ইরান-মার্কিন সম্পর্ক: ট্রাম্পের প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান, খামেনির কঠোর প্রতিক্রিয়া
ইরানের সর্বোচ্চ ধর্মীয় নেতা আয়াতুল্লাহ আলি খামেনি মার্কিন পররাষ্ট্রনীতির তীব্র সমালোচনা করেছেন এবং মন্তব্য করেছেন যে, ওয়াশিংটন ইরানকে তার এজেন্ডা চাপিয়ে দিতে চায়। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প সম্প্রতি শান্তি চুক্তির প্রস্তাব দিয়ে আলোচনার আহ্বান জানালেও, ইরান সেই প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান করেছে। এদিকে, খামেনি হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেছেন যে, ইরান কোনো চাপের সামনে মাথা নোয়াবে না এবং মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের আগ্রাসী পররাষ্ট্রনীতি মেনে চলবে না।
সম্প্রতি মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প একটি অবাক করা পদক্ষেপ নিয়ে ফিলিস্তিন, সিরিয়া, ইরাক ও আফগানিস্তানের মতো অঞ্চলের বাইরে যাওয়ার পাশাপাশি ইরানকে শান্তি আলোচনা শুরু করার প্রস্তাব দেন। ট্রাম্প দাবি করেন, তিনি ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচি নিয়ে আলোচনা করার জন্য ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলি খামেনিকে একটি চিঠি পাঠিয়েছেন। ট্রাম্পের এই পদক্ষেপে সবাইকে অবাক করেছে, কারণ ইরান ও মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে গত কয়েক বছরে সম্পর্কের অবনতি ঘটে এবং একে অপরকে নিয়ে অভিযোগ ও পাল্টা অভিযোগের এক দীর্ঘ ইতিহাস রয়েছে। তবে ট্রাম্পের সাম্প্রতিক নমনীয় অবস্থান একটি নতুন দৃষ্টিকোণ তৈরি করেছে এবং এই প্রস্তাবটি ইরানকে আলোচনায় আনার জন্য প্রস্তুত হওয়া এমনই এক লক্ষণ হিসেবে দেখা যেতে পারে।
তবে, খামেনি স্পষ্টভাবে জানিয়ে দিয়েছেন যে, মার্কিন প্রেসিডেন্টের প্রস্তাব নিয়ে ইরান আগ্রহী নয়। তিনি বলেন, "মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র আলোচনার নাটক করছে যাতে তাদের এজেন্ডা চাপিয়ে দিতে পারে।" খামেনি আরও বলেন, "আমরা কাউকে আমাদের ওপর চাপ সৃষ্টি করতে দেব না এবং আমরা কোনো ধরনের শর্তে কোনো সমঝোতা করব না।"
ইরানীয় নেতার এই কঠোর অবস্থান ইরান-মার্কিন সম্পর্কের আরও গভীর সংকটের ইঙ্গিত দেয়। গত কয়েক বছর ধরে, ট্রাম্প প্রশাসন ইরানকে বিভিন্ন কারণে শত্রু হিসেবে দেখেছে, বিশেষ করে ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচি নিয়ে। ২০১৮ সালে ট্রাম্প একপাক্ষিকভাবে পারমাণবিক চুক্তি থেকে বেরিয়ে যাওয়ার পর, ইরান ও মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে সম্পর্ক আরও খারাপ হয়। এরপর থেকে, দুই দেশ একে অপরকে নিষেধাজ্ঞা ও বিভিন্ন অর্থনৈতিক এবং সামরিক পদক্ষেপের মাধ্যমে চাপ দিতে শুরু করেছে।
তবে, এমন অবস্থায় ট্রাম্পের শান্তি প্রস্তাব বিশেষভাবে গুরুত্ব পাচ্ছে, কারণ এর মাধ্যমে তিনি বিশ্বে শান্তির বার্তা দেওয়ার চেষ্টা করছেন। কিন্তু ইরান যে সেই প্রস্তাব গ্রহণ করবে না, সেটি স্পষ্ট হয়ে উঠেছে। খামেনি বলেন, "মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র কখনোই আমাদের জনগণের মঙ্গল চায় না, তাদের প্রস্তাব শুধু তাদের স্বার্থে উপযোগী এবং আমরা সেটা গ্রহণ করব না।"
এদিকে, ট্রাম্পের প্রশাসন এই মুহূর্তে নানা চাপের মুখে রয়েছে। বিশেষ করে, মার্কিন প্রেসিডেন্টের পক্ষ থেকে ইরানকে শান্তির প্রস্তাব দেওয়ার সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের গোয়েন্দা তথ্য এবং সামরিক সহায়তা বন্ধ করার পর, ইউক্রেনের পরিস্থিতি এবং আন্তর্জাতিক চাপের মধ্যে অবস্থান নিতে এক ধরনের দ্বিধায় পড়ে গেছে ওয়াশিংটন। এরই মধ্যে, ইরান রাশিয়ার সঙ্গে দৃঢ় সম্পর্ক বজায় রাখার চেষ্টা করছে এবং তাদের সঙ্গে সামরিক এবং বাণিজ্যিক সম্পর্কের দিকে নজর দিচ্ছে।
এভাবে, ইরান ও মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে আলোচনার পথ আরও কঠিন হয়ে উঠছে। ইরান তার পররাষ্ট্রনীতি স্বাধীনভাবে পরিচালনা করার ঘোষণা দিয়েছে এবং একাধিকবার বলে এসেছে যে, তারা নিজেদের স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্বের উপর কোনও ধরনের আঘাত সহ্য করবে না।
এটি ইরান ও মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে দীর্ঘস্থায়ী বিরোধের একটি নতুন অধ্যায়, যেখানে একজন পক্ষ শান্তির প্রস্তাব দিচ্ছে, আর অপর পক্ষ সেই প্রস্তাবকে মেনে না নিয়ে নিজেদের নীতিতে অটল থাকার ঘোষণা দিচ্ছে। ইরান, যেমনটি জানিয়েছে, তার জনগণের স্বার্থের বিরুদ্ধে কোন ধরনের সমঝোতা করবে না এবং দেশের নিরাপত্তা ও স্বাধীনতার জন্য যেকোনো ধরনের পদক্ষেপ নেবে।
এই পরিস্থিতিতে, বিশ্বজুড়ে আশঙ্কা তৈরি হয়েছে যে, মার্কিন প্রেসিডেন্টের নমনীয়তা শেষ পর্যন্ত ইরানকে আলোচনায় আনার পথ খুলে দেবে কিনা, নাকি দুই দেশের সম্পর্ক আরও তীব্র হয়ে ওঠে এবং নতুন সংঘর্ষের পরিস্থিতি তৈরি হয়।
| ফজর | 3:50 AM ভোর |
|---|---|
| যোহর | 12:04 দুপুর |
| আছর | 4:44 PM বিকাল |
| মাগরিব | 6:50 PM সন্ধ্যা |
| এশা | 8:17 PM রাত |
| জুম্মা | 1.30 pm দুপুর |