| বঙ্গাব্দ

ত্রয়োদশ সংসদের উপনেতা কে? ড. মোশাররফ না মঈন খান—বিএনপির নীতিনির্ধারণী বিশ্লেষণ

রিপোর্টারের নামঃ BDS Bulbul Ahmed
  • আপডেট টাইম : 05-03-2026 ইং
  • 856863 বার পঠিত
ত্রয়োদশ সংসদের উপনেতা কে? ড. মোশাররফ না মঈন খান—বিএনপির নীতিনির্ধারণী বিশ্লেষণ
ছবির ক্যাপশন: ড. মোশাররফ না মঈন খান

সংসদীয় গণতন্ত্রের বিবর্তন ও ত্রয়োদশ সংসদের উপনেতা নির্বাচন—একটি বিশেষ বিশ্লেষণ

বিশ্লেষক: বিডিএস বুলবুল আহমেদ

বিংশ শতাব্দীর শুরুতে (১৯০০ পরবর্তী) বঙ্গীয় আইনসভার গঠনশৈলী থেকে শুরু করে ২০২৬ সালের এই 'নতুন বাংলাদেশ'—সংসদীয় রীতিনীতিতে নেতার পরেই উপনেতার ভূমিকা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। ১৯৯১ সালে অধ্যাপক ডা. একিউএম বদরুদ্দোজা চৌধুরীর সেই দক্ষ সংসদীয় ভূমিকার পর দীর্ঘ সময় বিএনপি এই পদটি নিয়ে দ্বিধায় ছিল। তবে ২০২৬ সালে তারেক রহমানের নেতৃত্বে 'ইনসাফ কায়েম' এবং 'অভিজ্ঞদের মূল্যায়নের' যে নীতি দেখা যাচ্ছে, তাতে এই পদটি পুনরায় চালুর সম্ভাবনা জোরালো।

সংসদ উপনেতা পদের চারজন আলোচিত প্রার্থীর শক্তি ও সম্ভাবনা বিশ্লেষণ:

১. ড. খন্দকার মোশাররফ হোসেন: অভিজ্ঞতার স্তম্ভ

বিএনপির স্থায়ী কমিটির সবচেয়ে সিনিয়র সদস্যদের একজন। তিনি ছাত্রজীবন থেকেই রাজনীতির সাথে যুক্ত এবং একাধিকবার গুরুত্বপূর্ণ মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব পালন করেছেন।

  • সম্ভাবনা: যেহেতু তাঁকে মন্ত্রিসভায় নেওয়া হয়নি, তাই সংসদীয় কার্যক্রমে তাঁর দীর্ঘ অভিজ্ঞতা কাজে লাগাতে 'সংসদ উপনেতা' হিসেবে তিনি সবচেয়ে শক্তিশালী দাবিদার। ১৯০০-এর দশকের সেই প্রবীণ রাজনীতিকদের মতো তাঁর সংসদীয় জ্ঞান সংসদের মর্যাদা বৃদ্ধি করবে।

২. গয়েশ্বর চন্দ্র রায়: মাঠ ও রাজপথের আপসহীন নেতা

স্থায়ী কমিটির এই সদস্য তাঁর সরাসরি এবং তীক্ষ্ণ রাজনৈতিক অবস্থানের জন্য পরিচিত।

  • সম্ভাবনা: দলের তৃণমূল এবং রাজপথের রাজনীতিতে তাঁর বিশেষ প্রভাব রয়েছে। অসাম্প্রদায়িক রাজনীতির প্রতিচ্ছবি হিসেবে এবং দলের দুর্দিনের ত্যাগী নেতা হিসেবে তাঁর নামটিও তালিকার শীর্ষে রয়েছে। তবে সংসদীয় কূটনীতির চেয়ে মাঠের রাজনীতিতেই তাঁর স্বাচ্ছন্দ্য বেশি বলে মনে করা হয়।

৩. ড. আব্দুল মঈন খান: রুচিশীল ও জ্ঞানভিত্তিক রাজনীতি

অক্সফোর্ড-শিক্ষিত এই রাজনীতিক বিএনপির মেধা ও শিষ্টাচারের অন্যতম আইকন।

  • সম্ভাবনা: আন্তর্জাতিক অঙ্গনে এবং শিক্ষিত সমাজের কাছে ড. মঈন খানের গ্রহণযোগ্যতা আকাশচুম্বী। সংসদীয় বিতর্কে যুক্তি ও তথ্যের উপস্থাপনায় তিনি অনন্য। তাঁর মার্জিত কণ্ঠস্বর এবং সংসদীয় রীতিনীতির জ্ঞান তাকে উপনেতা পদের জন্য একজন আদর্শ প্রার্থী করে তুলেছে।

৪. সেলিমা রহমান: নারীর ক্ষমতায়ন ও দলীয় আনুগত্য

স্থায়ী কমিটির নারী সদস্য সেলিমা রহমান রাজপথের আন্দোলনে অত্যন্ত সক্রিয় ছিলেন।

  • চ্যালেঞ্জ: তিনি সরাসরি নির্বাচিত এমপি নন। তাঁকে এই পদে আনতে হলে সংরক্ষিত নারী আসনের প্রক্রিয়া শেষ করতে হবে। তবে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান যদি নারী নেতৃত্বকে সংসদের ফ্রন্টলাইনে রাখতে চান, তবে তাঁর মনোনয়ন চমক হিসেবে আসতে পারে।


বিডিএস বুলবুল আহমেদ-এর চূড়ান্ত পর্যবেক্ষণ

১৯০০ সালের সেই ব্রিটিশ সংসদীয় ধাঁচ থেকে ২০২৬ সালের এই ডিজিটাল সংসদ—সংসদ উপনেতা পদটি কেবল একটি আলঙ্কারিক পদ নয়। এটি প্রধানমন্ত্রী ও সংসদ নেতার ডান হাত হিসেবে কাজ করে। মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের ইঙ্গিত অনুযায়ী, সংবিধানে সরাসরি বাধ্যবাধকতা না থাকলেও অতীতে ডা. বি চৌধুরী বা সাজেদা চৌধুরীর মতো ব্যক্তিত্বরা এই পদকে অনন্য উচ্চতায় নিয়ে গেছেন। শেষ পর্যন্ত তারেক রহমান হয়তো এমন একজনকে বেছে নেবেন যিনি ড. খন্দকার মোশাররফ হোসেনের মতো অভিজ্ঞ কিংবা ড. মঈন খানের মতো বাকপটু। ১২ মার্চের অধিবেশনেই এই রহস্যের জট খুলবে বলে আশা করা যায়।


তথ্যসূত্র: জাতীয় সংসদ সচিবালয়, বিএনপি নীতিনির্ধারণী ফোরামের মিটিং নোটস এবং ৪ মার্চ ২০২৬-এর জাতীয় সংবাদ মাধ্যম।

বিশ্লেষক: বিডিএস বুলবুল আহমেদ আরও গভীর সংসদীয় বিতর্ক ও রাষ্ট্রীয় নীতি-নির্ধারণী বিশ্লেষণ পেতে ভিজিট করুন: বাংলাদেশ প্রতিদিন

নিউজটি শেয়ার করুন

এ জাতীয় আরো খবর..
ফেসবুকে আমরা...
নামাজের সময়সূচী
জাতীয় সঙ্গীত
©সকল কিছুর স্বত্বাধিকারঃ বাংলাদেশ প্রতিদিন সত্যের সন্ধানে সব সময় | আমাদের সাইটের কোন বিষয়বস্তু অনুমতি ছাড়া কপি করা দণ্ডনীয় অপরাধ
সকল কারিগরী সহযোগিতায় BDS Digital Marketing Agency