বিশেষ প্রতিবেদন: BDS Bulbul Ahmed
তারিখ: ২৬ এপ্রিল ২০২৬
বিভাগ: খেলাধুলা / জনস্বাস্থ্য
বাংলাদেশের আকাশে রোদ এখন শুধু আলো নয়, যেন এক আগুনের চাদর। তাপমাত্রা ৩৬-৩৮ ডিগ্রি সেলসিয়াস ছুঁই ছুঁই; বাস্তবে অনুভূত তাপমাত্রা (Feels like) ৪০ ডিগ্রিরও বেশি। এমন চরম দহনে যখন সাধারণ মানুষের ঘরের বাইরে বের হওয়া দায়, তখন দুপুর ২টা ৪৫ মিনিটে মাঠের লড়াইয়ে নামতে হচ্ছে বাংলাদেশ ফুটবল লিগের খেলোয়াড়দের। ফুটবল যেন এখানে কেবল গোল দেওয়ার লড়াই নয়, বরং এক নির্মম টিকে থাকার পরীক্ষায় পরিণত হয়েছে।
দুপুর ৩টার সূর্য যখন মধ্যগগনে, তখন মাঠের ঘাস হয়ে ওঠে আগুনের মতো উত্তপ্ত। স্থির বাতাসে আর্দ্রতা বেশি থাকায় খেলোয়াড়দের শরীর দ্রুত পানিশূন্য হয়ে পড়ছে। প্রথমার্ধ শেষ হওয়ার আগেই দেখা যাচ্ছে অনেক ফুটবলার হাঁপাচ্ছেন, কারো চোখে-মুখে অবসাদের ছাপ। আন্তর্জাতিক অঙ্গনে ফিফা যেখানে উচ্চ তাপমাত্রায় ‘কুলিং ব্রেক’ বা ম্যাচের সময় পরিবর্তনের কঠোর নির্দেশনা দেয়, সেখানে বাংলাদেশে সেই বাস্তবতা পুরোপুরি উপেক্ষিত।
খেলোয়াড়রা নাম প্রকাশ না করার শর্তে জানিয়েছেন, এই গরমে খেলতে গিয়ে তারা মাথা ঘোরা, বমিভাব এবং মাংসপেশিতে মারাত্মক টানের (Cramp) সম্মুখীন হচ্ছেন।
ডা. বন্দে আলী (হৃদরোগ বিশেষজ্ঞ): তিনি সতর্ক করে বলেন, "৩৫ ডিগ্রির বেশি তাপমাত্রায় দীর্ঘ সময় শারীরিক পরিশ্রম করলে শরীরের তাপ নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থা ভেঙে পড়তে পারে। এটি হিট এক্সস্টেশন থেকে প্রাণঘাতী হিটস্ট্রোক পর্যন্ত ঘটাতে পারে।"
দলিলুর রহমান (ফিজিও): তাঁর মতে, এই গরমে খেলার মানও পড়ে যায়। ফুটবলারদের সৃজনশীলতা কমে আসে এবং খেলা হয়ে পড়ে মন্থর ও প্রাণহীন।
গ্যালারিতে দর্শক উপস্থিতি নেই বললেই চলে। যারা আসছেন, তারাও তীব্র গরমে বেশিক্ষণ থাকতে পারছেন না। প্রশ্ন উঠছে বাফুফের লিগ কমিটির ভূমিকা নিয়ে। কেন বিকাল ৫টা বা সন্ধ্যার দিকে ম্যাচ সরিয়ে নেওয়া হচ্ছে না? আলোর অভাব নাকি সূচির ব্যস্ততা—কোন অজুহাতে খেলোয়াড়দের জীবনকে ঝুঁকির মুখে ঠেলে দেওয়া হচ্ছে?
বিশ্বের বিভিন্ন দেশে এখন গ্রীষ্মকালে দুপুরের খেলা এড়িয়ে চলা হয়। বাংলাদেশের প্রেক্ষাপটে সমাধানগুলো হলো:
সময়সূচি পুনর্বিন্যাস: ম্যাচগুলো অন্তত বিকাল ৪টা ৩০ বা ৫টার পর শুরু করা।
কুলিং ব্রেক: প্রতি ২০-৩০ মিনিট অন্তর বাধ্যতামূলক ৩ মিনিটের বিরতি দেওয়া।
মেডিকেল সাপোর্ট: মাঠে পর্যাপ্ত বরফ, ঠাণ্ডা পানি এবং জরুরি অবস্থায় হিটস্ট্রোক মোকাবিলায় বিশেষ মেডিকেল টিম রাখা।
| বিষয় | বর্তমান অবস্থা (২০২৬) | ফিফা/আন্তর্জাতিক মানদণ্ড |
| ম্যাচের সময় | দুপুর ২:৪৫ - ৩:০০ | বিকেল ৫:০০ এর পর (গ্রীষ্মকালে) |
| তাপমাত্রা | ৩৬° - ৩৮° সেলসিয়াস | ৩২° এর উপরে ঝুঁকি বিবেচনা |
| কুলিং ব্রেক | অনিয়মিত / রেফারি নির্ভর | বাধ্যতামূলক ২-৩ মিনিট |
| দর্শক উপস্থিতি | অত্যন্ত নগণ্য | পূর্ণ গ্যালারি প্রত্যাশিত |
মাঠে যারা দৌড়ান, তারা শুধু খেলোয়াড় নন; তারা একেকটি পরিবারের স্বপ্ন এবং দেশের সম্পদ। দুপুরের আগুনে পুড়ে যদি কোনো প্রতিভা অকালে নিভে যায়, তবে সেই দায় বাফুফেই কি নেবে? লিগ কমিটির সদস্য জাকির হোসেন চৌধুরী জানিয়েছেন তারা বিষয়টি নিয়ে সভায় কথা বলবেন। তবে ফুটবলপ্রেমীদের দাবি—কথায় নয়, দ্রুত কার্যকর পদক্ষেপ চাই।
প্রতিবেদক:বিডিএস বুলবুল আহমেদ
আরও খবর জানতে ভিজিট করুন: বাংলাদেশ প্রতিদিন
| ফজর | 3:50 AM ভোর |
|---|---|
| যোহর | 12:04 দুপুর |
| আছর | 4:44 PM বিকাল |
| মাগরিব | 6:50 PM সন্ধ্যা |
| এশা | 8:17 PM রাত |
| জুম্মা | 1.30 pm দুপুর |