চট্টগ্রাম ব্যুরো | বাংলাদেশ প্রতিদিন
প্রকাশিত: ১০ জুলাই, ২০২৬
জাতীয় সংসদের বিরোধীদলীয় নেতা ও বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান বলেছেন, “আমি কোনো আনুষ্ঠানিক পোশাক না পরে, স্রেফ একটা সাধারণ গেঞ্জি পরে আপনাদের সামনে হাজির হয়েছি। এর মানে হচ্ছে আমি আপনাদের মেহমান বা অতিথি না; আজকে থেকে আমিও বাঁশখালীর একজন সাধারণ মানুষ। আপনারা কি রাজি আছেন? বাঁশখালী এলাকার নাগরিকত্ব দেবেন আমারে? আলহামদুলিল্লাহ্, আপনাদের সবাইকে ধন্যবাদ।”
আজ শুক্রবার (১০ জুলাই) চট্টগ্রামের তীব্র বন্যা ও পাহাড়ি ঢলে প্লাবিত বাঁশখালী এবং সাতকানিয়া উপজেলার বিভিন্ন বন্যা দুর্গত এলাকা সরজমিনে পরিদর্শনে গিয়ে এক পথসভায় আবেগঘন কণ্ঠে তিনি এসব কথা বলেন।
ডা. শফিকুর রহমান বলেন, “আসলে এটা আমাদের জাতীয় দুঃখ। দেশ স্বাধীনের আজকে হয়ে গেছে পঞ্চাশ বছরের ঊর্ধ্বে, প্রায় ৫৫ বছর। অথচ একটু মাঝারি বা ভারী বৃষ্টি নামলেই আমাদের সাধারণ মানুষের ঘর-বাড়িতে পানি ঢুকে পড়ে, খেটে খাওয়া মানুষের আয়-রোজগার বন্ধ হয়ে যায়। মাছের ঘের ও পুকুর সব ভেসে যায়; খেতের সোনালি ফসল নষ্ট হয়। একেকটা বন্যা বাংলাদেশের একেকটা দীর্ঘস্থায়ী দুঃখের নাম। আর চট্টগ্রামের কিছু এলাকায় প্রায় প্রতিবছর এই একই দুর্যোগ লেগে আছে, এর কোনো স্থায়ী সমাধান নাই। কেন থাকবে না? সমস্যা যেখানে থাকে, সঠিক পরিকল্পনা থাকলে সমাধানও আছে সেখানে।”
সাবেক প্রধানমন্ত্রীদের আমলের তীব্র সমালোচনা করে জামায়াতের আমির বলেন, যদি সত্যিকার অর্থে জনগণের প্রতি দায়বদ্ধ ও দায়িত্বশীল দেশপ্রেমিক কোনো সরকার দেশ চালায়, তাহলে জনগণের কোনো সমস্যাই এত দীর্ঘস্থায়ী হওয়ার কথা নয়। কিন্ত আমাদের দেশে তো বছরের পর বছর এই অবহেলা লেগেই আছে। তার মানে একটাই— অতীতে যারা বিভিন্ন সময়ে দেশ পরিচালনায় গিয়েছিলেন, তারা সাধারণ জনগণের কথা চিন্তা না করে কেবল নিজেদের পকেট ভারী করার কথা চিন্তা করেছেন।
তিনি তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, জনগণের কষ্টার্জিত সম্পদ চুরি করেছে ওরা, লুণ্ঠন করেছে ওরা। দেশের হাজার হাজার কোটি টাকার সম্পদ বিদেশে পাচার করেছে ওরা। যারা সংকটে মানুষের পাশে না দাঁড়িয়ে লুটপাট করে, এরা দেশের দুশমন, জাতির দুশমন।
বন্যা দুর্গত এলাকা পরিদর্শনের সময় জামায়াতের আমির চট্টগ্রাম মহানগরীতে অতিবৃষ্টিতে জলাবদ্ধতায় আক্রান্ত এবং আকস্মিক পাহাড় ধসে ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারের খোঁজখবর নেন। এছাড়া চলমান দুর্যোগে চট্টগ্রাম বিভাগে পাহাড় ধসে ও পানিতে ভেসে গিয়ে নিহতদের প্রত্যেক পরিবারকে জামায়াতের পক্ষ থেকে ৫০ হাজার টাকা করে জরুরি আর্থিক সহযোগিতা প্রদানের ঘোষণা দেন তিনি।
এর আগে, শুক্রবার সকালে জামায়াতের আমির ডা. শফিকুর রহমান চট্টগ্রামের শাহ আমানত আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে এসে পৌঁছালে স্থানীয় নেতাকর্মীরা তাঁকে স্বাগত জানান। বিমানবন্দর থেকে তিনি সরাসরি বাঁশখালী উপজেলার কালিপুর ইউনিয়নে বন্যাকবলিত বিভিন্ন প্রত্যন্ত এলাকায় যান। সেখানে পানিবন্দি ও চরম ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারের খোঁজখবর নেন এবং স্থানীয় বাসিন্দাদের সঙ্গে কথা বলেন।
পরিদর্শনের সময় তিনি কোনো প্রটোকল না মেনে নিজেই হাঁটু থেকে কোমর সমান কাদাপানিতে নেমে পড়েন এবং বানভাসি মানুষের বাড়ি বাড়ি গিয়ে তাদের দুর্দশার কথা শোনেন। এ সময় প্রত্যেক দুর্গত পরিবারের হাতে প্রয়োজনীয় শুকনো ত্রাণসামগ্রী ও নগদ আর্থিক সহায়তা তুলে দেন তিনি। পাশাপাশি সরকারি ও বেসরকারিভাবে স্থায়ী টেকসই বাঁধ নির্মাণের আগ পর্যন্ত দুর্গত মানুষের পাশে থাকার দৃঢ় আশ্বাস দেন।
চট্টগ্রামের ১৫টি উপজেলার মধ্যে সাম্প্রতিক পাহাড়ি ঢলে সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে সাতকানিয়া উপজেলা। এই উপজেলার অধিকাংশ মাঠ-ঘাট, রাস্তা এবং বাড়ি-ঘর গত কয়েকদিন ধরে সম্পূর্ণ পানির নিচে নিমজ্জিত রয়েছে। জামায়াতের আমির সকাল সাড়ে ১০টার দিকে সাতকানিয়া উপজেলার এওচিয়া ইউনিয়নে বন্যাকবলিত এলাকা ও আশ্রয়কেন্দ্র পরিদর্শন করেন। এখানেও তিনি ব্যক্তিগতভাবে কয়েক শত পরিবারের মাঝে ত্রাণ সামগ্রী ও নগদ টাকা বিতরণ করেন।
পরিদর্শনকালে জামায়াতের আমিরের সঙ্গে আরও উপস্থিত ছিলেন চট্টগ্রাম-১৫ আসনের সংসদ সদস্য ও জামায়াত নেতা শাহজাহান চৌধুরী, মুহাম্মদ শাহজাহান, চট্টগ্রাম টিম সদস্য জাফর সাদেক, বাঁশখালী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) রুহুল আমিন, এক্সিকিউটিভ ম্যাজিস্ট্রেট (ভূমি) ওমর সানি আকন, বাঁশখালী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) রবিউল হক, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদের (ডাকসু) জিএস এস. এম ফরহাদ, দক্ষিণ জেলা জামায়াতের আমির আনোয়ারুল আলম চৌধুরী এবং দক্ষিণ জেলা জামায়াতের সেক্রেটারি অধ্যক্ষ বদরুল হকসহ স্থানীয় সুশীল সমাজের প্রতিনিধিরা।
বাঁশখালীর নাগরিকত্ব দাবি: সাধারণ গেঞ্জি পরে পানিতে নেমে নিজেকে বাঁশখালীর একজন মানুষ হিসেবে দাবি করলেন ডা. শফিকুর রহমান।
লুটেরাদের ধিক্কার: স্বাধীনতার ৫৫ বছরেও জলাবদ্ধতা দূর না হওয়ায় অতীতের সম্পদ পাচারকারীদের ‘জাতির দুশমন’ আখ্যা।
নিহতদের অনুদান: পাহাড় ধস ও বন্যায় চট্টগ্রাম বিভাগে নিহতদের পরিবারকে ৫০ হাজার টাকা করে আর্থিক সহায়তার ঘোষণা।
দুর্গত এলাকায় আমির: চট্টগ্রামের সবচেয়ে ক্ষতিগ্রস্ত সাতকানিয়া ও বাঁশখালীর প্রত্যন্ত অঞ্চলে হাঁটু পানিতে নেমে ত্রাণ বিতরণ।
সংসদ সদস্য ও ইউএনও উপস্থিত: পরিদর্শনের সময় স্থানীয় এমপি শাহজাহান চৌধুরী, ইউএনও, ম্যাজিস্ট্রেট ও ডাকসু জিএস এস.এম ফরহাদ সঙ্গে ছিলেন।
রাজনীতি ডেস্ক | বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী ডা. শফিকুর রহমান, চট্টগ্রাম বন্যা ২০২৬, সাতকানিয়া-বাঁশখালী ত্রাণ বিতরণ ও শাহজাহান চৌধুরী এমপি সেল
চট্টগ্রামের কালুরঘাট ও শঙ্খ নদীর স্থায়ী বাঁধ নির্মাণ নিয়ে পানি উন্নয়ন বোর্ড কোনো নতুন প্রকল্প দিচ্ছে কিনা, সাতকানিয়ার বন্যা পরিস্থিতির লাইভ আপডেট এবং দেশের রাজনৈতিক ও বন্যা পরিস্থিতির প্রতি মুহূর্তের ব্রেকিং নিউজের দ্রুত আপডেটের জন্য নিয়মিত ভিজিট করুন: বাংলাদেশ প্রতিদিন
| ফজর | 3:50 AM ভোর |
|---|---|
| যোহর | 12:04 দুপুর |
| আছর | 4:44 PM বিকাল |
| মাগরিব | 6:50 PM সন্ধ্যা |
| এশা | 8:17 PM রাত |
| জুম্মা | 1.30 pm দুপুর |