রবিবার, ২৪ মে ২০২৬: ওয়াশিংটন ও তেহরানের মধ্যে ব্যাক-চ্যানেল কূটনীতির মাধ্যমে একটি সম্ভাব্য ঐতিহাসিক শান্তি চুক্তি চূড়ান্ত হওয়ার গুঞ্জনের মধ্যেই মার্কিন-ইসরাইলি জোটকে চরম হুঁশিয়ারি বার্তা দিলেন ইরানের ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কর্পসের (IRGC) প্রধান জেনারেল আহমেদ ভাহিদি। তিনি স্পষ্ট করে বলেছেন, যুদ্ধ বন্ধে আন্তর্জাতিক পর্যায়ে চলমান আলোচনার মধ্যেও ইরান শত্রুপক্ষের সব ধরনের গোপন ষড়যন্ত ও অনুপ্রবেশ নস্যাৎ করবে। সেইসঙ্গে দেশের সশস্ত্র বাহিনী যেকোনো পরিস্থিতি মোকাবিলায় সর্বোচ্চ প্রস্তুত অবস্থায় রয়েছে এবং নতুন করে কোনো আগ্রাসনের চেষ্টা হলে তার জবাব হবে অত্যন্ত ভয়াবহ।
ইরানের ‘জাতীয় প্রতিরোধ, ত্যাগ ও বিজয় দিবস’ (খোররামশাহর মুক্তির ৪৪তম বার্ষিকী) উপলক্ষে দেওয়া এক বিশেষ বার্তায় আইআরজিসি প্রধান এই শক্ত অবস্থানের কথা জানান। উল্লেখ্য, ১৯৮২ সালে ইরান-ইরাক যুদ্ধের সময় ৫৭৮ দিনের ইরাকি দখলদারিত্বের পর এই কৌশলগত শহরটি মুক্ত করেছিল ইরানি বাহিনী।
জেনারেল আহমেদ ভাহিদি খোররামশাহর মুক্তিকে ইরানের চিরন্তন প্রতিরোধ ও বিজয়ের প্রতীক হিসেবে আখ্যায়িত করেন। তাঁর ভাষ্যমতে, ১৯৮০-র দশকের যুদ্ধের পর সাম্প্রতিক সময়ে যুক্তরাষ্ট্রের নেতৃত্বাধীন জোট ইরানের ওপর যে সামরিক হামলা চালিয়েছে, তা ছিল মূলত ইরানের বিরুদ্ধে ‘তৃতীয় চাপিয়ে দেওয়া যুদ্ধ’ ($Third\ Imposed\ War$)।
তিনি দাবি করেন, এই নতুন যুদ্ধক্ষেত্রে ইরান মাত্র ৪০ দিনের কঠোর ও ইস্পাতকঠিন প্রতিরোধের মাধ্যমে শত্রুপক্ষকে অপমানজনকভাবে যুদ্ধবিরতি চাইতে এবং আলোচনার টেবিলে বসতে বাধ্য করেছে।
দেশের সার্বভৌমত্ব রক্ষা এবং শত্রুর হিসাব-নিকাশ পালটে দিতে জেনারেল ভাহিদি তাঁর বার্তায় ৫টি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ও কৌশলগত দিক তুলে ধরেন:
হাইব্রিড যুদ্ধের ব্যর্থতা: প্রথমত, তাঁর মতে এবারের যুদ্ধটি কেবল প্রথাগত সামরিক যুদ্ধ ছিল না, বরং এটি ছিল একটি বহুমুখী ‘হাইব্রিড যুদ্ধ’ ($Hybrid\ War$)। কিন্তু আইআরজিসির শক্ত প্রতিরোধ ও দেশের জনগণের ইস্পাতকঠিন সমর্থনের কারণে শত্রুপক্ষ তাদের মূল লক্ষ্য অর্জনে সম্পূর্ণ ব্যর্থ হয়েছে।
স্বনির্ভরতা ও পারমাণবিক সক্ষমতা: দ্বিতীয়ত, খোররামশাহর মুক্তির মূল শিক্ষাই হলো নিজস্ব শক্তির ওপর নির্ভরতা। ইরানের নিজস্ব প্রযুক্তিতে তৈরি পারমাণবিক, ক্ষেপণাস্ত্র, প্রতিরক্ষা ও নিখুঁত আক্রমণ সক্ষমতার অভাবনীয় উন্নয়নই আজ বৈশ্বিক পরাশক্তিদের সমীকরণ পালটে দিতে বাধ্য করেছে।
জনগণের অটুট দেয়াল: তৃতীয়ত, ইরানের সবচেয়ে বড় কৌশলগত এবং মনস্তাত্ত্বিক শক্তি হলো দেশের শাসনব্যবস্থার প্রতি জনগণের দৃঢ় উপস্থিতি। এই জাতীয় ঐক্য শত্রুপক্ষের যেকোনো অভ্যন্তরীণ অনুপ্রবেশের বিরুদ্ধে একটি অটুট দেয়াল হিসেবে কাজ করে।
ছয়টি ক্ষেত্রে সর্বোচ্চ প্রস্তুতি: চতুর্থত, ইরানের সশস্ত্র বাহিনী বর্তমানে ক্ষেপণাস্ত্র, বিমান, নৌ, স্থল, মহাকাশ এবং সাইবার—এই ছয়টি প্রধান ক্ষেত্রে তাদের ইতিহাসের সর্বোচ্চ প্রস্তুত অবস্থায় রয়েছে। ফলে, নতুন কোনো হামলা হলে তার জবাব আঞ্চলিক ও আন্তর্জাতিক পর্যায়ে ‘ধ্বংসাত্মক ও ভয়ংকর’ হবে।
ভবিষ্যতের মডেল ও কুদস মুক্তি: পঞ্চমত, ভাহিদির মতে খোররামশাহর ঐতিহাসিক মুক্তি হলো ভবিষ্যতের চূড়ান্ত বিজয়ের একটি জীবন্ত মডেল। এই প্রতিরোধ ব্যবস্থার চূড়ান্ত লক্ষ্য হলো ‘পবিত্র কুদস (জেরুজালেম) মুক্ত করা’ এবং মধ্যপ্রাচ্য থেকে ‘ইহুদিবাদী ইসরাইলি শাসনের অবসান’ ঘটানো।
আন্তর্জাতিক সম্পর্ক বিশ্লেষকদের মতে, যখন ওয়াশিংটন এবং তেহরানের শীর্ষ কর্মকর্তারা সুইজারল্যান্ড ও পাকিস্তানে বসে পর্দার আড়ালে হরমুজ প্রণালি ($Strait\ of\ Hormuz$) উন্মুক্ত করা এবং মার্কিন নৌ অবরোধ প্রত্যাহারের খসড়া চুক্তি নিয়ে দরকষাকষি করছেন, ঠিক সেই মুহূর্তে জেনারেল ভাহিদির এই আক্রমণাত্মক বক্তব্য অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ। এর মাধ্যমে ইরান মূলত যুক্তরাষ্ট্রকে এটি বুঝিয়ে দিতে চায় যে—তারা কোনো দুর্বল অবস্থান থেকে নয়, বরং মাঠপর্যায়ে সামরিকভাবে নিজেদের শ্রেষ্ঠত্ব বজায় রেখেই ‘মর্যাদাপূর্ণ’ শান্তিসমঝোতায় অংশ নিচ্ছে।
প্রতিবেদক: Senior SEO Consultant BDS Bulbul Ahmed
আহমেদ ভাহিদি, আইআরজিসি প্রধানের হুঁশিয়ারি, মার্কিন-ইরান চুক্তি, হাইব্রিড যুদ্ধ পরিস্থিতি, মেহের নিউজ এবং মধ্যপ্রাচ্যের সামরিক ভূ-রাজনীতির এমন গভীর, তথ্যসমৃদ্ধ এবং সম্পূর্ণ এসইও ফ্রেন্ডলি কন্টেন্ট নিয়মিত পড়তে চোখ রাখুন বাংলাদেশ প্রতিদিন ওয়েবসাইটে।
| ফজর | 3:50 AM ভোর |
|---|---|
| যোহর | 12:04 দুপুর |
| আছর | 4:44 PM বিকাল |
| মাগরিব | 6:50 PM সন্ধ্যা |
| এশা | 8:17 PM রাত |
| জুম্মা | 1.30 pm দুপুর |