বিশ্লেষক: বিডিএস বুলবুল আহমেদ
বাংলাদেশের সংসদীয় ইতিহাসে এক নতুন অধ্যায়ের সূচনা হতে যাচ্ছে আগামীকাল। ২০২৬ সালের ১২ মার্চ (বৃহস্পতিবার) সকাল ১১টায় বসতে যাচ্ছে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের প্রথম ঐতিহাসিক অধিবেশন। আজ মঙ্গলবার (১১ মার্চ) দুপুরে সংসদ ভবন থেকে বের হয়ে বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ও বর্তমান স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ অধিবেশনের রূপরেখা এবং সরকারের লক্ষ্য সম্পর্কে গুরুত্বপূর্ণ তথ্য প্রদান করেছেন।
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী স্পষ্ট করেছেন যে, এই সংসদ কেবল একটি নিয়মিত অধিবেশন নয়, বরং এটি ছাত্র-জনতার বিপ্লবের আকাঙ্ক্ষাকে ধারণ করার প্ল্যাটফর্ম।
জুলাই সনদের বাস্তবায়ন: আন্দোলনে শহীদদের আকাঙ্ক্ষা এবং ‘জুলাই সনদ’-এ যে জাতীয় ঐক্য ও সংস্কারের প্রতিশ্রুতি দেওয়া হয়েছিল, তার প্রতিফলন ঘটবে এই অধিবেশনে।
জনপ্রত্যাশা: দীর্ঘদিনের রাজনৈতিক পরিবর্তনের পর মানুষের যে উচ্চাশা তৈরি হয়েছে, সংসদীয় কার্যক্রমে সেটির আইনি ও প্রশাসনিক রূপ দেওয়ার প্রক্রিয়া শুরু হবে।
অধিবেশনের শুরুতেই অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ দুটি সাংবিধানিক পদ—স্পিকার ও ডেপুটি স্পিকার নির্বাচন করা হবে।
শপথ গ্রহণ: নির্বাচিত স্পিকার ও ডেপুটি স্পিকারকে রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন সংসদ ভবনেই শপথ পাঠ করাবেন।
রাষ্ট্রপতির ভাষণ: নিয়ম অনুযায়ী রাষ্ট্রপতি অধিবেশনে দিকনির্দেশনামূলক ভাষণ দেবেন, যেখানে সমসাময়িক রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক পরিস্থিতির প্রতিফলন থাকবে বলে আশা করা হচ্ছে।
আজ জাতীয় সংসদ ভবনে সরকারদলীয় সভাকক্ষে বিএনপির সংসদীয় দলের গুরুত্বপূর্ণ বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়েছে। সভায় সভাপতিত্ব করেন সংসদ নেতা ও প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। বৈঠকে আগামীকালের অধিবেশন এবং পরবর্তী বাজেট অধিবেশন নিয়ে কৌশলগত আলোচনা হয়েছে। প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান সংসদ সদস্যদের প্রতি জনগণের সেবক হিসেবে কাজ করার এবং জুলাই সনদের স্পিরিট বজায় রাখার কঠোর নির্দেশনা দিয়েছেন।
সালাহউদ্দিন আহমদের ভাষ্যমতে, ১২ মার্চ শুরু হয়ে ১৫ মার্চ পর্যন্ত অধিবেশন চলার পর একটি সংক্ষিপ্ত বিরতি হতে পারে। এটি মূলত বাজেট অধিবেশনের আগে সরকারের নীতিনির্ধারণী অবস্থান পরিষ্কার করার একটি সুযোগ।
ত্রয়োদশ সংসদের এই প্রথম অধিবেশনটি কেবল সরকার পরিচালনার আনুষ্ঠানিকতা নয়, বরং জুলাই অভ্যুত্থান পরবর্তী নতুন বাংলাদেশের আইনি ভিত্তি তৈরির প্রথম ধাপ। প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নেতৃত্বে সরকার যে ‘জুলাই সনদ’ ধারণ করার অঙ্গীকার করেছে, তা সংসদের ভেতরে কতটা কার্যকরভাবে বিতর্ক ও আইনের মাধ্যমে ফুটে ওঠে, সেটাই এখন দেখার বিষয়। রাষ্ট্রপতির ভাষণ এবং স্পিকার নির্বাচনের মাধ্যমে সংসদীয় গণতন্ত্র পুনরায় সুসংহত হওয়ার পথ প্রশস্ত হবে বলে আশা করা যায়।
বিশ্লেষক: বিডিএস বুলবুল আহমেদ
দেশের রাজনৈতিক পরিবর্তন ও সমসাময়িক খবরের গভীর বিশ্লেষণ পেতে নিয়মিত চোখ রাখুন: বাংলাদেশ প্রতিদিন ওয়েবসাইটে।
| ফজর | 3:50 AM ভোর |
|---|---|
| যোহর | 12:04 দুপুর |
| আছর | 4:44 PM বিকাল |
| মাগরিব | 6:50 PM সন্ধ্যা |
| এশা | 8:17 PM রাত |
| জুম্মা | 1.30 pm দুপুর |