লিখেছেন: [BDS Bulbul Ahmed]
সময়: ১১ এপ্রিল ২০২৬ | সকাল ১০:৩০
ভাবুন তো একবার, একদিকে বিশ্বের সবচাইতে শক্তিশালী দেশ আমেরিকার ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্স বিমানে করে উড়ে আসছেন, আর অন্যদিকে ইরানের স্পিকার গালিবাফ এক্সে (Twitter) পোস্ট করে বলছেন— “শর্ত না মানলে আমরা চা-ও খাব না!” ঠিক এই নাটকীয় মোড়েই আজ দাঁড়িয়ে আছে ইসলামাবাদের সেরেনা হোটেল। আজ ১১ এপ্রিল, সারা বিশ্বের নজর এখন পাকিস্তানের এই বিলাসবহুল হোটেলের ভেতরকার 'ক্লোজড ডোর' মিটিংয়ের দিকে।
গত কয়েকদিন ধরে আমরা দেখছি ইরান আর আমেরিকার মধ্যে এক চরম স্নায়ুযুদ্ধ। ট্রাম্প ট্রুথ সোশ্যালে সরাসরি হুমকি দিয়ে বলেছেন, “ইরানের হাতে কোনো তাসের কার্ড নেই।” তাঁর দাবি, ইরান জিম্মি করে রেখেছে বিশ্বকে। কিন্তু ইরানও দমে যাওয়ার পাত্র নয়। তারা ইসলামাবাদে এসেই প্রথম দেখা করেছে পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শাহবাজ শরিফের সাথে। এর মাধ্যমে তেহরান বুঝিয়ে দিয়েছে— তারা একা নয়, আঞ্চলিক শক্তিগুলো তাদের পাশেই আছে।
বিডিএস নোট: ট্রাম্পের আত্মবিশ্বাস আর ইরানের ‘সার্বভৌমত্ব’ রক্ষার জেদ—এই দুয়ের মাঝখানে পড়ে পিষছে সাধারণ মানুষ। যদি আজ সমঝোতা না হয়, তবে তেলের দাম কোথায় গিয়ে ঠেকবে, তা কল্পনা করাও কঠিন!
এই বৈঠকটা স্রেফ একটা চা-চক্র নয়, এটি মূলত বিলিয়ন ডলারের একটি ডিল।
আমেরিকার দাবি: ৪৫০ কেজি সমৃদ্ধ ইউরেনিয়াম দিয়ে দিতে হবে, ক্ষেপণাস্ত্র বানানো বন্ধ করতে হবে এবং হরমুজ প্রণালি খুলে দিতে হবে।
ইরানের পালটা চাল: গালিবাফ সাফ জানিয়ে দিয়েছেন— আগে লেবাননে যুদ্ধবিরতি কার্যকর করুন এবং আমাদের আটকে পড়া তেলের টাকা (জব্দ সম্পদ) ফেরত দিন। টাকা হাতে না পাওয়া পর্যন্ত ইরান আলোচনার টেবিলে এক ইঞ্চিও নড়বে না বলে মনে হচ্ছে।
ভার্জিনিয়া যাওয়ার আগে ট্রাম্প সাংবাদিকদের বলেছেন, “কোনো ব্যাক-আপ প্ল্যান লাগবে না।” এর মানে কী? এর মানে হলো—হয় আজ চুক্তি হবে, নয়তো আবার ক্ষেপণাস্ত্র হামলা শুরু হবে। ট্রাম্পের দাবি অনুযায়ী, ইরানে নাকি ইতিমধ্যে ‘রেজিম চেঞ্জ’ হয়ে গেছে! যদিও এর সত্যতা নিয়ে বিতর্ক আছে, তবে এই বক্তব্য ইরানের বর্তমান সরকারকে প্রচণ্ড চাপে রাখার একটি কৌশল মাত্র।
আপনি যদি মনে করেন ইরান-আমেরিকা যুদ্ধ অনেক দূরের কথা, তবে ভুল করছেন। ১. তেলের দাম: হরমুজ প্রণালি বন্ধ থাকলে আপনার বাইকের জ্বালানির দাম কালই দ্বিগুণ হয়ে যেতে পারে। ২. এআই সাম্রাজ্যবাদ: আপনি কি জানেন? আইআরজিসি কিন্তু ওপেনএআই-এর 'স্টারগেট' ডেটা সেন্টার ধ্বংসের হুমকি দিয়ে রেখেছে। অর্থাৎ, আপনার প্রিয় চ্যাটজিপিটিও এই যুদ্ধের রোষানলে পড়তে পারে!
ইসলামাবাদের সেরেনা হোটেলের প্রতিটি করিডোরে এখন রহস্যের ঘ্রাণ। জেডি ভ্যান্স এবং গালিবাফ যখন মুখোমুখি বসবেন, তখন কেবল দুটি দেশের ভাগ্য নয়, বরং ২০২৬ সালের বিশ্ব অর্থনীতির ভবিষ্যৎ নির্ধারিত হবে। ট্রাম্প চাইছেন একটি ‘পারমাণবিক অস্ত্রহীন’ পৃথিবী (অন্তত তাঁর ভাষায়), আর ইরান চাইছে তাদের জব্দ সম্পদ ফিরে পেয়ে অর্থনৈতিক শ্বাসকষ্ট থেকে বাঁচতে।
শেষ পর্যন্ত কি ট্রাম্পের আল্টিমেটাম জয়ী হবে, নাকি ইরানের ‘শর্ত-বোমা’ আমেরিকাকে নতি স্বীকার করতে বাধ্য করবে? তা জানতে আমাদের আরও কয়েক ঘণ্টা অপেক্ষা করতে হবে। তবে একটি কথা সত্যি— ইতিহাস রচিত হচ্ছে আজই, এই ইসলামাবাদেই।
আপনার কী মনে হয়? ট্রাম্পের এই “ব্যাক-আপ প্ল্যান লাগবে না” অহংকার কি যুদ্ধের দিকে নিয়ে যাবে আমাদের? নাকি জেডি ভ্যান্স একটি ঐতিহাসিক চুক্তি নিয়ে ফিরবেন? আপনার মতামত নিচে কমেন্টে শেয়ার করুন, আমি প্রতিটি কমেন্টের উত্তর দেব।
প্রতিবেদক:বিডিএস বুলবুল আহমেদ
আরও খবর জানতে ভিজিট করুন: বাংলাদেশ প্রতিদিন
| ফজর | 3:50 AM ভোর |
|---|---|
| যোহর | 12:04 দুপুর |
| আছর | 4:44 PM বিকাল |
| মাগরিব | 6:50 PM সন্ধ্যা |
| এশা | 8:17 PM রাত |
| জুম্মা | 1.30 pm দুপুর |