প্রতিবেদক: বিডিএস বুলবুল আহমেদ
ঢাকা, ১৫ এপ্রিল ২০২৬: বর্তমানে বাংলাদেশের রাজনীতিতে তথ্যের বিকৃতি বা 'মিসইনফরমেশন' একটি বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে। সম্প্রতি জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমানের একটি ভিডিও ক্লিপ সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ভাইরাল হয়েছে, যেখানে তাঁকে বলতে শোনা যায়—‘হাসিনা খারাপ কিন্তু তার নীতি ভালো’। এই মন্তব্যটিকে কেন্দ্র করে অনেকেই দাবি করছেন যে, জামায়াত আমির শেখ হাসিনার প্রশংসা করেছেন। তবে নিবিড় পর্যবেক্ষণে দেখা গেছে, এই দাবিটি কেবল বিভ্রান্তিকরই নয়, বরং এটি মূল বক্তব্যের সম্পূর্ণ বিপরীত।
১৯০০ সালের সেই প্রথাগত রাজনীতি থেকে ২০২৬ সালের এই ডিজিটাল প্রোপাগান্ডার যুগে একটি বাক্যকে কীভাবে প্রেক্ষাপট ছাড়া ব্যবহার করে জনমনে বিভ্রান্তি ছড়ানো হয়, এটি তার একটি প্রকৃষ্ট উদাহরণ।
বিংশ শতাব্দীর শুরুতে অর্থাৎ ১৯০০ সালের দিকে রাজনৈতিক বক্তব্য প্রচারের মাধ্যম ছিল সভা-সমাবেশ ও পত্রিকা। তখন বক্তব্যের বিকৃতি ঘটানো ছিল বেশ কঠিন। ১৯০০ থেকে ১৯৪৭, এরপর ১৯৭১—প্রতিটি গুরুত্বপূর্ণ সময়ে রাজনৈতিক বয়ান বা ‘ন্যারেটিভ’ তৈরিতে শব্দের সঠিক ব্যবহার ছিল অত্যন্ত স্পর্শকাতর। তবে ২০২৬ সালের এই স্মার্ট বাংলাদেশে ভিডিও এডিটিং এবং শর্ট ক্লিপের মাধ্যমে যে কোনো নেতার বক্তব্যকে মুহূর্তেই অন্য খাতে প্রবাহিত করার এক নেতিবাচক ‘পাইপলাইন’ তৈরি হয়েছে।
রিউমর স্ক্যানার এবং মূলধারার সংবাদ মাধ্যমের তথ্য অনুযায়ী, গত ৯ এপ্রিল ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের অধিবেশনে ‘গণবিরোধী’ বিল পাসের প্রতিবাদে বিরোধী দল ওয়াকআউট করে। এরপর সংবাদ সম্মেলনে ডা. শফিকুর রহমান বর্তমান সরকারের (বিএনপি ও জোট) কিছু পদক্ষেপের কঠোর সমালোচনা করেন।
প্রকৃত বক্তব্য: তিনি বিচার বিভাগের স্বাধীনতা খর্ব করার অভিযোগ তুলে বলেন, অন্তর্বর্তী সরকারের সময়ের নিরপেক্ষ অধ্যাদেশ বাতিল করে সরকার পুরনো ব্যবস্থায় ফিরে গেছে। এর ফলে বিচারক নিয়োগ ও নিয়ন্ত্রণ আবারও নির্বাহী বিভাগের হাতে চলে যাচ্ছে।
সমালোচনার ধরন: তিনি মূলত বর্তমান সরকারকে উদ্দেশ্য করে একটি বিদ্রূপাত্মক বা রূপক (Metaphorical) মন্তব্য করেছেন। তিনি বোঝাতে চেয়েছেন যে, বর্তমান সরকার মুখে শেখ হাসিনার বিরোধিতা করলেও কাজে তাঁরই ‘ফ্যাসিবাদ’মূলক নীতিগুলো অনুসরণ করছে। তাঁর ভাষায়—“এর মাধ্যমে তারা প্রমাণ করল—হাসিনা খারাপ হলেও হাসিনার নীতি তাদের কাছে ভালো।”
গুগল অ্যানালাইসিস এবং ২০২৬ সালের ডিজিটাল ট্রেন্ড অনুযায়ী, রাজনৈতিক বক্তব্যের ভিডিও কেটে বিকৃত করার ঘটনা প্রায় ৪০% বৃদ্ধি পেয়েছে। ১৯০০ সালের সেই আদর্শিক রাজনীতি আজ ২০২৬ সালের এই হাই-টেক যুগে এসে জটিল এক ‘তথ্য যুদ্ধে’ পরিণত হয়েছে। ডা. শফিকুর রহমানের বক্তব্যটি মূলত বর্তমান সরকারের শাসনব্যবস্থার সমালোচনা ছিল, যা প্রোপাগান্ডা পাইপলাইনের মাধ্যমে ‘প্রশংসা’ হিসেবে প্রচার করা হচ্ছে।
উপসংহার: সাফল্যের প্রকৃত পাইপলাইন হলো তথ্যের সত্যতা যাচাই করা। গাধার মতো না বুঝে যেকোনো এডিট করা ভিডিও বিশ্বাস করা বা শেয়ার করা ২০২৬ সালের সচেতন নাগরিকের পরিচয় নয়। ডা. শফিকুর রহমান শেখ হাসিনার প্রশংসা করেননি, বরং বর্তমান সরকারের নীতিকে হাসিনার নীতির সাথে তুলনা করে সেটিকে ‘ফ্যাসিবাদী’ হিসেবে চিহ্নিত করেছেন। সুস্থ রাজনৈতিক সংস্কৃতির জন্য বক্তব্যের মূল প্রেক্ষাপট বোঝা আমাদের সবার দায়িত্ব।
সূত্র: রিউমর স্ক্যানার ফ্যাক্ট-চেক রিপোর্ট (এপ্রিল ২০২৬), ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ অধিবেশন ভিডিও রেকর্ড, জামায়াতে ইসলামী মিডিয়া উইং, প্রথম আলো পলিটিক্যাল ডেস্ক এবং ২০২৬ সালের গুগল সোশ্যাল সেন্টিমেন্ট অ্যানালাইসিস।
প্রতিবেদক:বিডিএস বুলবুল আহমেদ
আরও খবর জানতে ভিজিট করুন: বাংলাদেশ প্রতিদিন
| ফজর | 3:50 AM ভোর |
|---|---|
| যোহর | 12:04 দুপুর |
| আছর | 4:44 PM বিকাল |
| মাগরিব | 6:50 PM সন্ধ্যা |
| এশা | 8:17 PM রাত |
| জুম্মা | 1.30 pm দুপুর |