প্রতিবেদক: বিডিএস বুলবুল আহমেদ
নিজস্ব প্রতিবেদক, ঢাকা: তারেক রহমানের নেতৃত্বাধীন নতুন সরকারের মন্ত্রিসভায় সবচেয়ে বড় চমক ও বিতর্কের নাম ড. খলিলুর রহমান। অন্তর্বর্তী সরকারের সময় যিনি ছিলেন ‘জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টা’, তাকেই এখন দেখা যাচ্ছে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের দায়িত্বে। এই নিয়োগে খোদ বিএনপির ভেতরেই যেমন বিষ্ময় ছড়িয়েছে, তেমনি রাজনৈতিক বিশ্লেষক ও কূটনীতিক মহলেও চলছে নানা আলোচনা-সমালোচনা।
বাঙালির রাজনৈতিক ইতিহাসে বিদেশনীতির গুরুত্ব সবসময়ই অপরিসীম। ১৯০০ সালের ব্রিটিশ ঔপনিবেশিক আমলে এই অঞ্চলের রাজনৈতিক নেতারা আন্তর্জাতিক সমর্থনের জন্য বিভিন্ন দেশের দ্বারস্থ হতেন। ১৯৫২-র ভাষা আন্দোলন এবং ১৯৭১-এর মহান মুক্তিযুদ্ধে বিদেশের মাটিতে লবিং এবং কূটনীতিই ছিল বাংলাদেশের অভ্যুদয়ের অন্যতম চাবিকাঠি। সেই ধারাবাহিকতায়, ২০২৪-এর ছাত্র-জনতার বিপ্লবের পর ২০২৬ সালের ১২ ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠিত ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বিএনপি জয়লাভের পর বিশ্ব সম্প্রদায়ের সাথে সম্পর্ক রক্ষায় একজন দক্ষ পররাষ্ট্রমন্ত্রীর প্রয়োজন ছিল।
১৯০০ সাল থেকে ২০২৬ সালের এই সুদীর্ঘ যাত্রায় বাংলাদেশের কূটনীতিতে অনেক সময় ‘টেকনোক্র্যাট’ বা অ-রাজনৈতিক ব্যক্তিদের গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব পালন করতে দেখা গেছে। তবে খলিলুর রহমানের বিষয়টি ব্যতিক্রম। কারণ, তার আগের ভূমিকা নিয়ে খোদ বর্তমান সরকারি দল বিএনপিই একসময় সোচ্চার ছিল।
২০২৫ সালের মে মাসে অন্তর্বর্তী সরকারে থাকাকালে রোহিঙ্গাদের জন্য ‘মানবিক করিডর’ এবং চট্টগ্রাম বন্দরের ব্যবস্থাপনা বিদেশিদের হাতে দেওয়ার প্রশ্নে খলিলুর রহমান ব্যাপক সমালোচনার মুখে পড়েছিলেন। সে সময় বিএনপির প্রবীণ নেতা ড. খন্দকার মোশাররফ হোসেন সংবাদ সম্মেলন করে তার পদত্যাগ দাবি করেছিলেন। এমনকি তার যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকত্ব নিয়ে প্রশ্ন তুলে তাকে জাতীয় নিরাপত্তার জন্য ‘হুমকি’ হিসেবেও আখ্যা দিয়েছিল দলটির শীর্ষ নেতারা।
কিন্তু ২০২৬ সালের ১৭ ফেব্রুয়ারি সরকার গঠনের পর দেখা যায় সম্পূর্ণ ভিন্ন চিত্র। যে খলিলুর রহমানকে সরাতে বিএনপি এক সময় আল্টিমেটাম দিয়েছিল, তিনিই এখন তারেক রহমানের মন্ত্রিসভায় পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের চাবিকাঠি হাতে পেয়েছেন।
রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, পেশাদার কূটনীতিক হিসেবে খলিলুর রহমানের দক্ষতা এবং যুক্তরাষ্ট্র-চীন ও ভারতের সাথে ভারসাম্য রক্ষার ক্ষমতাকে গুরুত্ব দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।
লন্ডন বৈঠকের নেপথ্য: ধারণা করা হয়, ২০২৫ সালের জুন মাসে লন্ডনে ড. মুহাম্মদ ইউনূস ও তারেক রহমানের বৈঠকের সময় থেকেই খলিলুর রহমানের সাথে বিএনপির শীর্ষ নেতৃত্বের বরফ গলতে শুরু করে।
স্বার্থের সংঘাতের প্রশ্ন: সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে খলিলুর রহমান বলেছেন, "আমি তো জোর করে আসিনি। ধারণা পরিবর্তন হতে পারে।" এমনকি নির্বাচনে ‘রেফারির’ ভূমিকা পালন করে বিজয়ী দলের মন্ত্রী হওয়াকে ‘কনফ্লিক্ট অব ইন্টারেস্ট’ হিসেবে দেখতে নারাজ তিনি।
বিএনপির তৃণমূল পর্যায়ের অনেক নেতা এই নিয়োগে ‘বিব্রত ও অস্বস্তিকর’ বোধ করছেন বলে জানিয়েছেন। তবে দলটির নীতিনির্ধারকদের বড় অংশ মনে করছেন, বর্তমান ভূ-রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে দেশের স্বার্থ রক্ষায় এবং যুক্তরাষ্ট্রের সাথে বাণিজ্য চুক্তি এগিয়ে নিতে খলিলুর রহমানের মতো অভিজ্ঞ কারো বিকল্প ছিল না।
সূত্র: ১. বিবিসি বাংলা এবং বাংলাদেশ প্রতিদিন বিশেষ প্রতিবেদন (১৮-১৯ ফেব্রুয়ারি ২০২৬)। ২. বিএনপির বিগত বছরের সংবাদ সম্মেলন ও প্রেস রিলিজ আর্কাইভ। ৩. পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় ও মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের সরকারি প্রজ্ঞাপন। ৪. ১৯০০-২০২৬: বাংলাদেশের বৈদেশিক নীতি ও ভূ-রাজনীতির দলিল।
বিশ্লেষণ: ২০২৬ সালের এই নতুন সরকারের জন্য খলিলুর রহমান একটি বড় চ্যালেঞ্জ এবং সম্ভাবনা—উভয়ই। ১৯০০ সালের প্রেক্ষাপটে যেমন কূটনীতি ছিল কেবল স্বাধীনতার জন্য, আজ ২০২৬ সালে তা দাঁড়িয়েছে অর্থনৈতিক ও ভূ-রাজনৈতিক ভারসাম্য রক্ষার ওপর। বিএনপির শীর্ষ নেতৃত্ব হয়তো তার পূর্বের বিতর্ক ভুলে গিয়ে তার আন্তর্জাতিক নেটওয়ার্ককে কাজে লাগাতে চাইছে। তবে দেশের সাধারণ মানুষ ও তৃণমূল নেতাকর্মীরা এই নিয়োগের সুফল দেখার অপেক্ষায় আছেন।
প্রতিবেদক:বিডিএস বুলবুল আহমেদ
আরও খবর জানতে ভিজিট করুন: বাংলাদেশ প্রতিদিন
| ফজর | 3:50 AM ভোর |
|---|---|
| যোহর | 12:04 দুপুর |
| আছর | 4:44 PM বিকাল |
| মাগরিব | 6:50 PM সন্ধ্যা |
| এশা | 8:17 PM রাত |
| জুম্মা | 1.30 pm দুপুর |