আন্তর্জাতিক ডেস্ক | বাংলাদেশ প্রতিদিন
প্রকাশিত: ৪ জুলাই, ২০২৬
ইরানের সদ্যপ্রয়াত সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ সাইয়্যেদ আলী খামেনির জানাজায় অংশ নিতে রাজধানী তেহরানে আজ শনিবার (৪ জুলাই) সমবেত হয়েছিলেন লাখ লাখ মানুষ। তবে এই বিশাল শোকের মহাসমুদ্রে কেবল কান্নার রোলই ছিল না, বরং সমবেত জনতার কণ্ঠে ছিল তীব্র ক্ষোভ এবং মার্কিন সাম্রাজ্যবাদের বিরুদ্ধে প্রতিশোধের দাউ দাউ আগুন।
জানাজায় অংশ নেওয়া সাধারণ ইরানি নাগরিক থেকে শুরু করে দেশের প্রত্যন্ত অঞ্চল থেকে ছুটে আসা ধর্মপ্রাণ মানুষ খামেনির এই মৃত্যুকে নিজের পারিবারিক অভিভাবক বা পিতা হারানোর চেয়েও বড় এবং অপূরণীয় ট্র্যাজেডি হিসেবে দেখছেন। একই সঙ্গে তারা সর্বোচ্চ নেতাকে হত্যার জন্য দায়ী মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র এবং তাদের আঞ্চলিক মিত্র ইসরাইলের বিরুদ্ধে একযোগে চূড়ান্ত সামরিক প্রতিশোধ নেওয়ার শপথ ব্যক্ত করছেন।
তেহরানের ঐতিহাসিক গ্র্যান্ড মোসাল্লা (Grand Mosalla) প্রাঙ্গণে জড়ো হওয়া জনতার আবেগ, কান্না এবং তীব্র ক্ষোভের বাস্তব চিত্র তুলে ধরে আরশ রাহিমি নামের ৪০ বছর বয়সি এক ব্যক্তি আন্তর্জাতিক সংবাদসংস্থা রয়টার্সকে বলেন:
“আমরা নিশ্চিতভাবেই আমাদের প্রিয় নেতার ফোঁটা ফোঁটা রক্তের সুনির্দিষ্ট প্রতিশোধ নেব। আজ এখানে যারা সমবেত হয়েছেন, তারা প্রত্যেকেই সর্বোচ্চ নেতার এই বর্বরোচিত হত্যার কঠিন বিচার চান। আমাদের নেতা নিজেই সবসময় আমাদের বলে গেছেন যে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে আমাদের ঐতিহাসিক রক্তের শত্রুতা রয়েছে। তাই আমেরিকার সঙ্গে আমাদের সম্পর্ক কখনই ভালো হওয়ার নয় এবং কোনো সমঝোতাও হবে না।”
এই জাতীয় শোকের গভীরতা সাধারণ ইরানিদের কতটা গভীরভাবে স্পর্শ করেছে, তার বহিঃপ্রকাশ ঘটেছে দূর-দূরান্ত থেকে হেঁটে বা বাসে করে তেহরানে আসা মানুষের আবেগঘন কথায়। ইরানের হামাদান প্রদেশ থেকে দীর্ঘ পথ পাড়ি দিয়ে তেহরানে আসা হামিদ তেইমোরি নামের এক শোকাহত ব্যক্তি নিজের ভেতরের অবর্ণনীয় মানসিক যন্ত্রণা প্রকাশ করতে গিয়ে বলেন, “আমি এক অদ্ভুত ও অবর্ণনীয় কষ্টের মধ্য দিয়ে যাচ্ছি। আমার নিজের জন্মদাতা বাবা যখন মারা গিয়েছিলেন, তখনও আমি এতটা কাঁদিনি, যতটা কেঁদেছি ও চোখের জল ফেলেছি আমাদের সর্বোচ্চ নেতার শাহাদাতের খবর শুনে। তিনি আমাদের আত্মিক পিতা ছিলেন।”
ভূরাজনৈতিক বিশ্লেষকরা বলছেন, দীর্ঘ সাড়ে তিন দশক ধরে প্রবল প্রতাপে ইরান শাসন করা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনির এই জানাজাকে বর্তমান ইরান সরকার ও ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড (IRGC) দেশের সর্বস্তরের জনগণের আবেগ ও পুঞ্জীভূত ক্ষোভকে কাজে লাগিয়ে পশ্চিমাদের বিরুদ্ধে এক অভূতপূর্ব ও ইস্পাতকঠিন ‘জাতীয় ঐক্যের প্রতীক’ হিসেবে প্রদর্শন করতে চাইছে।
একই সঙ্গে, মার্কিন-ইসরাইলি যৌথ বিমান হামলায় সর্বোচ্চ নেতার এই আকস্মিক ও রক্তাক্ত বিদায়কে ঘিরে মধ্যপ্রাচ্যের সামগ্রিক ভূ-রাজনীতি এবং চলমান ওয়াশিংটন-তেহরান দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ক আরও চরম এবং অপ্রতিরোধ্য সংঘাতের দিকে মোড় নিতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে। ওমান বা কাতারে চলমান পর্দার অন্তরালের শান্তি আলোচনাও এই তীব্র গণ-অসন্তোষের মুখে ভেস্তে যেতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
জনতার ক্ষোভ: খামেনির জানাজায় লাখ লাখ মানুষের উপস্থিতিতে প্রতিশোধ ও ক্ষোভের আগুন।
আবেগের বহিঃপ্রকাশ: সাধারণ ইরানিদের দাবি—নিজের বাবা হারানোর চেয়েও বড় ট্র্যাজেডি এই নেতার বিদায়।
আমেরিকার সাথে বৈরিতা: জানাজায় আগতদের হুঙ্কার—যুক্তরাষ্ট্রের সাথে ইরানের রক্তের শত্রুতা কখনো শেষ হবে না।
রাজনৈতিক সমীকরণ: খামেনির বিদায়কে পশ্চিমাদের বিরুদ্ধে জাতীয় ঐক্যের ঢাল হিসেবে দেখছে তেহরান।
সংঘাতের আশঙ্কা: এই হামলার পর ওয়াশিংটন-তেহরান সম্পর্ক ও মধ্যপ্রাচ্য পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ রূপ নিতে পারে।
আন্তর্জাতিক ডেস্ক | মধ্যপ্রাচ্য ও বিশ্ব রাজনীতি বিভাগ
তেহরানের গ্র্যান্ড মোসাল্লা থেকে পবিত্র নগরী কোমে আয়াতুল্লাহ খামেনির মরদেহ স্থানান্তরের লাইভ সিকিউরিটি আপডেট, মার্কিন-ইসরাইলি হামলার জবাবে ইরানের সর্বোচ্চ নিরাপত্তা কাউন্সিলের (SNSC) গোপন যুদ্ধকালীন রণকৌশল, সৌদি আরবের উচ্চপর্যায়ের প্রতিনিধি দলের তেহরান সফরের পর বিশ্ব গণমাধ্যমের নতুন বিশ্লেষণ এবং আন্তর্জাতিক সব এক্সক্লুসিভ ব্রেকিং নিউজের দ্রুত আপডেটের জন্য নিয়মিত ভিজিট করুন: বাংলাদেশ প্রতিদিন
| ফজর | 3:50 AM ভোর |
|---|---|
| যোহর | 12:04 দুপুর |
| আছর | 4:44 PM বিকাল |
| মাগরিব | 6:50 PM সন্ধ্যা |
| এশা | 8:17 PM রাত |
| জুম্মা | 1.30 pm দুপুর |