বিশেষ কূটনৈতিক ও মানবাধিকার অপরাধ বিভাগ
২৯ জুলাই, ২০২৬
ভারতের অভ্যন্তরীণ নাগরিকত্ব নীতি ও আন্তর্জাতিক কনস্যুলার প্রটোকলকে চরম বুড়ো আঙুল দেখিয়ে ৫০ বছর বয়সি এক জন্মসূত্রজাত বৈধ ভারতীয় নারীকে ‘বাংলাদেশি অনুপ্রবেশকারী’ ট্যাগ দিয়ে সীমান্ত পেরিয়ে পুশইন করার নজিরবিহীন খবর পাওয়া গেছে।
কেবলমাত্র বাংলা ভাষায় কথা বলা এবং মুসলিম ধর্মীয় পরিচয় থাকার কারণে কোনো প্রকার বিচার বিভাগীয় সুযোগ না দিয়ে তড়িঘড়ি করে চালানো এই বেআইনি পুশব্যাকের সুরাহা পেতে এবং ভুক্তভোগী নারীকে অবিলম্বে রাষ্ট্রীয় খরচে স্বদেশে ফিরিয়ে আনতে কলকাতা হাইকোর্টের প্রধান বিচারপতির ডিভিশন বেঞ্চে জনস্বার্থে মামলা (PIL) দায়ের করা হয়েছে।
ভুক্তভোগীর ব্যাকগ্রাউন্ড: সাইদা ফকির (৫০), পশ্চিমবঙ্গের উত্তর চব্বিশ পরগনার স্বরূপনগর ব্লকের স্থায়ী বাসিন্দা; দুই দশক ধরে পরিযায়ী শ্রমিক হিসেবে মুম্বাইতে বসবাস করছিলেন।
আইনি প্রক্রিয়ার ব্যাত্যয়: আটকের পর কোনো জাজমেন্টাল ট্রাইব্যুনাল বা কনস্যুলার এক্সেস ছাড়াই মাত্র ৩ দিনের মধ্যে ৩,০০০ কিমি দূরে আসাম সীমান্তে নিয়ে গিয়ে জোরপূর্বক পুশব্যাক করা হয়।
হাইকোর্টে নথি উপস্থাপন: ভোটার কার্ড, প্যান কার্ড, জন্ম নিবন্ধন সনদ ও পৈতৃক ভিটার নথি পেশ করে কলকাতা হাইকোর্টে ভারতীয় নাগরিকত্ব প্রমাণ করেছে ‘মাসুম’।
বর্তমান ভূ-অবস্থান: সাইদা ফকির বর্তমানে বাংলাদেশের সাতক্ষীরা জেলায় আশ্রিত অবস্থায় আছেন এবং ভারতে ফিরতে কাতর আকুতি জানিয়েছেন।
মুম্বাইয়ের লোকাল মার্কেট থেকে আটক হওয়া থেকে শুরু করে আসাম সীমান্ত দিয়ে অবৈধভাবে অন্য রাষ্ট্রে ঠেলে দেওয়ার পুরো প্রক্রিয়াটিতে ভারতের সংবিধানের ২১ অনুচ্ছেদ (জীবন ও ব্যক্তিগত স্বাধীনতার অধিকার) সরাসরি লঙ্ঘন করা হয়েছে বলে দাবি করা হয়েছে।
ঘটনার কালানুক্রমিক ও ভৌগোলিক রুট (জুলাই ২০২৬):
┌─────────────────────────────────────────────────────────────────────────┐
│ • ১৯ জুলাই : মুম্বাইয়ে বাজার থেকে আটক; বৈধ নথি দেখানোর সুযোগ প্রত্যাখ্যান। │
│ • ২০ জুলাই : পরিবার থেকে বিচ্ছিন্ন করে ৩,০০০ কিমি দূরের আসাম হোল্ডিং সেন্টারে স্থানান্তর।│
│ • ২৩ জুলাই : কোনো ডিপোর্টেশন প্রসিডিউর ছাড়া আসাম সীমান্ত দিয়ে বাংলাদেশে পুশইন।│
│ • ২৮ জুলাই : প্রধান বিচারপতির ডিভিশন বেঞ্চে নথিপত্রসহ রিট মামলা পেশ। │
└─────────────────────────────────────────────────────────────────────────┘
আন্তর্জাতিক নিয়ম এবং দুই দেশের চুক্তি অনুযায়ী, কোনো নাগরিককে বহিরাগত সন্দেহ হলে তার পরিচয় নিশ্চিত হতে সংশ্লিষ্ট কনস্যুলেটের সঙ্গে যোগাযোগ করা এবং ‘ফরেনার্স ট্রাইব্যুনাল’ (Foreigners Tribunal)-এ বিচার প্রক্রিয়া চালানো বাধ্যতামূলক।
মানবাধিকার সংস্থা ‘মাসুম’ (MASUM) আদালতের সামনে যে যুক্তি উপস্থাপন করেছে:
আইনজীবীদের জোরালো যুক্তি:
"এটি কোনো বিচ্ছিন্ন ভুল নয়, এটি সুস্পষ্ট ‘রেসিয়াল অ্যান্ড লিঙ্গুইস্টিক প্রফাইলিং’ (Racial & Linguistic Profiling)। সাইদা ফকিরের জন্ম সনদ, ভোটার আইডি ও ভূমির স্বত্ব থাকার পরও তাকে পুলিশি ট্রানজিট দিয়ে আসাম সীমান্ত দিয়ে বিএসএফ (BSF)-এর মাধ্যমে ভিনদেশে পুশইন করানো ভারতীয় রাষ্ট্রীয় ব্যবস্থার গভীর প্রশাসনিক পচনের বহিঃপ্রকাশ।"
📄 আদালতে জমাদানকৃত ভারতীয় নাগরিকত্বের অখণ্ড প্রমাণসমূহ:
┌─────────────────────────────────────────────────────────────────────────┐
│ ১. ভারতীয় নির্বাচন কমিশনের ভোটার পরিচয়পত্র (Voter ID) │
│ ২. আয়কর বিভাগের প্যান কার্ড (PAN Card) │
│ ৩. পশ্চিমবঙ্গ সরকার স্বীকৃত জন্ম নিবন্ধন ও ডিজিটাল রেশন কার্ড │
│ ৪. গোবিন্দপুর গ্রামে পৈতৃক জমির দলিলের সার্টিফাইড কপি │
└─────────────────────────────────────────────────────────────────────────┘
┌─────────────────────────────────────────────────────────────────────────┐
│ বাংলাভাষীদের ওপর টার্গেটেড ভিকটিমাইজেশন │
├─────────────────────────────────────────────────────────────────────────┤
│ • অভ্যন্তরীণ পরিযায়ী শ্রমিকদের অনিরাপত্তা: ভারতে হিন্দিভাষী ব্যতীত অন্যান্য │
│ অঞ্চলের (বিশেষ করে পশ্চিমবঙ্গ ও উত্তর-পূর্ব) শ্রমজীবী বাংলাভাষী মানুষদের │
│ পরপর ‘বাংলাদেশি’ চিহ্নিত করার প্রবণতা সাংবিধানিক নিরাপত্তার অভাব নির্দেশ করে।│
│ • কূটনৈতিক সংকট: কনস্যুলার যাচাইকরণ প্রক্রিয়া এড়িয়ে পুশইন করার এ চর্চা │
│ প্রতিবেশী দুই দেশের সীমান্ত ব্যবস্থাপনা ও সুরক্ষায় দীর্ঘমেয়াদী সংঘাত তৈরি করছে। │
└─────────────────────────────────────────────────────────────────────────প্রতিবেদক:বিডিএস বুলবুল আহমেদ
আরও খবর জানতে ভিজিট করুন: বাংলাদেশ প্রতিদিন
| ফজর | 3:50 AM ভোর |
|---|---|
| যোহর | 12:04 দুপুর |
| আছর | 4:44 PM বিকাল |
| মাগরিব | 6:50 PM সন্ধ্যা |
| এশা | 8:17 PM রাত |
| জুম্মা | 1.30 pm দুপুর |