক প্রয়োগে অত্যন্ত ইতিবাচক ফল পাওয়া গেছে বলে জানিয়েছেন দেশটির চিকিৎসাবিজ্ঞানীরা।
গ্যামালেয়া ন্যাশনাল রিসার্চ ইনস্টিটিউটের বৈজ্ঞানিক পরিচালক আলেকজান্ডার গিনজবার্গ জানিয়েছেন, ‘নিওনকোভ্যাক’ (Neoncovac) নামের এই ভ্যাকসিন গ্রহণকারী প্রথম রোগী বর্তমানে সুস্থ আছেন এবং তাঁর শরীরে ক্যানসার প্রতিরোধে প্রয়োজনীয় রোগপ্রতিরোধ ব্যবস্থা (Immune Response) সক্রিয় হয়ে উঠেছে।
প্রথম প্রয়োগ ও সাফল্য: গত এপ্রিলে হারজেন মস্কো অনকোলজি রিসার্চ ইনস্টিটিউটে মেলানোমা আক্রান্ত ৬০ বছর বয়সি এক ব্যক্তির দেহে প্রথমবারের মতো 'নিওনকোভ্যাক' প্রয়োগ করা হয়।
কার্যপদ্ধতি: রোগীর নিজস্ব টিউমার ও সুস্থ টিস্যুর জেনেটিক ডেটা বিশ্লেষণ করে সম্পূর্ণ কাস্টমাইজড এমআরএনএ (mRNA) ভ্যাকসিন তৈরি করা হয়।
বর্তমান অগ্রগতি: প্রথম রোগীর শরীরে টিউমার ও মেটাস্টেসিসের বিরুদ্ধে লড়াই করার যৌগ সক্রিয় হয়েছে। আগামী দেড় থেকে তিন মাসের মধ্যে আরও ১০ জন রোগীর শরীরে এটি প্রয়োগের কাজ চলছে।
অন্যান্য অগ্রগতি: কোলরেক্টাল ক্যানসারের জন্য তৈরি পেপটাইড ওষুধ ‘অনকোপেপ্টি’র প্রয়োগেও ভালো ফল মিলছে; পাশাপাশি অগ্ন্যাশয়, কিডনি ও ফুসফুসের ক্যানসার নিয়েও কাজ করছে গ্যামালেয়া ইনস্টিটিউট।
বৃহস্পতিবার (৩০ জুলাই) রুশ সংবাদ সংস্থা রিয়া নভোস্তি-কে দেওয়া সাক্ষাৎকারে আলেকজান্ডার গিনজবার্গ জানান, নিওনকোভ্যাক গ্রহণকারী রোগী বর্তমানে সম্পূর্ণ স্বাভাবিক বোধ করছেন। ভ্যাকসিনের কাজ হলো রোগীর নিজস্ব অনাক্রম্যতন্ত্র বা ইমিউন সিস্টেমকে ক্ষতিকারক টিউমার কোষগুলো শনাক্ত করে তা ধ্বংস করার প্রশিক্ষণ দেওয়া।
নিওনকোভ্যাক (Neoncovac) ভ্যাকসিন যেভাবে কাজ করে:
┌─────────────────────────────────────────────────────────────────────────┐
│ ১. নমুনা সংগ্রহ : রোগীর ক্যানসার আক্রান্ত টিউমার ও সুস্থ টিস্যু সংগ্রহ। │
│ ২. জেনোমিক এডিটিং : ডিএনএ/আরএনএ বিশ্লেষণ করে ক্যানসারের সুনির্দিষ্ট মিউটেশন চিহ্নিতকরণ।│
│ ৩. কাস্টম ভ্যাকসিন: রোগীর নির্দিষ্ট ইমিউন সিস্টেমের উপযুক্ত এমআরএনএ ডোজ তৈরি। │
│ ৪. প্রয়োগ ও লড়াই : শরীরের প্রতিরোধ কোষগুলো (T-cells) ক্যানসার ধ্বংস শুরু করে।│
└─────────────────────────────────────────────────────────────────────────┘
ন্যাশনাল মেডিকেল রিসার্চ সেন্টার অব রেডিওলজির প্রধান আন্ড্রে কাপরিন এই উদ্ভাবনকে ক্যানসার চিকিৎসায় এক মৌলিক বৈপ্লবিক পরিবর্তন হিসেবে অভিহিত করেছেন। কেমোথেরাপি বা প্রচলিত রেডিয়েশনের মতো সার্বিক পার্শ্বপ্রতিক্রিয়ার বদলে এই প্রযুক্তি কেবল নির্দিষ্ট ক্যানসার আক্রান্ত ক্ষতিকারক কোষগুলোকেই আক্রমণ করে।
রুশ স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় গত বছর এমআরএনএ-ভিত্তিক ভ্যাকসিন ‘নিওনকোভ্যাক’ এবং কোলরেক্টাল ক্যানসারের পেপটাইড ওষুধ ‘অনকোপেপ্টি’—এই দুটি পদ্ধতির অনুমোদন দেয়। বর্তমানে অগ্ন্যাশয় (Pancreatic), কিডনি এবং ফুসফুসের ক্যানসারের (Non-small cell lung cancer) ভ্যাকসিন উদ্ভাবনে কাজ চালিয়া যাচ্ছে গ্যামালেয়া ইনস্টিটিউট।
কেন পার্সোনালাইজড এমআরএনএ ভ্যাকসিন ক্যানসার চিকিৎসার ভবিষ্যৎ?
সুনির্দিষ্ট টার্গেটিং: প্রথাগত ক্যানসার চিকিৎসায় ভালো ও খারাপ উভয় কোষই ক্ষতিগ্রস্ত হয়। কিন্তু ব্যক্তিগতকৃত এমআরএনএ ভ্যাকসিন প্রযুক্তিতে কেবল রোগীর শরীরের সুনির্দিষ্ট ক্যানসার মিউটেশন লক্ষ্য করে প্রতিরোধ ব্যবস্থা তৈরি করা হয়।
পুনরাবৃত্তি রোধ: এই ভ্যাকসিনের মাধ্যমে ইমিউন সিস্টেম মেমোরি গঠন করে, ফলে ভবিষ্যতে শরীরে পুনরায় ক্যানসার কোষের বিস্তার (Metastasis) বা ফিরে আসার ঝুঁকি উল্লেখযোগ্যভাবে কমে যায়।
প্রতিবেদক:বিডিএস বুলবুল আহমেদ
আরও খবর জানতে ভিজিট করুন: বাংলাদেশ প্রতিদিন
| ফজর | 3:50 AM ভোর |
|---|---|
| যোহর | 12:04 দুপুর |
| আছর | 4:44 PM বিকাল |
| মাগরিব | 6:50 PM সন্ধ্যা |
| এশা | 8:17 PM রাত |
| জুম্মা | 1.30 pm দুপুর |