আন্তর্জাতিক ডেস্ক | ০৩ মে ২০২৬
ওয়াশিংটন ডি.সি: ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যকার দীর্ঘস্থায়ী সংঘাত নিরসনে তেহরানের দেওয়া সর্বশেষ ১৪ দফার শান্তি পরিকল্পনা গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। স্থানীয় সময় শনিবার (০৩ মে) এয়ার ফোর্স ওয়ানে ওঠার আগে সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে তিনি এই তথ্য নিশ্চিত করেন। ট্রাম্প জানান, ইরানের পক্ষ থেকে আসা নতুন প্রস্তাবটি তিনি বর্তমানে পর্যালোচনা করছেন এবং এ বিষয়ে শীঘ্রই তাঁর চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত জানাবেন।
কূটনৈতিক সূত্র এবং ইরানের আধা-সরকারি বার্তা সংস্থা তাসনিম নিউজ জানিয়েছে, সংকট নিরসনে সম্প্রতি যুক্তরাষ্ট্র ইরানকে ৯ দফার একটি শান্তি প্রস্তাব দিয়েছিল। তেহরান সেই প্রস্তাবের পাল্টা জবাবে ১৪ দফার একটি নতুন পরিকল্পনা জমা দিয়েছে। দক্ষিণ এশিয়ার শক্তিশালী দেশ পাকিস্তানের সরাসরি মধ্যস্থতায় এই জটিল কূটনৈতিক প্রক্রিয়াটি এগিয়ে চলছে।
তেহরানে নিযুক্ত বিদেশি রাষ্ট্রদূতদের এক সম্মেলনে ইরানের উপ-পররাষ্ট্রমন্ত্রী কাজেম ঘারিভাবাদি স্পষ্টভাবে জানিয়েছেন যে, ইরান যুদ্ধের স্থায়ী অবসান চায়। তিনি বলেন, “আমরা পাকিস্তানের কাছে একটি সুনির্দিষ্ট পরিকল্পনা জমা দিয়েছি। এখন বল যুক্তরাষ্ট্রের কোর্টে। তারা কি কূটনীতির পথে হাঁটবে নাকি সংঘাত বজায় রাখবে—সেই সিদ্ধান্ত তাদেরই নিতে হবে।”
যুক্তরাষ্ট্র আলোচনার জন্য দুই মাসের সময় চেয়ে একটি সাময়িক যুদ্ধবিরতির প্রস্তাব দিলেও ইরান তা নাকচ করে দিয়েছে। তেহরানের দাবি, যাবতীয় সমস্যার সমাধান আগামী ৩০ দিনের মধ্যেই হতে হবে। ইরানের দেওয়া নতুন পরিকল্পনায় বেশ কিছু কঠিন শর্ত যুক্ত করা হয়েছে:
ভবিষ্যতে ইরানের ওপর কোনো সামরিক আগ্রাসন না চালানোর আন্তর্জাতিক গ্যারান্টি।
ইরানের সীমান্ত এলাকা থেকে সকল মার্কিন সেনা ও সরঞ্জাম প্রত্যাহার।
নৌ-অবরোধ ও যাবতীয় অর্থনৈতিক নিষেধাজ্ঞা সম্পূর্ণ প্রত্যাহার।
বিদেশে জব্দ করা ইরানের সকল রাষ্ট্রীয় সম্পদ অবিলম্ব ফেরত।
লেবাননসহ মধ্যপ্রাচ্যের সকল রণাঙ্গনে যুদ্ধের অবসান।
চলতি সপ্তাহের শুরুর দিকে ট্রাম্প ইরানের একটি আগের প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান করলেও দুই পক্ষের মধ্যে আলোচনার দরজা পুরোপুরি বন্ধ হয়নি। বর্তমানে তিন সপ্তাহের একটি যুদ্ধবিরতি কার্যকর রয়েছে, যা এই অঞ্চলে বড় ধরণের সংঘর্ষ রুখে দিয়েছে। ট্রাম্পের এবারের ইতিবাচক ইঙ্গিত মধ্যপ্রাচ্যে স্থায়ী শান্তি ফেরার ক্ষীণ আশা জাগাচ্ছে।
উপসংহার:
প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের ‘পরে জানাব’—এই সংক্ষিপ্ত মন্তব্যটি বিশ্ব রাজনীতিতে বড় ধরণের কৌতূহল সৃষ্টি করেছে। মার্কিন প্রশাসন যদি ইরানের এই কঠোর শর্তগুলোর সাথে সামঞ্জস্য রেখে কোনো সমঝোতায় পৌঁছাতে পারে, তবে এটি হবে ২০২৬ সালের সবচেয়ে বড় কূটনৈতিক বিজয়।
তথ্যসূত্র: তাসনিম নিউজ (ইরান), রয়টার্স ও হোয়াইট হাউস প্রেস পুল।
প্রতিবেদক: বিডিএস বুলবুল আহমেদ
সিনিয়র এসইও কনসালট্যান্ট ও ডিজিটাল পাবলিশার
ওয়েবসাইট:
| ফজর | 3:50 AM ভোর |
|---|---|
| যোহর | 12:04 দুপুর |
| আছর | 4:44 PM বিকাল |
| মাগরিব | 6:50 PM সন্ধ্যা |
| এশা | 8:17 PM রাত |
| জুম্মা | 1.30 pm দুপুর |