রাজনীতি ডেস্ক | ঢাকা
সর্বশেষ আপডেট: ১৭ জুলাই, ২০২৬
জুলাই বিপ্লবের বীর শহীদদের স্মরণে এবং ফ্যাসিবাদের বিরুদ্ধে রাজপথে আন্দোলনের ধারাবাহিকতায় রাজধানীতে এক ব্যতিক্রমী প্রতীকী কফিন মিছিল করেছে আমার বাংলাদেশ পার্টি (এবি পার্টি)।
শুক্রবার (১৭ জুলাই, ২০২৬) বিকাল ৪টায় এবি পার্টির কেন্দ্রীয় কর্মসূচির অংশ হিসেবে বিজয়নগর থেকে এই মিছিলে শুরু হয়। মিছিলটি কাকরাইল মোড়, নাইটিংগেল মোড় ও পল্টন মোড় এলাকা প্রদক্ষিণ করে বিজয়-৭১ চত্বরে এসে শেষ হয়। মিছিলে অংশ নেওয়া নেতাকর্মীরা জুলাই গণঅভ্যুত্থানের শহীদদের স্মরণে শোক, শ্রদ্ধা এবং ফ্যাসিবাদবিরোধী বিভিন্ন স্লোগান দেন।
কফিন মিছিল শেষে আয়োজিত সমাবেশে এবি পার্টির চেয়ারম্যান মজিবুর রহমান মঞ্জু দেশের বর্তমান রাজনৈতিক সমীকরণ ও জুলাইয়ের আকাঙ্ক্ষা নিয়ে অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ বক্তব্য দেন। তিনি বলেন:
“অনেকে প্রশ্ন করেন জুলাই আন্দোলন আমাদের কী দিয়েছে? এই প্রশ্ন বারবার আসবে এবং আমাদের উত্তর মেলাতে হবে। দল হিসেবে বিএনপি ও জামায়াত যা যা চেয়েছিল, গত দুবছরে সব পেয়েছে। বেগম খালেদা জিয়ার সম্পূর্ণ মুক্তি, তারেক রহমানের স্বদেশে প্রত্যাবর্তন, লাখ লাখ নেতাকর্মীর মামলা থেকে মুক্তি, জামায়াত-শিবিরের ওপর থেকে নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার, স্বাভাবিক রাজনীতির অধিকার ফিরে পাওয়া এবং সর্বশেষ নির্বাচনে বিএনপি ও জামায়াতের ঐতিহাসিক ভালো ফলাফল (যার ফলে এক দল ক্ষমতায় এবং অন্য দল প্রধান বিরোধী দল হয়েছে) সবই অর্জিত হয়েছে। আবার জুলাইয়ে যারা সামনের সারিতে নেতৃত্ব দিয়েছে, তাদের বড় অংশ নতুন রাজনৈতিক দল গঠন করে আজ সংসদে দ্বিতীয় বৃহত্তম বিরোধী দল হয়েছে।”
তিনি স্পষ্ট করে বলেন, এখন জুলাইয়ের মূল আকাঙ্ক্ষা ও শহীদদের রক্তের দাবি বাস্তবায়নের একক দায়িত্ব এই তিন প্রধান দলের ওপর অর্পিত হয়েছে। শহীদদের রক্তের মূল দাবিই হলো—গণতান্ত্রিক সংস্কৃতির পথে বাংলাদেশকে নতুনভাবে গড়ে তোলা। কোনো দল বা গোষ্ঠী যেন ক্ষমতার মোহে দেশকে নিজের বাপের সম্পত্তি এবং জনগণকে গোলাম ভাবতে শুরু না করে। যদি কেউ তা করে, তবে জুলাইয়ের স্লোগান—‘লাখো শহীদের রক্তে কেনা দেশটা কারও বাপের না’—আমাদের আজীবন পথ দেখাবে।
সমাবেশে এবি পার্টির সাধারণ সম্পাদক ব্যারিস্টার আসাদুজ্জামান ফুয়াদ ২০২৪ সালের জুলাই গণঅভ্যুত্থানের শহীদসহ দেশের সব শহীদের প্রতি গভীর শ্রদ্ধা জানিয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করেন। তিনি বলেন, “দুটি বছর পেরিয়ে গেলেও এখনও পর্যন্ত জুলাইয়ের শহীদদের একটি নিখুঁত ও চূড়ান্ত তালিকা প্রকাশ না হওয়া অত্যন্ত দুঃখজনক ও লজ্জার। ১৯৭১ সালের অভিজ্ঞতা আমাদের শিখিয়েছে যে, প্রকৃত শহীদদের রাষ্ট্রীয় স্বীকৃতি নিশ্চিত করা না হলে পরবর্তী সময়ে ইতিহাস বিকৃত হওয়ার সুযোগ তৈরি হয়।”
📋 এবি পার্টির মূল দাবি ও রূপরেখা:
১. স্বাধীন কমিটি: অবিলম্বে একটি নিরপেক্ষ ও স্বাধীন কমিটির মাধ্যমে প্রকৃত শহীদদের তালিকা চূড়ান্ত করা এবং তালিকা থেকে সব ভুয়া নাম বাদ দেওয়া।
২. পুনর্বাসন: শহীদ পরিবারগুলোর টেকসই পুনর্বাসন নিশ্চিত করা এবং এই কাজে 'জুলাই স্মৃতি ফাউন্ডেশন'-কে প্রাতিষ্ঠানিকভাবে সম্পৃক্ত করা।
৩. রাষ্ট্রীয় পৃষ্ঠপোষকতা: জুলাই গণঅভ্যুত্থানের ইতিহাস ও আত্মত্যাগকে নতুন প্রজন্মের কাছে পৌঁছে দিতে নাটক, চলচ্চিত্র ও সাংস্কৃতিক কর্মকাণ্ডে রাষ্ট্রীয় অনুদান বাড়ানো।
ব্যারিস্টার ফুয়াদ আরও মনে করিয়ে দেন, ঐকমত্য কমিশনে সেই সময় খোদ বিএনপি নেতারা বলেছিলেন যে রাষ্ট্রীয় সংস্কারের মূল দায়িত্ব সংসদের। এখন তারা ক্ষমতায় ও সংসদে আছে, তাই সেই দায়িত্ব বাস্তবায়নের প্রকৃত সময় এসেছে। পাশাপাশি তিনি পরাজিত রাজনৈতিক শক্তিকে অতীতের ভুলের জন্য অনুতপ্ত হয়ে অনতিবিলম্বে জনগণের কাছে ক্ষমা চাওয়ার আহ্বান জানান।
সমাবেশে দলের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক এবিএম খালিদ হাসানও বক্তব্য দেন। এ সময় আরও উপস্থিত ছিলেন— এবি পার্টির যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক আবদুল্লাহ আল মামুন রানা, মো. আলতাফ হোসাইন, শাহাদাতুল্লাহ টুটুল, ঢাকা মহানগর দক্ষিণের আহ্বায়ক আব্দুল হালিম খোকন, ঢাকা মহানগর উত্তরের আহ্বায়ক সেলিম খান, স্বেচ্ছাসেবক পার্টির আহ্বায়ক কেফায়েত হোসাইন তানভীর, ছাত্রপক্ষের সভাপতি মোহাম্মদ প্রিন্স, ত্রাণ ও পুনর্বাসনবিষয়ক সম্পাদক সুলতানা রাজিয়া, কর্মসংস্থানবিষয়ক সম্পাদক সফিউল বাশার, সহ-সংগঠনিক সম্পাদক (ঢাকা) শাজাহান ব্যাপারী এবং ছাত্রপক্ষের সাধারণ সম্পাদক রাফিউর রহমান ফাত্তাহ প্রমুখ।
প্রতিবেদক:বিডিএস বুলবুল আহমেদ
আরও খবর জানতে ভিজিট করুন: বাংলাদেশ প্রতিদিন
| ফজর | 3:50 AM ভোর |
|---|---|
| যোহর | 12:04 দুপুর |
| আছর | 4:44 PM বিকাল |
| মাগরিব | 6:50 PM সন্ধ্যা |
| এশা | 8:17 PM রাত |
| জুম্মা | 1.30 pm দুপুর |