ক্রীড়া প্রতিবেদক | বাংলাদেশ প্রতিদিন
প্রকাশিত: ১২ জুলাই, ২০২৬
ফুটবলকে কেন ‘আনপ্রেডিক্টেবল’ এবং নিষ্ঠুর খেলা বলা হয়, তার এক চরম ও বাস্তব উদাহরণ দেখল ২০২৬ বিশ্বকাপের কোয়ার্টার ফাইনাল। ইংল্যান্ডের কাছে ২-১ গোলে হেরে নরওয়ের বিদায়ের পর এখন ফুটবল বিশ্বে আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে ম্যাচের প্রথমার্ধের শেষ মুহূর্তের একটি বিশেষ ঘটনা। নরওয়ের ফরোয়ার্ড আলেকজান্ডার সোরলথ (Alexander Sørloth) যদি সেই মুহূর্তে স্বার্থপরের মতো নিজে শট না নিয়ে সতীর্থ ও দলের প্রধান গোলমেশিন আরলিং হালান্ডকে (Erling Haaland) বলটি পাস দিতেন, তবে ম্যাচের গল্পটা আজ অন্যরকম হতে পারত। সোরলথের সেই একটি ভুল সিদ্ধান্তই পুরো ম্যাচের মোড় ঘুরিয়ে দিয়েছে বলে একমত হয়েছেন ফুটবল বিশ্লেষকরা।
ম্যাচের প্রথমার্ধের একদম শেষ মুহূর্তের খেলা চলছিল তখন। ১-০ ব্যবধানে দুর্দান্তভাবে এগিয়ে থেকে চালকের আসনে ছিল নরওয়ে। ঠিক এমন সময়ে এক অবিশ্বাস্য গতিময় কাউন্টার অ্যাটাকে (পাল্টা আক্রমণ) ওঠে নরওয়েজিয়ানরা। ইংল্যান্ডের রক্ষণভাগ তখন সম্পূর্ণ অরক্ষিত, সামনে কেবল একমাত্র ডিফেন্ডার জন স্টোনস। সোরলথ ও হালান্ড গতি বাড়িয়ে ২ বনাম ১ (2v1) পরিস্থিতি তৈরি করে ফেলেছিলেন।
সেই মুহূর্তে সোরলথের বাঁ-পাশে একদম ফাঁকায় দাঁড়িয়ে ছিলেন হালান্ড। তাঁকে আলতো করে পাস বাড়িয়ে দিলেই ব্যবধান ২-০ করার নিশ্চিত সুযোগ ছিল। কিন্তু সবাইকে চমকে দিয়ে সোরলথ বল পাস না দিয়ে নিজেই ড্রিবল করে শট নেওয়ার চেষ্টা করেন। আর তাঁর এই অতিরিক্ত ছোঁয়া ও দ্বিধাদ্বন্দ্বের সুযোগে চোখের পলকে ইংল্যান্ডের আরও পাঁচজন খেলোয়াড় নিচে নেমে এসে রক্ষণভাগ মজবুত করে ফেলেন। ফলশ্রুতিতে, সোরলথ যে দুর্বল শটটি নেন, তা রুখতে ইংল্যান্ডের গোলরক্ষক জর্ডান পিকফোর্ডকে কোনো কষ্টই করতে হয়নি।
নিশ্চিত গোল ও ২-০ তে এগিয়ে যাওয়ার সুবর্ণ সুযোগ হাতছাড়া হওয়ার পর মাঠের ভেতরেই সোরলথের ওপর চরম হতাশা ও ক্ষোভ প্রকাশ করতে দেখা যায় আরলিং হালান্ডকে।
ম্যাচের এই নাটকীয় মুহূর্তটির ভিডিও ক্লিপ খেলা শেষ হতেই সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে (সাবেক টুইটার) ও ফেসবুকে দাবানলের মতো ছড়িয়ে পড়েছে। বিশ্বজুড়ে ফুটবল সমর্থক ও বোদ্ধারা এটিকে ২০২৬ বিশ্বকাপের ‘সবচেয়ে বড় ভুল’ (The Biggest Blunder of World Cup) হিসেবে আখ্যা দিচ্ছেন। বিশ্লেষকদের মতে, এই সুযোগটি কাজে লাগাতে পারলে নরওয়ে ম্যাচের প্রথমার্ধেই ২-০ ব্যবধানে লিড নিতে পারত, যা থ্রি-লায়ন্সদের (ইংল্যান্ড) জন্য মানসিকভাবে ম্যাচ থেকে ছিটকে যাওয়ার শামিল ছিল।
কিন্তু ফুটবলের চিরন্তন নিয়ম অনুসারেই, সুযোগ নষ্টের খেসারত দিতে হয় চড়া মূল্যে। এই ঐতিহাসিক সুযোগ মিস হওয়ার ঠিক কয়েক মিনিটের মাথায় জুড বেলিংহ্যামের (Jude Bellingham) জাদুকরী গোলে ম্যাচে সমতা ফেরায় ইংল্যান্ড। ১-১ সমতায় ফেরার পর মানসিকভাবে চাঙা হয়ে দ্বিতীয়ার্ধে ম্যাচের পুরো নিয়ন্ত্রণ নিজেদের হাতে নিয়ে নেয় ইংলিশরা এবং শেষ পর্যন্ত সেমিফাইনালের টিকিট নিশ্চিত করে মাঠ ছাড়ে।
ম্যাচ শেষে প্রতিক্রিয়া জানাতে গিয়ে ইংল্যান্ডের প্রধান কোচ টমাস টুখেলও (Thomas Tuchel) ভাগ্যের সহায়তার কথা অকপটে স্বীকার করেন। তিনি বলেন, “আমরা জয় পেলেও স্বীকার করতে দ্বিধা নেই যে আজ আমাদের দল ভাগ্যের দারুণ ছোঁয়া পেয়েছে।” তবে ভাগ্যের পাশাপাশি হালান্ডকে বল না দিয়ে কার্যত সোরলথই যে নরওয়েকে হারের মুখে ঠেলে দিয়েছেন, তা নিয়ে এখন চলছে চুলচেরা বিশ্লেষণ।
হালান্ড বনাম সোরলথ বিতর্ক: ২ বনাম ১ পরিস্থিতিতে হালান্ডকে পাস না দিয়ে নিজেই শট নিয়ে সুযোগ নষ্ট করেন সোরলথ।
সোশ্যালে নিন্দার ঝড়: নিশ্চিত ২-০ ব্যবধানে এগিয়ে যাওয়ার সুযোগ হারানোকে চলতি বিশ্বকাপের ‘সবচেয়ে বড় ভুল’ বলছেন ভক্তরা।
বেলিংহ্যামের বাজিমাত: সুযোগ নষ্টের কয়েক মিনিটের মধ্যেই ইংল্যান্ডকে সমতায় ফেরান রিয়াল মাদ্রিদ তারকা জুড বেলিংহ্যাম।
টুখেলের ভাগ্য স্বীকার: ম্যাচ শেষে ইংলিশ বস টমাস টুখেল বলেন, ‘আমরা জেনুইনলি ভাগ্যের সহায়তা পেয়েছি’।
রেফারি নিয়ে হালান্ডের তোপ: বিদায়ের পর আরলিং হালান্ড কিছুটা ক্ষোভ উগড়ে দিয়ে বলেন, ‘আজকের ম্যাচে রেফারি বেশ ভালো খেলেছে’।
খেলাধুলা ডেস্ক | ফুটবল বিশ্বকাপ ২০২৬ কোয়ার্টার ফাইনাল, আরলিং হালান্ড বনাম আলেকজান্ডার সোরলথ, ইংল্যান্ড বনাম নরওয়ে ম্যাচ হাইলাইটস, জুড বেলিংহ্যাম গোল ও টমাস টুখেল সাক্ষাৎকার সেল
সোরলথের এই মারাত্মক ভুলের পর নরওয়ের ড্রেসিংরুমে হালান্ডের সাথে কোনো অশান্তি বা হাতাহাতির ঘটনা ঘটেছে কিনা, ইংল্যান্ডের বিতর্কিত গোল নিয়ে ফিফা আনুষ্ঠানিকভাবে কী ব্যাখ্যা দিল এবং ২০২৬ ফিফা বিশ্বকাপের সেমিফাইনালের সব লাইভ আপডেট ও প্রতি মুহূর্তের ব্রেকিং নিউজের দ্রুত আপডেটের জন্য নিয়মিত ভিজিট করুন: বাংলাদেশ প্রতিদিন
| ফজর | 3:50 AM ভোর |
|---|---|
| যোহর | 12:04 দুপুর |
| আছর | 4:44 PM বিকাল |
| মাগরিব | 6:50 PM সন্ধ্যা |
| এশা | 8:17 PM রাত |
| জুম্মা | 1.30 pm দুপুর |