আন্তর্জাতিক ও দক্ষিণ এশিয়া ডেস্ক | বাংলাদেশ প্রতিদিন
প্রকাশিত: ২৬ জুন, ২০২৬
পাকিস্তান নিয়ন্ত্রিত স্বাধীন ভূখণ্ড ‘আজাদ কাশ্মীরে’ গত তিন সপ্তাহ ধরে চলমান তীব্র সরকারবিরোধী ও অধিকার আদায়ের আন্দোলন দমনে এক ভিন্নধর্মী ও কঠোর কৌশল নিয়েছে দেশটির কেন্দ্রীয় প্রশাসন। অঞ্চলটিতে আন্দোলনকারীদের দমাতে এবং সাধারণ মানুষকে কোণঠাসা করতে খাদ্য, জ্বালানি এবং জীবনরক্ষাকারী ওষুধসহ সব ধরনের নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের সরবরাহ সম্পূর্ণ সীমিত বা অবরুদ্ধ করা হয়েছে বলে গুরুতর অভিযোগ উঠেছে।
আন্তর্জাতিক সংবাদ সংস্থা এএফপি (AFP) এবং পাকিস্তানের শীর্ষস্থানীয় গণমাধ্যমগুলোর বৃহস্পতিবারের (২৫ জুন) প্রতিবেদনে বলা হয়, আজাদ কাশ্মীরের প্রবেশপথগুলোতে পণ্যবাহী শত শত ট্রাক আটকে দেওয়ায় স্থানীয় বাজারগুলোতে এখন জরুরি ও নিত্যপণ্যের তীব্র সংকট দেখা দিয়েছে।
পাকিস্তানি দৈনিক ‘ডন’ (Dawn)-এর এক বিশেষ প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে, রাজধানী মুজাফফরাবাদের সাধারণ বাসিন্দারা এখন চাল, ডাল, শিশুখাদ্য ও জরুরি ওষুধ সংগ্রহের জন্য পার্শ্ববর্তী খাইবার পাখতুনখোয়া প্রদেশে পাড়ি জমাচ্ছেন। অন্যদিকে তীব্র সংকটে পড়া পুঞ্চ, রাওয়ালাকোট, বাঘ এবং নীলম উপত্যকার শত শত মানুষ কয়েকশ কিলোমিটার পথ পাড়ি দিয়ে পাকিস্তানের মূল ভূখণ্ডের রাওয়ালপিন্ডি ও রাজধানী ইসলামাবাদ শহর থেকে নিজেদের দৈনিক প্রয়োজনীয় রসদ ও জ্বালানি সংগ্রহ করছেন।
পণ্য অবরুদ্ধ করার পাশাপাশি আজাদ কাশ্মীরে আন্তর্জাতিক ও স্থানীয় সাংবাদিকদের প্রবেশে অলিখিত কড়াকড়ি আরোপ এবং পুরো অঞ্চল জুড়ে ইন্টারনেট সেবা সম্পূর্ণ ব্লক বা ধীরগতির করে দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে। স্থানীয়দের দাবি, অধিকাংশ এলাকায় ব্রডব্যান্ড ও মোবাইল ইন্টারনেট সংযোগ বন্ধ থাকায় বিশ্ববাসীর কাছে কাশ্মীরের আসল চিত্র পৌঁছাতে পারছে না।
আজাদ কাশ্মীরের স্থানীয় বিধানসভায় সংরক্ষিত অন্যায্য আসন ব্যবস্থা বাতিল, বিদ্যুৎ বিলের ওপর ভর্তুকি এবং যুবকদের কর্মসংস্থান বৃদ্ধির দাবিতে গত ৫ জুন থেকে লাগাতার রাজপথ আন্দোলন শুরু করে কাশ্মীরের শক্তিশালী রাজনৈতিক জোট ‘জয়েন্ট আওয়ামী অ্যাকশন কমিটি’ (JAAC)। আন্দোলনের অংশ হিসেবে গত ৯ জুন ডাকা সর্বাত্মক হরতালের পর থেকেই বিক্ষোভকারীদের সঙ্গে পাকিস্তানের রেঞ্জার্স ও স্থানীয় পুলিশ বাহিনীর রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষ শুরু হয়।
এর আগে প্রকাশিত বিভিন্ন আন্তর্জাতিক রিপোর্টে জানা গিয়েছিল, এই প্রায় তিন সপ্তাহের টানা সংঘাতে নারী ও শিশুসহ অন্তত ২৪ জন আন্দোলনকারী নিহত এবং শত শত মানুষ গুরুতর আহত হয়েছেন। একই সঙ্গে আন্দোলনের নেতৃত্ব দেওয়ার অভিযোগে কাশ্মীর জুড়ে ৫ শতাধিক রাজনৈতিক কর্মীকে গ্রেফতার করা হয়েছে।
এদিকে পাকিস্তানের কেন্দ্রীয় প্রশাসনের একজন জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তা নাম প্রকাশ না করার শর্তে স্থানীয় গণমাধ্যমকে সরকারের এই বিতর্কিত কৌশলের কথা এক প্রকার স্বীকার করে নিয়েছেন। তিনি জানান, ফেডারেল সরকার কোনো বড় ধরনের নতুন রক্তপাত বা সামরিক অভিযান ছাড়াই এই বিশাল আন্দোলন সম্পূর্ণ নিয়ন্ত্রণে আনতে চায়। তাঁর দাবি, জরুরি পণ্যের সরবরাহ ব্যাহত বা অবরুদ্ধ করা হলে আন্দোলনের রসদ ফুরিয়ে যাবে এবং এর তীব্রতা স্বাভাবিকভাবেই কমে আসবে।
পাকিস্তানের আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর ব্যাপক গ্রেফতার অভিযান এবং খাদ্য অবরোধের কারণে রাস্তায় বিক্ষোভের তীব্রতা সাময়িকভাবে কিছুটা কমলেও ভেতরের পরিস্থিতি এখনো অত্যন্ত থমথমে ও উত্তেজনাপূর্ণ। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া বিভিন্ন ভিডিও চিত্রে দেখা গেছে, আজাদ কাশ্মীরের মূল প্রবেশদ্বারগুলোতে খাদ্য বোঝাই শত শত ট্রাক অলস দাঁড়িয়ে আছে এবং চালকদের পণ্য খালাস করতে দিচ্ছে না পাকিস্তানি কোস্টগার্ড ও পুলিশ।
তবে সরকারের এই অমানবিক অবরুদ্ধকরণ নীতির মুখেও আন্দোলন থেকে এক চুলও সরে আসতে নারাজ কাশ্মীরের জয়েন্ট আওয়ামী অ্যাকশন কমিটির (জেএএকে) শীর্ষ নেতারা। তাঁরা সাফ জানিয়ে দিয়েছেন, সরকারের ফাঁদে পা দিয়ে তাঁরা ঘরে ফিরে যাবেন না। বরং নিজেদের নায্য অধিকার ও কাশ্মীরি স্বাধিকার আদায়ের লক্ষ্যে আগামী দিনগুলোতে অন্তত ১ লাখ মানুষের এক বিশাল ঐতিহাসিক গণ-অংশগ্রহণে রাওয়ালাকোট থেকে রাজধানী মুজাফফরাবাদ পর্যন্ত এক মেগা ‘লংমার্চ’ কর্মসূচির চূড়ান্ত প্রস্তুতি নিচ্ছেন তাঁরা।
মূল সংকট: আন্দোলন থামাতে পাকিস্তান সরকারের পক্ষ থেকে খাদ্য, তেল ও ওষুধ সরবরাহে কৃত্রিম নিষেধাজ্ঞা।
মানবিক পরিস্থিতি: নিত্যপণ্যের খোঁজে কাশ্মীরি জনগণের খাইবার পাখতুনখোয়া ও ইসলামাবাদে দীর্ঘ দূরত্বের সফর।
ব্ল্যাকআউট: আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমের প্রবেশে বাধা এবং কাশ্মীরের সিংহভাগ অঞ্চলে ইন্টারনেট সম্পূর্ণ বন্ধ।
হতাহত ও দমনপীড়ন: চলমান সংঘাতে এ পর্যন্ত ২৪ জন নিহত এবং ৫০০-এর বেশি মানুষকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ।
পরবর্তী রণকৌশল: দাবি আদায়ে ১ লাখ মানুষের অংশগ্রহণে রাওয়ালাকোট থেকে মুজাফফরাবাদ পর্যন্ত রাজপথ কাঁপানো লংমার্চের ডাক।
বিশেষ প্রতিনিধি: বিডিএস বুলবুল আহমেদ
আজাদ কাশ্মীরে মুজাফফরাবাদ লংমার্চের লাইভ গ্রাউন্ড আপডেট, পাকিস্তানি সেনাবাহিনীর পরবর্তী পদক্ষেপ, নিয়ন্ত্রণ রেখার (LoC) নিরাপত্তা পরিস্থিতি এবং দক্ষিণ এশিয়ার সব এক্সক্লুসিভ আন্তর্জাতিক ব্রেকিং নিউজের দ্রুত ও নিখুঁত আপডেটের জন্য নিয়মিত ভিজিট করুন: বাংলাদেশ প্রতিদিন
| ফজর | 3:50 AM ভোর |
|---|---|
| যোহর | 12:04 দুপুর |
| আছর | 4:44 PM বিকাল |
| মাগরিব | 6:50 PM সন্ধ্যা |
| এশা | 8:17 PM রাত |
| জুম্মা | 1.30 pm দুপুর |