আন্তর্জাতিক ও কৌশলগত প্রতিরক্ষা ডেস্ক | বাংলাদেশ প্রতিদিন
প্রকাশিত: ২৪ জুন, ২০২৬
সমগ্র ইসলামী বিশ্বের সামগ্রিক ঐক্য, ভূ-রাজনৈতিক সংহতি ও অভিন্ন নিরাপত্তা নিশ্চিতকরণের লক্ষ্যে মুসলিম প্রধান শক্তিশালী দেশগুলোকে নিয়ে একটি অভিন্ন ও সুদৃঢ় নতুন আন্তর্জাতিক জোট গঠনের জোরালো আহ্বান জানিয়েছেন ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ান। ইরানের আধা-সরকারি বার্তা সংস্থা তাসনিম নিউজ এজেন্সির এক বিশেষ প্রতিবেদন ও পাকিস্তানের আন্তঃবাহিনী জনসংযোগ পরিদপ্তরের (ISPR) বিজ্ঞপ্তিতে এই তথ্য নিশ্চিত করা হয়েছে।
গতকাল মঙ্গলবার (২৩ জুন) রাষ্ট্রীয় সফরে পাকিস্তানের রাজধানী ইসলামাবাদে পৌঁছানোর পর বিকেলেই দেশটির সামরিক বাহিনীর চিফ অব ডিফেন্স ফোর্সেস ও সেনাপ্রধান ফিল্ড মার্শাল আসিম মুনিরের সঙ্গে এক অত্যন্ত উচ্চপর্যায়ের রুদ্ধদ্বার দ্বিপাক্ষিক বৈঠকে বসেন ইরানি প্রেসিডেন্ট। বৈঠকে মূলত মধ্যপ্রাচ্যের সাম্প্রতিক উত্তেজনা, মার্কিন-ইরান যুদ্ধবিরতি পরবর্তী আঞ্চলিক নিরাপত্তা এবং মুসলিম বিশ্বের ভবিষ্যৎ কৌশলগত অবস্থান নিয়ে বিশদ আলোচনা হয়।
বৈঠকে প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ান অত্যন্ত দৃঢ়তার সঙ্গে বলেন, "বর্তমান বৈশ্বিক প্রেক্ষাপটে মুসলিম রাষ্ট্রগুলোর মধ্যে শুধু নামমাত্র সম্পর্ক রাখলেই চলবে না, বরং আরও গভীর, ঘনিষ্ঠ এবং সরাসরি সামরিক ও অর্থনৈতিক সহযোগিতা ও সমন্বয় প্রয়োজন।" তিনি উল্লেখ করেন, একমাত্র একটি শক্তিশালী ও ঐক্যবদ্ধ প্ল্যাটফর্মের মাধ্যমেই মুসলিম দেশগুলো বৈশ্বিক দরবারে নিজেদের অভিন্ন জাতীয় ও ধর্মীয় স্বার্থ রক্ষা করতে পারবে এবং একই সঙ্গে এশিয়াসহ আন্তর্জাতিক মহলে স্থায়ী শান্তি ও স্থিতিশীলতা প্রতিষ্ঠায় অত্যন্ত কার্যকর ও সিদ্ধান্তমূলক ভূমিকা রাখতে সক্ষম হবে।
দীর্ঘ চার মাসেরও বেশি সময় ধরে চলা মধ্যপ্রাচ্যের চরম সংঘাতময় পরিস্থিতিতে এবং ওয়াশিংটন ও তেহরানের মধ্যকার সাম্প্রতিক ঐতিহাসিক সমঝোতা প্রক্রিয়ায় পাকিস্তান সরকার, দেশটির জনগণ এবং বিশেষ করে রাওয়ালপিন্ডির সামরিক নেতৃত্বের প্রশংসনীয় ও নিরপেক্ষ ভূমিকার ভূয়সী প্রশংসা করেন ইরানি প্রেসিডেন্ট। তিনি এই অঞ্চলে বিভিন্ন চরম সংকট নিরসনে ও কূটনীতি সচল রাখতে পাকিস্তানের কূটনৈতিক মধ্যস্থতার প্রচেষ্টাকে আন্তরিক ধন্যবাদ জানান।
গত ফেব্রুয়ারি মাসের শেষ দিক থেকে ইরানের ওপর চালানো মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইলের যৌথ মেগা সামরিক আগ্রাসনের প্রসঙ্গ টেনে মাসুদ পেজেশকিয়ান বলেন, "পশ্চিমা ও জায়নবাদী শক্তির সর্বাত্মক বিমান হামলা ও অবরোধের মুখে ইরানের সরকার, আপামর জনগণ এবং বিপ্লবী সশস্ত্র বাহিনী (IRGC) অভিন্ন জাতীয় ঐক্যের মাধ্যমে এক অভূতপূর্ব ও ইস্পাতকঠিন প্রতিরোধ গড়ে তুলেছে। আমরা অত্যন্ত সফলভাবে প্রতিপক্ষের সমস্ত কৌশলগত ধ্বংসাত্মক লক্ষ্য ও মনস্তাত্ত্বিক এজেন্ডাকে সম্পূর্ণ ব্যর্থ করে দিতে সক্ষম হয়েছি।"
তিনি আশা প্রকাশ করেন, এই সংকটের পর তেহরান ও ইসলামাবাদের মধ্যকার ঐতিহাসিক ভ্রাতৃত্বপূর্ণ সম্পর্ক এখন রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক গণ্ডি পেরিয়ে সামরিক ও কৌশলগত খাতে আরও বহুদূর বিস্তৃত হবে। মুসলিম বিশ্বের হাতে থাকা বিপুল পরিমাণ প্রাকৃতিক জ্বালানি, খনিজ সম্পদ, ভূ-কৌশলগত অবস্থান ও দক্ষ মানবসম্পদকে একক শক্তি হিসেবে কাজে লাগিয়ে পারস্পরিক আঞ্চলিক বাণিজ্য বাড়ানোর ওপর বিশেষ গুরুত্বারোপ করেন তিনি।
ইরানের প্রেসিডেন্ট ও তাঁর উচ্চপর্যায়ের প্রতিনিধি দলকে ইসলামাবাদে স্বাগত জানিয়ে পাকিস্তানের সেনাপ্রধান ফিল্ড মার্শাল আসিম মুনির কঠিন সময়ে পাকিস্তানের মধ্যস্থতার প্রতি আস্থা রাখার জন্য ইরানের শীর্ষ নেতৃত্বের প্রতি গভীর কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন। তিনি সম্প্রতি সুইজারল্যান্ডের বার্গেনস্টকে সম্পাদিত 'ইসলামাবাদ সমঝোতা স্মারক' (Islamabad MoU)-এর অধীনে ৬০ দিনের যুদ্ধবিরতি প্রক্রিয়াকে স্বাগত জানিয়ে আশা প্রকাশ করেন যে, এটি এই অঞ্চলে স্থায়ী শান্তির পথ সুগম করবে।
পাক সেনাপ্রধান স্পষ্ট ভাষায় বলেন, "আজকের এই চরম সংকটময় সময়ে বিশ্বের কোনো মুসলিম দেশকে একাকী বা চরম দুর্ভোগের মধ্যে ফেলে রাখা উচিত নয়। ইসলামী বিশ্বের টেকসই শান্তি, পারস্পরিক অর্থনৈতিক সহযোগিতা এবং অভ্যন্তরীণ ইস্পাতকঠিন ঐক্য বজায় রাখা কোনো বিলাসিতা নয়, বরং এটি এই মুহূর্তে সময়ের সবচেয়ে বড় দাবি।"
উল্লেখ্য, এই হাই-প্রোফাইল বৈঠকে পাকিস্তানের জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টা ও আইএসআই (ISI) প্রধান জেনারেল আসিম মালিক, ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাঘচি এবং ইসলামাবাদে নিযুক্ত ইরানি রাষ্ট্রদূত রেজা আমিরি-মোঘাদ্দামসহ দুই দেশের শীর্ষ সামরিক ও গোয়েন্দা কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।
মূল আলোচ্য বিষয়: ইসলামী বিশ্বের ঐক্য রক্ষায় শক্তিশালী মুসলিম দেশগুলোর একটি বিশেষ ‘প্রতিরক্ষা ও অর্থনৈতিক জোট’ গঠন।
পাকিস্তানের ঐতিহাসিক ভূমিকা: মার্কিন-ইরান সংঘাত বন্ধে পাকিস্তানের সেনাপ্রধান আসিম মুনির ও প্রধানমন্ত্রী শাহবাজ শরিফের সফল মধ্যস্থতা।
কূটনৈতিক চুক্তি: সুইজারল্যান্ডের বার্গেনস্টকে ট্রাম্প ও পেজেশকিয়ানের মধ্যে ১৮ জুন স্বাক্ষরিত হওয়া ‘ইসলামাবাদ সমঝোতা স্মারক’।
ঐক্যবদ্ধ প্রতিরোধ: মার্কিন-ইসরাইল যৌথ সামরিক হামলার বিরুদ্ধে ইরানের সফল প্রতিরক্ষার খতিয়ান উপস্থাপন।
ভবিষ্যৎ লক্ষ্য: মধ্যপ্রাচ্য ও দক্ষিণ এশিয়ার নিরাপত্তা অক্ষ তৈরিতে তেহরান-ইসলামাবাদ কৌশলগত দ্বিপাক্ষিক সহযোগিতা বৃদ্ধি।
বিশেষ প্রতিনিধি: বিডিএস বুলবুল আহমেদ
ইসলামাবাদ সমঝোতা স্মারকের পূর্ণাঙ্গ বাস্তবায়ন, ইরান-পাকিস্তান মেগা গ্যাস পাইপলাইন প্রকল্পের সর্বশেষ অগ্রগতি, মধ্যপ্রাচ্যে শান্তি আমদানিতে চীনের ভূমিকা এবং আন্তর্জাতিক রাজনীতির সব এক্সক্লুসিভ ব্রেকিং নিউজের দ্রুত আপডেটের জন্য নিয়মিত ভিজিট করুন: বাংলাদেশ প্রতিদিন
ইসলামাবাদে ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ান এবং পাকিস্তানের সেনাপ্রধান ফিল্ড মার্শাল আসিম মুনিরের মধ্যকার এই হাই-প্রোফাইল দ্বিপাক্ষিক বৈঠকের ভিজ্যুয়াল হাইলাইটস, সরকারি হ্যান্ডশেক ও ইন্টার-সার্ভিসেস পাবলিক রিলেশনস (ISPR) কর্তৃক প্রকাশিত মূল বিবৃতিটি সরাসরি দেখতে আপনি এই
| ফজর | 3:50 AM ভোর |
|---|---|
| যোহর | 12:04 দুপুর |
| আছর | 4:44 PM বিকাল |
| মাগরিব | 6:50 PM সন্ধ্যা |
| এশা | 8:17 PM রাত |
| জুম্মা | 1.30 pm দুপুর |