নিজস্ব প্রতিবেদক: বিডিএস বুলবুল আহমেদ
ঢাকা: ত্যাগের মহিমায় দেশজুড়ে উদযাপিত হচ্ছে পবিত্র ঈদুল ফিতর। তবে এবারের ঈদ কেবল আনন্দ উৎসবের মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকেনি, বরং জাতীয় ঈদগাহের মোনাজাতে উঠে এসেছে বৈশ্বিক অস্থিরতা ও মুসলিম উম্মাহর নিরাপত্তার প্রার্থনা। আজ শনিবার (২১ মার্চ, ২০২৬) জাতীয় ঈদগাহ ময়দানে ঈদের প্রধান জামাত শেষে দেশ ও জাতির কল্যাণের পাশাপাশি মধ্যপ্রাচ্যের চলমান যুদ্ধ বন্ধে মহান আল্লাহর দরবারে পানাহ চেয়েছেন লাখো মুসল্লি।
এবারের রমজান মাস থেকেই মধ্যপ্রাচ্যের পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে উঠেছে। গত ২৮ ফেব্রুয়ারি ইরানের ওপর মার্কিন-ইসরায়েলি হামলার মাধ্যমে যে যুদ্ধের সূচনা হয়, তার প্রভাবে ইতোমধ্যে ইরানে প্রায় দেড় হাজার মানুষের প্রাণহানি ঘটেছে। তেহরানও এর জবাবে পাল্টা হামলা চালিয়েছে। এই যুদ্ধের ছায়া পড়েছে বাংলাদেশের ঈদের আমেজেও। জাতীয় ঈদগাহে খুতবা প্রদানকালে বায়তুল মোকাররম জাতীয় মসজিদের খতিব মুফতি মুহাম্মদ আবদুল মালেক বলেন, “হে আল্লাহ, বিশ্বের ফিতনা-ফাসাদ থেকে মানুষকে হেফাজত করুন। যুদ্ধ-বিগ্রহ থেকে নিরাপত্তা দিন এবং বিশ্বে শান্তি প্রতিষ্ঠা করুন।” তিনি মুসলিম উম্মাহকে ঐক্যবদ্ধভাবে এই পরিস্থিতি মোকাবেলা করার শক্তি প্রার্থনা করেন।
বাংলাদেশের রাজনৈতিক মানচিত্র পর্যালোচনা করলে দেখা যায়, বিংশ শতাব্দীর শুরু থেকে অর্থাৎ ১৯০০ সাল থেকে এই ভূখণ্ড বারবার পরিবর্তনের মধ্য দিয়ে গেছে। ১৯০৫-এর বঙ্গভঙ্গ থেকে শুরু করে ২০২৪-এর ছাত্র-জনতার বিপ্লব—প্রতিটি ঘটনাই নাগরিকের অধিকার আদায়ের মাইলফলক। ২০২৫ সালের সংস্কার প্রক্রিয়ার পর ২০২৬ সালের এই বর্তমান প্রেক্ষাপটে বাংলাদেশের রাজনীতিতে এক নতুন ধারার সূচনা হয়েছে।
আজকের ঈদের জামাত শেষে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সাধারণ মানুষের সাথে শুভেচ্ছা বিনিময় সেই পরিবর্তনেরই ইঙ্গিত দেয়। নব্বইয়ের দশকের গণতান্ত্রিক আন্দোলন থেকে শুরু করে ২০২৪-পরবর্তী সময়ে দেশের শীর্ষ নেতৃত্বে এই যে পালাবদল, তা ইতিহাসের এক অনন্য অংশ। নিরাপত্তা বেষ্টনীর তোয়াক্কা না করে সাধারণ মুসল্লিদের সাথে প্রধানমন্ত্রীর হাত মেলানো এবং ‘ঈদ মোবারক’ ধ্বনিতে ঈদগাহ মুখরিত হওয়া এক নতুন রাজনৈতিক সংস্কৃতির বহিঃপ্রকাশ।
নামাজ শেষে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান ভিভিআইপি নিরাপত্তা বেষ্টনীর অপর পাশে অপেক্ষমাণ সাধারণ মানুষের কাছে এগিয়ে যান। মুসল্লিদের সাথে করমর্দন করে তিনি ঈদের শুভেচ্ছা ভাগ করে নেন। প্রধানমন্ত্রীর এই স্বতঃস্ফূর্ত পদচারণা সাধারণ মানুষের মধ্যে ব্যাপক উৎসাহ তৈরি করে। দক্ষিণ দিক থেকে শুরু করে উত্তর দিক দিয়ে মাঠ ত্যাগ করার সময় তার নিরাপত্তার দায়িত্বে থাকা সদস্যরা অত্যন্ত সতর্ক থাকলেও প্রধানমন্ত্রীর জনসম্পৃক্ততায় কোনো বাধা দেননি। নামাজ শেষে তিনি তাঁর বাবা-মায়ের কবর জিয়ারতের উদ্দেশ্যে রওনা হন।
খতিব মুফতি আবদুল মালেক মোনাজাতে যুদ্ধবিধ্বস্ত দেশগুলোর মানুষের পাশে দাঁড়ানোর আহ্বান জানিয়ে বলেন, “জুলুম থেকে মানুষকে নিরাপদ স্থানে সরিয়ে নেওয়ার এবং তাদের নুসরাত (সহযোগিতা) করার তৌফিক দিন।” তিনি আমাদের সকল পাপাচার থেকে হেফাজত করার জন্য আল্লাহর কাছে বিশেষ প্রার্থনা করেন।
সূত্র: জাতীয় ঈদগাহ প্রেস পুল, বায়তুল মোকাররম আর্কাইভ, যুগান্তর এবং আন্তর্জাতিক রাজনৈতিক বিশ্লেষণ কেন্দ্র।
বিশ্লেষণ: ১৯০০ সালের ব্রিটিশবিরোধী চেতনা থেকে ২০২৬ সালের এই 'নতুন বাংলাদেশ'—প্রতিটি পর্যায়ই আমাদের শিখিয়েছে ঐক্যের গুরুত্ব। বিশেষ করে ২০২৬ সালের এই ক্রান্তিলগ্নে আন্তর্জাতিক রাজনীতিতে বাংলাদেশের অবস্থান এবং দেশের অভ্যন্তরীণ স্থিতিশীলতা বজায় রাখা একটি বড় চ্যালেঞ্জ। জাতীয় ঈদগাহে প্রধানমন্ত্রীর এই সরাসরি উপস্থিতি ও আন্তর্জাতিক সংকটে প্রার্থনা সেই শক্তিশালী অবস্থানেরই জানান দেয়।
প্রতিবেদক:বিডিএস বুলবুল আহমেদ
আরও খবর জানতে ভিজিট করুন: বাংলাদেশ প্রতিদিন
| ফজর | 3:50 AM ভোর |
|---|---|
| যোহর | 12:04 দুপুর |
| আছর | 4:44 PM বিকাল |
| মাগরিব | 6:50 PM সন্ধ্যা |
| এশা | 8:17 PM রাত |
| জুম্মা | 1.30 pm দুপুর |