আন্তর্জাতিক ডেস্ক | আল জাজিরা ও রয়টার্স
সর্বশেষ আপডেট: ১৩ জুলাই, ২০২৬
কৌশলগতভাবে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ হরমুজ প্রণালিকে (Strait of Hormuz) কেন্দ্র করে পারস্য উপসাগরীয় অঞ্চলে যুক্তরাষ্ট্র এবং ইরানের মধ্যে ভয়াবহ রূপ নিয়েছে সামরিক সংঘাত। রোববার রাতে দুই দেশের মধ্যে নজিরবিহীন পাল্টাপাল্টি ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলার ঘটনা ঘটেছে। এই রক্তক্ষয়ী সংঘাতের ফলে গত কয়েক মাস ধরে চলা ওমান ও ইসলামাবাদের সব কূটনৈতিক মধ্যস্থতা এবং শান্তি প্রচেষ্টা পুরোপুরি ‘ব্যর্থ’ হয়ে গেছে বলে ক্ষোভ প্রকাশ করেছে তেহরান। দুই পরাশক্তির এই মুখোমুখি সংঘর্ষে মধ্যপ্রাচ্যের ভূরাজনীতিতে চরম যুদ্ধাবস্থা তৈরি হয়েছে।
মার্কিন সেন্ট্রাল কমান্ড (CENTCOM) দাবি করেছে, পারস্য উপসাগরের সরু প্রবেশপথ দিয়ে যাওয়ার সময় একটি আন্তর্জাতিক বাণিজ্যিক জাহাজকে ইরানের ইসলামি বিপ্লবী গার্ড বাহিনী (IRGC) নিশানা করার পর তারা এই পাল্টা আক্রমণ শুরু করে। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প মার্কিন সংবাদমাধ্যম এনবিসির ‘মিট দ্য প্রেস’ অনুষ্ঠানে সরাসরি অংশ নিয়ে বলেন, "গত রাতে আমরা তাদের ওপর ভয়াবহ বোমাবর্ষণ করেছি।"
সেন্টকমের তথ্য অনুযায়ী, এবারের হামলাটি ছিল গত সপ্তাহের আগের দুই দফার চেয়ে অনেক বেশি শক্তিশালী। মার্কিন সামরিক বাহিনী ইরানের সামরিক বিমান প্রতিরক্ষাব্যবস্থা, উপকূলীয় রাডার সাইট, ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন ঘাঁটি এবং ছোট নৌকাসহ প্রায় ১৪০টি লক্ষ্যবস্তুতে ডজন ডজন নিখুঁত আঘাত হেনেছে। এই অভিযানে যুক্তরাষ্ট্র প্রথমবারের মতো আধুনিক ফাইটার বিমান, নৌবাহিনীর যুদ্ধজাহাজ, একমুখী আত্মঘাতী ড্রোন এবং একমুখী আত্মঘাতী সামুদ্রিক ড্রোন ব্যবহার করেছে।
মার্কিন আগ্রাসনের জবাবে বিন্দুমাত্র পিছু হঠেনি ইরানের ইসলামি বিপ্লবী গার্ড বাহিনী (আইআরজিসি)। তারা ওমান, বাহরাইন, কুয়েত, কাতার এবং জর্ডানে অবস্থিত মার্কিন সামরিক ঘাঁটিগুলোকে লক্ষ্য করে ঝাঁকে ঝাঁকে ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র নিক্ষেপ করেছে।
ইরানের রাষ্ট্রীয় বার্তা সংস্থার তথ্য অনুযায়ী, আইআরজিসি’র মহাকাশ বাহিনী বাহরাইনে একটি মার্কিন ড্রোনবহর সম্পূর্ণ ধ্বংস করার দাবি করেছে। এ ছাড়া তাদের ড্রোহ হামলা মার্কিন হেলিকপ্টার রক্ষণাবেক্ষণকেন্দ্র, একটি পি-৮ বিমান রাখার হ্যাঙ্গার এবং মার্কিন সামরিক ড্রোন কমান্ড-অ্যান্ড-কন্ট্রোল সেন্টারে সরাসরি আঘাত হেনেছে। কুয়েতের আলী সালেম এবং আহমাদ আল-জাবের ঘাঁটিতে ইরানের ‘বিধ্বংসী ড্রোন’ হামলায় মার্কিন প্রতিরক্ষা ও ক্ষেপণাস্ত্র ব্যবস্থা ব্যাপক ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে বলে দাবি করেছে তেহরান।
মার্কিন বিমান ও ড্রোন বাহিনী প্রধানত ইরানের ৩টি সীমান্তবর্তী প্রদেশকে লক্ষ্য করে এই বিমান হামলা চালায়। আল জাজিরার প্রতিবেদনে নিশ্চিত করা হয়েছে, ওমিদিয়েহ, মাহশাহর, বেহবাহান, দেজফুল এবং আহভাজের আশপাশের এলাকায় তীব্র বিস্ফোরণ ঘটেছে।
খুজেস্তান প্রদেশ: মাহশাহর এলাকায় একটি কৃষি পানি পাম্পিং স্টেশনে ক্ষেপণাস্ত্রের আঘাতে এক নিরাপত্তারক্ষী নিহত এবং চারজন আহত হয়েছেন।
হরমোজগান প্রদেশ: জাস্ক, সিরিক, কেশম দ্বীপ এবং বন্দর আব্বাসের রাডার সাইট ও উপকূলীয় সামরিক স্থাপনায় বিস্ফোরণ ঘটেছে।
সিস্তান-বেলুচিস্তান ও মারকাজি প্রদেশ: চাবাহারের কাছাকাছি এলাকা এবং খোন্দাব শহরের পানির শোধনাগারের বাইরে বিমান হামলা চালানো হয়েছে।
| আক্রমণকারী পক্ষ | আক্রান্ত প্রধান লক্ষ্যবস্তুসমূহ | ব্যবহৃত সামরিক প্রযুক্তি |
| যুক্তরাষ্ট্র (CENTCOM) | খুজেস্তান, হরমোজগান (বন্দর আব্বাস, জাস্ক) এবং সিস্তান-বেলুচিস্তানের রাডার ও এয়ার ডিফেন্স। | ফাইটার জেট, নৌবাহিনীর যুদ্ধজাহাজ, একমুখী আত্মঘাতী ড্রোন ও সামুদ্রিক ড্রোন। |
| ইরান (IRGC) | বাহরাইন, কুয়েত, কাতার, জর্ডান ও ওমানে অবস্থিত মার্কিন সামরিক ঘাঁটি ও ড্রোন কমান্ড সেন্টার। | আইআরজিসি মহাকাশ বাহিনীর বিধ্বংসী ড্রোন ও ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র। |
এই ভয়াবহ হামলার পর ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এক কড়া বিবৃতিতে মার্কিন প্রশাসনকে দায়ী করে বলেছে:
"হরমুজ প্রণালিতে আন্তর্জাতিক বাণিজ্যিক জাহাজ চলাচলের নিরাপত্তা ও শৃঙ্খলা বজায় রাখার জন্য ইরান যে অভ্যন্তরীণ প্রক্রিয়া শুরু করেছিল, মার্কিন প্রশাসন সেখানে প্রকাশ্য হস্তক্ষেপ করে আবারও নিরাপত্তাহীনতা ফিরিয়ে এনেছে। যুক্তরাষ্ট্রের এই অবিমৃষ্যকারিতা পশ্চিম এশিয়া অঞ্চলে শান্তি প্রতিষ্ঠার গত কয়েক মাসের সব প্রচেষ্টাকে এক রাতে ধূলিসাৎ করে দিল।"
বিশ্লেষকরা মনে করছেন, বিশ্ব বাণিজ্যের এক-পঞ্চমাংশ তেল ও গ্যাস পরিবহনের মূল রুট ‘হরমুজ প্রণালি’ নিয়ে দুই পক্ষের এই অনড় অবস্থানের কারণে যেকোনো মুহূর্তে পূর্ণাঙ্গ যুদ্ধ শুরু হয়ে যেতে পারে।
প্রতিবেদক:বিডিএস বুলবুল আহমেদ
আরও খবর জানতে ভিজিট করুন: বাংলাদেশ প্রতিদিন
| ফজর | 3:50 AM ভোর |
|---|---|
| যোহর | 12:04 দুপুর |
| আছর | 4:44 PM বিকাল |
| মাগরিব | 6:50 PM সন্ধ্যা |
| এশা | 8:17 PM রাত |
| জুম্মা | 1.30 pm দুপুর |