আন্তর্জাতিক ও ইউরোপ ডেস্ক | বাংলাদেশ প্রতিদিন
প্রকাশিত: ২৪ জুন, ২০২৬
যুক্তরাজ্যে চলমান তীব্র ও নজিরবিহীন তাপপ্রবাহের (Heatwave) কারণে ইংল্যান্ড এবং ওয়েলসের এক হাজারেরও বেশি স্কুল সম্পূর্ণ বন্ধ ঘোষণা করা হয়েছে অথবা নির্ধারিত সময়ের অনেক আগেই ছুটি দিয়ে দেওয়া হয়েছে। দেশজুড়ে গ্রীষ্মকালীন তাপমাত্রা অত্যন্ত দ্রুত গতিতে বৃদ্ধি পাওয়ায় কোমলমতি শিক্ষার্থী ও শিক্ষকদের চরম স্বাস্থ্য নিরাপত্তার কথা বিবেচনা করে স্থানীয় শিক্ষা প্রশাসন এই জরুরি সিদ্ধান্ত গ্রহণ করেছে। বিশ্বখ্যাত ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম বিবিসি (BBC) এক বিশেষ প্রতিবেদনে এই তথ্য নিশ্চিত করেছে।
যুক্তরাজ্যের আবহাওয়া অধিদপ্তরের (Met Office) সর্বশেষ পূর্বাভাস অনুযায়ী, আজ বুধবার (২৪ জুন) দক্ষিণ ইংল্যান্ডের বিভিন্ন কাউন্টি ও গুরুত্বপূর্ণ এলাকায় তাপমাত্রা এক লাফে প্রায় ৩৭ ডিগ্রি সেলসিয়াসে (37°C) গিয়ে পৌঁছাতে পারে, যা ব্রিটিশ আবহাওয়ার ইতিহাসে এই সময়ে অন্যতম সর্বোচ্চ রেকর্ড। তবে জলবায়ু বিশেষজ্ঞরা সতর্ক করে বলেছেন, বাতাসে অতিরিক্ত আর্দ্রতা ও অন্যান্য স্থানীয় আবহাওয়াগত কারণে মানুষের শরীরে অনুভূত তাপমাত্রা (RealFeel) এই ৩৭ ডিগ্রির চেয়েও অনেক বেশি হতে পারে। ফলে বাইরে অবস্থানকারী ও কর্মজীবী মানুষের জন্য সামগ্রিক পারিপার্শ্বিক পরিস্থিতি আরও অস্বস্তিকর এবং মারাত্মক ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে উঠতে শুরু করেছে।
যুক্তরাজ্যের বিভিন্ন স্কুল কর্তৃপক্ষগুলো জানিয়েছে, ঐতিহাসিকভাবে যুক্তরাজ্যের বেশিরভাগ পুরোনো শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলো শীতপ্রধান আবহাওয়া উপযোগী করে তৈরি, ফলে অনেক স্কুলেই পর্যাপ্ত শীতাতপ নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থা (AC) নেই। এই চরম গরমের মধ্যে শ্রেণিকক্ষগুলো শিক্ষার্থীদের জন্য নিরাপদ ও সহনীয় তাপমাত্রায় রাখা কোনোভাবেই সম্ভব না হওয়ায় বাধ্য হয়ে শিক্ষার্থীদের আগেভাগে নিরাপদে বাড়ি পাঠিয়ে দেওয়া হয়েছে। কিছু স্কুল সম্পূর্ণভাবে অনলাইন ক্লাসে স্থানান্তরিত হয়েছে অথবা আপাতত বন্ধ রাখা হয়েছে, যাতে শিক্ষার্থী ও কর্মীদের হিটস্ট্রোকসহ নানা স্বাস্থ্যঝুঁকি কমানো যায়।
এদিকে, চরম গরমের কারণে সাধারণ মানুষের মাঝে বড় ধরনের স্বাস্থ্যঝুঁকি দেখা দেওয়ায় ব্রিটিশ স্বাস্থ্য নিরাপত্তা সংস্থা (UKHSA) নাগরিকদের জরুরি প্রয়োজন ছাড়া অপ্রয়োজনীয় বাইরে যাতায়াত সম্পূর্ণ এড়িয়ে চলার পরামর্শ দিয়েছে। বিশেষ করে শিশু, বয়স্ক ব্যক্তি এবং আগে থেকেই নানা দীর্ঘস্থায়ী রোগে অসুস্থদের প্রতি অতিরিক্ত সতর্কতা ও যত্ন অবলম্বনের বিশেষ আহ্বান জানানো হয়েছে। উদ্ভূত পরিস্থিতিতে দক্ষিণ ইংল্যান্ড জুড়ে জারি করা ‘চরম তাপমাত্রা সতর্কতা’ (Extreme Heat Warning) আরও এক দফা বাড়ানো হয়েছে, কারণ আবহাওয়াবিদরা মনে করছেন গরমের এই তীব্রতা আরও বেশ কিছু দিন অব্যাহত থাকতে পারে।
এই তীব্র তাপপ্রবাহের ক্ষতিকর প্রভাব শুধু শিক্ষা খাতেই সীমাবদ্ধ নেই; বরং দেশটির রেল পরিবহন, বিদ্যুৎ সরবরাহ ও সাধারণ জনসেবামূলক কার্যক্রমেও এর বড় ধরনের ধাক্কা লাগতে শুরু করেছে। তীব্র রোদে রেললাইন বেঁকে যাওয়ার আশঙ্কায় অনেক রুটে ট্রেনের গতিসীমা কমিয়ে দেওয়া হয়েছে, যার ফলে সিডিউল বিপর্যয়ে পড়েছেন হাজার হাজার যাত্রী।
পরিবেশ বিশেষজ্ঞরা বলছেন, বৈশ্বিক জলবায়ু পরিবর্তনের (Climate Change) সরাসরি প্রভাবে সমগ্র ইউরোপ জুড়েই এখন এ ধরনের চরম ও বৈরী আবহাওয়ার ঘটনা ক্রমেই বেশি মাত্রায় দেখা যাচ্ছে। কার্বন নিঃসরণ কমানো না গেলে ভবিষ্যতে এ ধরনের প্রাণঘাতী তাপপ্রবাহ আরও ঘন ঘন, দীর্ঘস্থায়ী ও তীব্র হতে পারে বলে তারা আশঙ্কা প্রকাশ করেছেন।
| মূল ক্ষয়ক্ষতি ও পূর্বাভাস | চলমান সংকটের বর্তমান পরিস্থিতি |
| আক্রান্ত অঞ্চল | প্রধানত সমগ্র ইংল্যান্ড এবং ওয়েলস (সবচেয়ে বেশি প্রভাব দক্ষিণ ইংল্যান্ডে)। |
| সর্বোচ্চ তাপমাত্রা | বুধবার (২৪ জুন) পারদ স্পর্শ করতে পারে প্রায় ৩৭ ডিগ্রি সেলসিয়াস। |
| ক্ষতিগ্রস্ত শিক্ষা খাত | তাপের কারণে ১,০০০-এর বেশি স্কুল সাময়িক বন্ধ বা দ্রুত ছুটি ঘোষণা। |
| প্রধান স্বাস্থ্য ঝুঁকি | হিট স্ট্রোক ও ডিহাইড্রেশন; শিশু ও বৃদ্ধদের ঘরে থাকার জরুরি পরামর্শ। |
| পরিবহন অবস্থা | রেললাইন ও সড়কে সতর্কতা; ট্রেনের গতি কমিয়ে দেওয়ায় ব্যাপক শিডিউল বিপর্যয়। |
| মূল কারণ | জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাবে ইউরোপজুড়ে চরম আবহাওয়ার পুনরাবৃত্তি। |
বিশেষ প্রতিনিধি: বিডিএস বুলবুল আহমেদ
যুক্তরাজ্যের আবহাওয়া দপ্তরের পরবর্তী হিট-অ্যালার্টের সময়সীমা, লন্ডনের হিথ্রো বিমানবন্দরের ফ্লাইট ওঠানামার আপডেট, ইউরোপের সামগ্রিক জলবায়ু পরিবর্তন পরিস্থিতি এবং আন্তর্জাতিক খবরের দ্রুত ও নিখুঁত আপডেটের জন্য নিয়মিত ভিজিট করুন: বাংলাদেশ প্রতিদিন
| ফজর | 3:50 AM ভোর |
|---|---|
| যোহর | 12:04 দুপুর |
| আছর | 4:44 PM বিকাল |
| মাগরিব | 6:50 PM সন্ধ্যা |
| এশা | 8:17 PM রাত |
| জুম্মা | 1.30 pm দুপুর |