আন্তর্জাতিক বাজারে স্বর্ণের দাম গত জানুয়ারিতে প্রতি আউন্স ৫,৫০০ ডলারের সর্বকালীন রেকর্ড উচ্চতা ছোঁয়ার পর আর সামনে এগোতে পারেনি। চলতি বছরের ২৯ জানুয়ারি ইতিহাসে প্রথমবারের মতো স্পট গোল্ডের দাম আউন্সপ্রতি ৫,৫৯৪.৮২ ডলারে পৌঁছালেও, পরবর্তী কয়েক মাসে তা ২০ শতাংশ হ্রাস পেয়ে ৪,৪৭৩.৮৯ ডলারে নেমে এসেছে। এই আকস্মিক পতনের পর স্বর্ণে বিনিয়োগকারীদের মনে এখন বড় প্রশ্ন দেখা দিয়েছে—এটি কি দীর্ঘমেয়াদি মন্দার শুরু, নাকি ঘুরে দাঁড়ানোর আগের সাময়িক বিরতি?
বিগত দুই দশকের মূল্যের ইতিহাস বিশ্লেষণ করলে দেখা যায়, বড় ধরনের উল্লম্ফনের পর স্বর্ণের বাজারে সাধারণত একটি বড় সংশোধন বা পতন আসে। রয়টার্সের এশিয়া কমোডিটিজ অ্যান্ড এনার্জি কলামিস্ট ক্লাইড রাসেলের মতে, দাম বৃদ্ধির ঘটনাগুলো খুব কম সময়ে ঘটলেও পতন বা স্থিতিশীল হওয়ার প্রক্রিয়াটি বেশ দীর্ঘ সময় নেয়।
২০০৮-২০১৮ এর চক্র: ২০০৮ সালের অক্টোবরে আউন্সপ্রতি ৬৯৭.৪৫ ডলার থেকে ১৭০% লাফ দিয়ে ২০১১ সালে দাম পৌঁছায় ১,৮৮৪.৪০ ডলারে। এরপর পরবর্তী ৭ বছরে ৩৭% পতন ঘটে ২০১৮ সালে তা ১,১৯১.৩৫ ডলারে নেমে আসে।
২০২০-২০২৬ এর চক্র: ২০২০ সালের আগস্টে ২০,৭২.৪৯ ডলারের চূড়া ছোঁয়ার পর ২০২২ সালের সেপ্টেম্বরে তা ২২% কমে ১,৬২০.২০ ডলারে নামে। সেখান থেকে ২০২৬ সালের জানুয়ারি পর্যন্ত স্বর্ণ রেকর্ড ২৪৫% লাভ করে নতুন ইতিহাস গড়ে।
অতীতের এই চেনা ধারা বিবেচনা করলে ধারণা করা যায় যে, দীর্ঘমেয়াদি ঊর্ধ্বমুখী প্রবণতা আবার শুরু হওয়ার আগে আগামী মাসগুলোতে—এমনকি বছরগুলোতেও—দামের আরও বড় পতন দেখার সম্ভাবনা রয়েছে।
ক্লাইড রাসেলের বিশ্লেষণ অনুযায়ী, গত জানুয়ারি পর্যন্ত আন্তর্জাতিক বাজারে স্বর্ণের দাম আকাশচুম্বী হওয়ার পেছনে তিনটি বড় তেজি উপাদান একই সময়ে একই দিকে কাজ করছিল:
১. কেন্দ্রীয় ব্যাংকগুলোর তৎপরতা: বিশ্বের প্রধান কেন্দ্রীয় ব্যাংকগুলোর রেকর্ড পরিমাণ স্বর্ণ কেনার ধুম।
২. ভারত ও চীনের খুচরা বাজার: শীর্ষ দুই ক্রেতা দেশ চীন ও ভারতের বাজারে সাধারণ ক্রেতাদের শক্তিশালী চাহিদা।
3. ভূ-রাজনৈতিক আতঙ্ক: বিশ্বজুড়ে উচ্চ মূল্যস্ফীতি এবং ডোনাল্ড ট্রাম্প মার্কিন প্রেসিডেন্ট হিসেবে পুনরায় ফিরে আসার পর বৈশ্বিক রিজার্ভ কারেন্সি হিসেবে ডলারের অবস্থান দুর্বল হওয়ার আশঙ্কা।
সাম্প্রতিক মাসগুলোতে স্বর্ণের অতিরিক্ত দাম বৃদ্ধির কারণেই মূলত সাধারণ ক্রেতাদের চাহিদায় ব্রেক কষেছে। ওয়ার্ল্ড গোল্ড কাউন্সিলের সর্বশেষ প্রান্তিক প্রতিবেদন অনুযায়ী, ২০২৫ সালের প্রথম প্রান্তিকের (১,৩১৫.৬ টন) তুলনায় ২০২৬ সালের প্রথম প্রান্তিকে বৈশ্বিক মোট চাহিদা ৯ শতাংশ কমে ১,১৯৫.৯ টনে দাঁড়িয়েছে।
চাহিদা হ্রাসের মূল চিত্রটি নিচে তুলে ধরা হলো:
| খাতের নাম | ২০২৫ (প্রথম প্রান্তিক) | ২০编制 (প্রথম প্রান্তিক) | পরিবর্তনের হার |
| চীনের গহনার চাহিদা | উচ্চ চাহিদা | ৮৫.২ টন | ৩১% হ্রাস |
| ভারতের গহনার চাহিদা | উচ্চ চাহিদা | ৬৬.১ টন | ১৯% হ্রাস |
| বৈশ্বিক গহনার সার্বিক চাহিদা | ৩৪৭ টন | ২৬০.২ টন | ২৫% হ্রাস |
| গোল্ড ইটিএফ (ETF) প্রবাহ | ২৩০ টন | ৬২ টন | ৭৩% হ্রাস |
স্বর্ণের বাজার এখন আর কেবল প্রথাগত উপাদানগুলোর ওপর ভিত্তি করে চলছে না, বরং এটি মূলত মার্কিন সুদের হারের পূর্বাভাস এবং মধ্যপ্রাচ্যের ভূ-রাজনীতির ওপর ভর করে ওঠানামা করছে। বিশেষ করে অপরিশোধিত জ্বালানি তেলের সঙ্গে স্বর্ণের এক ধরনের বিপরীতমুখী সম্পর্ক তৈরি হয়েছে।
যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে সংঘাত বাড়লে তেলের দাম বাড়ে, যা মার্কিন সুদের হার বৃদ্ধির সম্ভাবনা তৈরি করে। আর সুদের হার বাড়লে স্বর্ণের মতো সুদবিহীন সম্পদে বিনিয়োগ কমে যায়। পরিশেষে বলা যায়, অন্য সব আর্থিক সম্পদের মতোই স্বর্ণের বাজারও এখন পুরোপুরি ইরান যুদ্ধের গতিপ্রকৃতি এবং বৈশ্বিক কূটনীতির কাছে জিম্মি হয়ে পড়েছে।
আন্তর্জাতিক বাজারের পাশাপাশি দেশীয় বাজারে স্বর্ণের দামের সর্বশেষ পরিস্থিতি ও ব্রেকিং নিউজ সবার আগে নির্ভরযোগ্যভাবে পেতে নিয়মিত চোখ রাখুন
| ফজর | 3:50 AM ভোর |
|---|---|
| যোহর | 12:04 দুপুর |
| আছর | 4:44 PM বিকাল |
| মাগরিব | 6:50 PM সন্ধ্যা |
| এশা | 8:17 PM রাত |
| জুম্মা | 1.30 pm দুপুর |