বিশেষ রাজনৈতিক প্রতিবেদক: বিডিএস বুলবুল আহমেদ (সিনিয়র ডিজিটাল স্ট্র্যাটেজিস্ট ও পলিটিক্যাল এনালিস্ট)
ঢাকা, ৩ এপ্রিল ২০২৬: জুলাই বিপ্লব পরবর্তী বাংলাদেশের রাজনীতিতে এক অভাবনীয় মেরুকরণ শুরু হয়েছে। জুলাই জাতীয় সনদ বাস্তবায়ন এবং গণভোট অধ্যাদেশ বাতিলের অপচেষ্টার বিরুদ্ধে গতকাল বৃহস্পতিবার (২ এপ্রিল) পল্টনের বিজয়-৭১ চত্বরে আয়োজিত এক বিশাল বিক্ষোভ সমাবেশে বিস্ফোরক মন্তব্য করেছেন আমার বাংলাদেশ পার্টির (এবি পার্টি) চেয়ারম্যান মজিবুর রহমান মঞ্জু। তিনি সাফ জানিয়েছেন, জুলাই সনদ বাস্তবায়নে ব্যর্থ হলে এই বিপ্লবের সাথে জড়িত শীর্ষ নেতাদের ভয়াবহ পরিণতির মুখোমুখি হতে হবে।
মজিবুর রহমান মঞ্জু তাঁর বক্তব্যে বাংলাদেশের ইতিহাসের এক কঠিন সত্যকে সামনে নিয়ে এসেছেন। তিনি তুলনা করেছেন একাত্তরের মুক্তিযুদ্ধ এবং ২০২৬-এর জুলাই বিপ্লবকে।
ঐতিহাসিক তুলনা: তিনি বলেন, “৭১-এর মুক্তিযুদ্ধে যদি আমাদের পরাজয় ঘটত, তবে শেখ মুজিব ও জিয়াউর রহমানসহ সকল মুক্তিযোদ্ধাকে পাকিস্তানের সংবিধান লঙ্ঘনের দায়ে দেশদ্রোহী হিসেবে ফাঁসির কাষ্ঠে ঝুলতে হতো।”
বর্তমান শঙ্কা: একইভাবে, যদি জুলাই সনদ বাস্তবায়ন না হয় এবং জুলাইয়ের শক্তিগুলোর মধ্যে বিভেদের সুযোগে আওয়ামী লীগ আবার ক্ষমতায় ফেরে, তবে তারেক রহমান, ড. মুহাম্মদ ইউনুস, শফিকুর রহমান ও নাহিদ ইসলামসহ সকল বিপ্লবীদের ‘সংবিধান লঙ্ঘন’ ও ‘বিদ্রোহ’—এর অভিযোগে শাস্তির সম্মুখীন হতে হবে।
এবি পার্টির চেয়ারম্যান বর্তমান ক্ষমতাসীন দল বিএনপির কঠোর সমালোচনা করে বলেন, সরকারি দলের কথা ও কাজে মিল নেই। জুলাই জাতীয় সনদ আদেশকে সাংবিধানিক প্রশ্নে বিতর্কিত করা মূলত ‘ফাসিবাদী আওয়ামী লীগের’ কণ্ঠে সুর মেলানোর শামিল।
বিপ্লবের স্বার্থকতা: মঞ্জুর মতে, জুলাই সনদ বাস্তবায়ন না হলে এই অভ্যুত্থান পুরোটাই ব্যর্থ বলে গণ্য হবে।
শহীদদের রক্ত: তিনি আবু সাঈদ, মুগ্ধ, ওয়াসিম এবং ৬ বছরের শিশু রিয়া গোপের রক্তের কথা স্মরণ করিয়ে দিয়ে বলেন, এই রক্তের সাথে বেইমানি করার কোনো সুযোগ নেই।
সমাবেশ শেষে বিজয়নগর, কাকরাইল ও নয়াপল্টন হয়ে যে বিশাল বিক্ষোভ মিছিলটি অনুষ্ঠিত হয়, তার মূল বার্তা ছিল একটিই—“রাজপথই ইতিহাস বদলে দেয়।” এবি পার্টি মনে করছে, সরকার যদি সংসদের ভেতরে জুলাই সনদের সমাধান না করে, তবে রাজপথই হবে তাদের পরবর্তী গন্তব্য।
বিডিএস অ্যানালাইসিস: মজিবুর রহমান মঞ্জুর এই বক্তব্য কেবল একটি রাজনৈতিক ভাষণ নয়, বরং এটি বর্তমান অন্তর্বর্তীকালীন ব্যবস্থার পরবর্তী ‘সেফটি নেট’ বা রক্ষাকবচ নিয়ে এক গভীর উদ্বেগ। যদি জুলাই সনদ সাংবিধানিকভাবে বৈধতা না পায়, তবে ভবিষ্যতে যেকোনো সরকার একে ‘অবৈধ ক্ষমতা দখল’ হিসেবে চিহ্নিত করতে পারে। এই আইনি মারপ্যাঁচই এখন জুলাইয়ের শক্তিগুলোকে রাজপথে নামাতে বাধ্য করছে।
| দাবি/সতর্কবার্তা | বিবরণ |
| জুলাই সনদ বাস্তবায়ন | এটি বাস্তবায়ন না হলে অভ্যুত্থান ব্যর্থ হবে। |
| অধ্যাদেশ বাতিল রুখে দেওয়া | গণভোট অধ্যাদেশ বাতিল করা জনরায়ের অবমাননা। |
| ঐক্যবদ্ধ অবস্থান | বিপ্লবের শক্তিগুলোর মধ্যে বিভেদ আওয়ামী লীগকে ফেরার সুযোগ দেবে। |
| আইনি ঝুঁকি | সংবিধান সংশোধন না হলে নেতাদের ‘ফাঁসির’ ঝুঁকি তৈরি হতে পারে। |
| শহীদদের প্রতি দায়বদ্ধতা | আবু সাঈদ ও মুগ্ধদের রক্তের মর্যাদা রক্ষা করা। |
১৯৯০-এর গণঅভ্যুত্থানের পর প্রধান রাজনৈতিক দলগুলো একটি অভিন্ন রূপরেখায় কাজ করেছিল। কিন্তু ২০২৬ সালে দেখা যাচ্ছে, ক্ষমতায় যাওয়ার মাত্র দেড় মাসের মাথায় বিএনপির সাথে তাদেরই প্রাক্তন ‘আন্দোলনের সঙ্গী’দের (জামায়াত, এবি পার্টি, এনসিপি) আদর্শিক দূরত্ব তৈরি হয়েছে। এই দূরত্ব যদি না কমে, তবে তা দেশের স্থিতিশীলতার জন্য বড় হুমকি হয়ে দাঁড়াতে পারে।
মজিবুর রহমান মঞ্জুর ‘ফাঁসির মঞ্চ’ সংক্রান্ত হুঁশিয়ারিটি অত্যন্ত প্রতীকী। এটি বর্তমান সরকারকে মনে করিয়ে দিচ্ছে যে, বিপ্লব পরবর্তী সংস্কার যদি আইনিভাবে মজবুত না হয়, তবে ইতিহাসের চাকা উল্টো দিকে ঘুরতে সময় লাগে না। এখন দেখার বিষয়, বিএনপি সরকার এই হুঁশিয়ারিকে কতটা গুরুত্বের সাথে নেয় এবং রোববারের সংসদীয় কমিটিতে জুলাই সনদ নিয়ে কী সিদ্ধান্ত আসে।
প্রতিবেদক:বিডিএস বুলবুল আহমেদ
আরও খবর জানতে ভিজিট করুন: বাংলাদেশ প্রতিদিন
| ফজর | 3:50 AM ভোর |
|---|---|
| যোহর | 12:04 দুপুর |
| আছর | 4:44 PM বিকাল |
| মাগরিব | 6:50 PM সন্ধ্যা |
| এশা | 8:17 PM রাত |
| জুম্মা | 1.30 pm দুপুর |