| বঙ্গাব্দ

শহীদ নাইমার মায়ের আর্তি: 'সংস্কার না হলে বাকি সন্তানদের কী হবে?' | ডা. মাহমুদা মিতু

রিপোর্টারের নামঃ BDS Bulbul Ahmed
  • আপডেট টাইম : 04-05-2026 ইং
  • 14829 বার পঠিত
শহীদ নাইমার মায়ের আর্তি: 'সংস্কার না হলে বাকি সন্তানদের কী হবে?' | ডা. মাহমুদা মিতু
ছবির ক্যাপশন: শহীদ নাইমার মায়ের আর্তি

শহীদ নাইমার রক্তভেজা বারান্দায় ডা. মাহমুদা মিতু: ‘৭২-এর সংবিধানই কি আমাদের সন্তানদের খুনি?’

বিডিএস নিউজ ডেস্ক | ০৪ মে ২০২৬

ঢাকা: জুলাই বিপ্লবের সেই রক্তঝরা স্মৃতি আজও প্রতিটি দেশপ্রেমিক মানুষের হৃদয়ে ক্ষত হয়ে আছে। শপথ গ্রহণের পর জুলাইয়ের অকুতোভয় শহীদ নাইমার বাসায় গিয়ে এক আবেগঘন পরিস্থিতির মুখোমুখি হন সংসদ সদস্য ডা. মাহমুদা মিতু। নিজের ভেরিফাইড ফেসবুক পেজে তিনি সেই অভিজ্ঞতার কথা তুলে ধরে প্রশ্ন তুলেছেন বর্তমান রাষ্ট্রকাঠামো ও সংবিধানের কার্যকারিতা নিয়ে।

পাঠকদের জন্য ডা. মাহমুদা মিতুর ফেসবুক স্ট্যাটাসটি হুবহু তুলে ধরা হলো:

"ভেবে রেখেছিলাম, শপথ নেওয়ার পর প্রথমেই জুলাইয়ের শহীদ নাইমার বাসায় যাবো। যাওয়ার পর আপা এতো খুশি হয়েছিলেন, এত খুশি হবেন আমি ভাবিই নি। নাইমা আমার মেয়ের কাছাকাছি বয়সী। আর তার মা প্রায় আমারই সমবয়সী। নাইমার বাসায় যাওয়ার পর শপথের ভারটা যেন নতুন করে আরও ভারী হয়ে উঠলো আমার কাছে।

মেয়েটা পিজ্জা বানাবে বলে চিকেন নামিয়ে বারান্দায় গিয়েছিল, সেখানেই সে খুন হয়েছে রাষ্ট্রযন্ত্রের হাতে, ৭২ এর সংবিধানের হাতে। যে সংবিধান রাষ্ট্র পরিচালনার সর্বময় ক্ষমতা এক ব্যক্তির হাতে কেন্দ্রীভূত করেছে, সেই কাঠামো ব্যবহার করে পুলিশ, প্রশাসন, বিচারব্যবস্থাকে নিয়ন্ত্রণ করে নিরস্ত্র শিশুদের বুক-মাথায় গুলি চালানো হয়েছে।

ফ্যাসিবাদ তৈরির যে যন্ত্র, সেই কাঠামো ৭২ এর সংবিধান এখনো অটুট রয়েছে। দেশ সংস্কারের নামে আমরা এখনো সেই সংবিধানের গোলকধাঁধার মধ্যেই ঘুরপাক খাচ্ছি। আমি শহীদ নাইমার মাকে জিজ্ঞেস করলাম— 'আপনার কি কোনো চাওয়া আছে? আমি তো সংসদে যাচ্ছি...'

খুব স্পষ্টভাবে তিনি দুটি কথা বললেন: ১. জুলাইয়ের হত্যাকাণ্ডের বিচার চান। ২. দেশের প্রকৃত সংস্কার চান, হাদি হত্যার বিচার চান।

কারণ তার আরও দুইটি সন্তান আছে। সংস্কার না হলে, যদি আমরা আবার সেই আগের বাংলাদেশে ফিরে যাই তাহলে তার বাকি সন্তানদের কী হবে? সংস্কার বাস্তবায়ন না হলে আমরা ফিরে যাবো সেই একই রাজনীতি, একই সিস্টেম, একই সিন্ডিকেটের কাছে।

আপা কাঁদছিলেন। কিন্তু শুধু আবেগ দিয়ে, মায়ের মমতা দিয়ে রাষ্ট্র চলে না। আমাদের রাষ্ট্র চলে ৭২ এর সংবিধান দিয়ে। যে সংবিধান বারান্দায় কাপড় শুকাতে দেয়া আমার সন্তানকে খুন করে। আমাদের ৩৫০ জন এম পি মন্ত্রীদের মাসে একবার এসব মায়েদের কাছে গিয়ে কিছুক্ষণ বসে থাকা উচিত। তখন হয়তো মনে পড়বে ঠিক কোন প্রেক্ষাপটে সেই সবুজ চেয়ারে তারা বসেছে, কেন বসেছে? তাদের প্রধান দায়িত্ব কী?

অনেক দিন পর জুলাইয়ের সে ভয়াবহ স্মৃতি ভেসে উঠলো। গুলিবিদ্ধ নাইমাকে বারান্দা থেকে ধরে নেয়ার চেষ্টা করছে কিছু ছাত্ররা। কি তীব্র অমানবিক দৃশ্য।"

বিশ্লেষকের পর্যবেক্ষণ

ডা. মাহমুদা মিতুর এই বক্তব্য কেবল একজন মায়ের আর্তনাদ নয়, বরং রাষ্ট্র সংস্কারের একটি শক্তিশালী দাবি। ৭২-এর সংবিধানের যে 'গোলকধাঁধা'র কথা তিনি উল্লেখ করেছেন, তা মূলত ক্ষমতার ভারসাম্যহীনতার দিকে ইঙ্গিত করে। শহীদ নাইমার মায়ের এই প্রশ্ন— "সংস্কার না হলে বাকি সন্তানদের কী হবে?"—আসলে পুরো জাতির প্রশ্ন। ২০২৬ সালের নতুন সংসদে এই সংবিধান ও বিচারহীনতার সংস্কৃতির আমূল পরিবর্তনই হবে শহীদদের প্রতি শ্রেষ্ঠ শ্রদ্ধা।


তথ্যসূত্র: ১. ডা. মাহমুদা মিতুর অফিসিয়াল ফেসবুক পেজ (৪ মে ২০২৬)। ২. জুলাই স্মৃতি ফাউন্ডেশন ও শহীদ পরিবার সমন্বয় সেল। ৩. বাংলাদেশ জাতীয় সংসদ সচিবালয়।

আরও খবর জানতে ভিজিট করুন: বাংলাদেশ প্রতিদিন


বিশেষ প্রতিবেদক: বিডিএস বুলবুল আহমেদ

সিনিয়র এসইও কনসালট্যান্ট ও ডিজিটাল পাবলিশার

ওয়েবসাইট: bdsbulbulahmed.com

নিউজটি শেয়ার করুন

এ জাতীয় আরো খবর..
ফেসবুকে আমরা...
নামাজের সময়সূচী
জাতীয় সঙ্গীত
©সকল কিছুর স্বত্বাধিকারঃ বাংলাদেশ প্রতিদিন সত্যের সন্ধানে সব সময় | আমাদের সাইটের কোন বিষয়বস্তু অনুমতি ছাড়া কপি করা দণ্ডনীয় অপরাধ
সকল কারিগরী সহযোগিতায় BDS Digital Marketing Agency