তারিখ: ২০ এপ্রিল ২০২৬
সূত্র: যুগান্তর ও ট্রাইব্যুনাল প্রসিকিউশন
বাংলাদেশের তিনবারের সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়াকে নাজিমউদ্দিন রোডের পরিত্যক্ত কারাগারে ‘স্লো পয়জনিং’ বা ধীরে ধীরে বিষ প্রয়োগের মাধ্যমে হত্যার ষড়যন্ত্র করা হয়েছিল বলে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে আনুষ্ঠানিক অভিযোগ জমা পড়েছে। রোববার (১৯ এপ্রিল) ‘গণতন্ত্রের মা বেগম খালেদা জিয়া ফোরামের’ চেয়ারম্যান মোহাম্মদ মমিনুল হক (মিলন) চিফ প্রসিকিউটর বরাবর এই আবেদনটি দাখিল করেন।
দাখিলকৃত অভিযোগে বলা হয়েছে, ২০০ বছরের পুরনো, জরাজীর্ণ এবং বসবাসের অযোগ্য নাজিমউদ্দিন রোডের নির্জন কারাগারে খালেদা জিয়াকে বন্দি রাখা ছিল একটি সুদূরপ্রসারী ষড়যন্ত্রের অংশ। অভিযোগকারীর দাবি, ওই কারাগারেই তাঁর শরীরে এমন কিছু প্রয়োগ করা হয়েছিল যা ধীরে ধীরে তাঁর লিভার, হার্ট এবং কিডনিকে অকেজো করে দেয়।
অভিযোগে আরও বলা হয়েছে, বিষ প্রয়োগের কিছুদিনের মধ্যেই বেগম জিয়া লিভার সিরোসিস, পরিপাকতন্ত্রে রক্তক্ষরণ এবং আর্থ্রাইটিসের মতো জটিল রোগে আক্রান্ত হন। সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সরকার তাঁকে উন্নত চিকিৎসার জন্য বিদেশে যাওয়ার অনুমতি দেয়নি, যা আন্তর্জাতিক মানবাধিকার আইনের চরম লঙ্ঘন।
বিশেষ উদ্ধৃতি: অভিযোগে বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য মির্জা আব্বাসের একটি বক্তব্য উল্লেখ করা হয়েছে। তিনি জানিয়েছিলেন, জনৈক ভারতীয় সাংবাদিক তাঁকে সতর্ক করেছিলেন যে, বেগম জিয়ার শারীরিক অবনতি এমনভাবে ‘ডিজাইন’ করা হয়েছে যাতে তিনি দুই বছরের বেশি বাঁচতে না পারেন।
কানাডা প্রবাসী মোহাম্মদ মমিনুল হক মিলন তাঁর আবেদনে সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ছাড়াও সাবেক স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী, আইনমন্ত্রী এবং দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) তৎকালীন সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের বিচারের দাবি জানিয়েছেন। তিনি অভিযোগ করেন, মিথ্যা ও বানোয়াট মামলায় সাজা দিয়ে বেগম জিয়াকে তিলে তিলে মৃত্যুর দিকে ঠেলে দেওয়া হয়েছে।
আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের চিফ প্রসিকিউটর কার্যালয় থেকে জানানো হয়েছে যে, অভিযোগটি গুরুত্বের সাথে গ্রহণ করা হয়েছে। এটি তদন্ত সংস্থার কাছে পাঠানো হবে এবং তদন্ত শেষে প্রাপ্ত রিপোর্টের ভিত্তিতে পরবর্তী আইনি পদক্ষেপ নেওয়া হবে।
বেগম খালেদা জিয়ার মৃত্যু (৩০ ডিসেম্বর ২০২৫) বাংলাদেশের রাজনীতিতে একটি শূন্যতার সৃষ্টি করেছে। তাঁর মৃত্যু পরবর্তী এই আইনি লড়াই প্রমাণ করে যে, রাজনৈতিক প্রতিহিংসার আড়ালে কোনো অপরাধ সংঘটিত হয়েছিল কি না, তা নিয়ে জনমনে এখনো গভীর প্রশ্ন রয়েছে। ট্রাইব্যুনালের এই তদন্ত কেবল রাজনৈতিক নয়, বরং চিকিৎসা বিজ্ঞানের ফরেনসিক তথ্যের ভিত্তিতে একটি ঐতিহাসিক বিচারিক প্রক্রিয়া হতে যাচ্ছে।
স্থান: নাজিমউদ্দিন রোডের পুরাতন কারাগার।
পদ্ধতি: স্লো পয়জনিং বা ধীর বিষক্রিয়া।
প্রধান আসামি: শেখ হাসিনা ও তৎকালীন নীতি-নির্ধারকগণ।
পরিণতি: লিভার সিরোসিসসহ বহুমুখী অঙ্গে জটিলতা ও মৃত্যু।
আইনি পদক্ষেপ: আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে তদন্তের আবেদন।
প্রতিবেদক:বিডিএস বুলবুল আহমেদ
আরও খবর জানতে ভিজিট করুন: বাংলাদেশ প্রতিদিন
| ফজর | 3:50 AM ভোর |
|---|---|
| যোহর | 12:04 দুপুর |
| আছর | 4:44 PM বিকাল |
| মাগরিব | 6:50 PM সন্ধ্যা |
| এশা | 8:17 PM রাত |
| জুম্মা | 1.30 pm দুপুর |