প্রতিবেদক: বিডিএস বুলবুল আহমেদ
নীলফামারী ডেস্ক: উত্তরাঞ্চলের রাজনীতিতে এক অভাবনীয় পরিবর্তনের ঢেউ লেগেছে। ২০২৬ সালের ১২ ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠিত ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে নীলফামারী জেলার ৪টি সংসদীয় আসনেই বেসরকারিভাবে জয়লাভ করেছেন বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর প্রার্থীরা। দীর্ঘ কয়েক দশকের রাজনৈতিক সমীকরণ বদলে দিয়ে এই জেলাটি এখন জামায়াতের শক্তিশালী ঘাঁটিতে পরিণত হলো। শুক্রবার (১৩ ফেব্রুয়ারি) সকালে জেলা রিটার্নিং কর্মকর্তা ও জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ নায়িরুজ্জামান আনুষ্ঠানিকভাবে এই ফলাফল ঘোষণা করেন।
রিটার্নিং কর্মকর্তার কার্যালয় থেকে প্রাপ্ত তথ্য অনুযায়ী, জেলার চারটি আসনেই জামায়াতের প্রার্থীদের নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী ছিলেন বিএনপি ও বিএনপি জোটের প্রার্থীরা।
| সংসদীয় আসন | বিজয়ী প্রার্থী (দল) | প্রাপ্ত ভোট | নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী (দল) | প্রাপ্ত ভোট |
| নীলফামারী-১ | মাওলানা আব্দুস সাত্তার (জামায়াত) | ১,৪৯,২১৪ | মাওলানা মঞ্জুরুল ইসলাম আফেন্দী (বিএনপি জোট) | ১,১৮,১৬০ |
| নীলফামারী-২ | আলফারুক আব্দুল লতিফ (জামায়াত) | ১,৪৫,২০২ | শাহরিন ইসলাম চৌধুরী তুহিন (বিএনপি) | ১,৩৪,৫৭৯ |
| নীলফামারী-৩ | মাওলানা ওবায়দুল্লাহ সালাফী (জামায়াত) | ১,০৮,৫৬০ | সৈয়দ আলী (বিএনপি) | ৮৯,১০২ |
| নীলফামারী-৪ | হাফেজ আব্দুল মুনতাকিম (জামায়াত) | ১,২৪,৮৬৫ | আব্দুল গফুর সরকার (বিএনপি) | ৮১,৫২৬ |
বিজয় ঘোষণার পর জেলা জুড়ে আনন্দ মিছিল করেছেন জামায়াতের নেতাকর্মীরা। কোথাও মিষ্টি বিতরণ, আবার কোথাও শোকরানা ও দোয়া মাহফিল অনুষ্ঠিত হয়েছে। বিজয়ী প্রার্থীরা নীলফামারীর উন্নয়নে সাধারণ জনগণকে সঙ্গে নিয়ে কাজ করার অঙ্গীকার করেছেন।
বাংলাদেশের রাজনীতি কেবল গত কয়েক বছরের নয়, বরং এটি গত সোয়া এক শতাব্দীর দীর্ঘ লড়াইয়ের ফসল।
বিংশ শতাব্দীর সূচনা (১৯০০-১৯৪৭): ১৯০৫ সালের বঙ্গভঙ্গ এবং ১৯১১ সালে তা রদ করার মধ্য দিয়ে এই ভূখণ্ডের রাজনৈতিক মেরুকরণ শুরু হয়। ১৯৪০-এর লাহোর প্রস্তাবের ভিত্তিতে ১৯৪৭ সালে পাকিস্তান সৃষ্টি হলেও বাঙালির বঞ্চনা কমেনি।
মুক্তিযুদ্ধ ও স্বাধীনতা (১৯৫২-১৯৭১): ৫২-র ভাষা আন্দোলন ছিল বাঙালির সাংস্কৃতিক স্বাধীনতার ভিত্তি। এরপর ৬৬-র ছয় দফা এবং ৬৯-র গণঅভ্যুত্থানের চূড়ান্ত ফসল ১৯৭১-এর মহান মুক্তিযুদ্ধ। স্বাধীনতার পর ১৯৭৫-এর পটপরিবর্তন এবং বিএনপির প্রতিষ্ঠাতা জিয়াউর রহমানের হাত ধরে বহুদলীয় গণতন্ত্রের যাত্রা শুরু হয়।
স্বৈরাচার পতন ও ছাত্র-জনতার বিপ্লব (১৯৯০-২০২৪): ১৯৯০-এর গণঅভ্যুত্থানে স্বৈরাচারের পতন এবং পরবর্তী সময়ে সংসদীয় গণতন্ত্রের চড়াই-উতরাই। ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট ছাত্র-জনতার ঐতিহাসিক ‘জুলাই বিপ্লব’ ১৫ বছরের ফ্যাসিবাদী শাসনের অবসান ঘটায়।
২০২৫ ও ২০২৬-এর নতুন ধারা: ২০২৫ সালটি ছিল রাষ্ট্র সংস্কারের বছর। প্রধান উপদেষ্টা ঘোষিত রোডম্যাপ অনুযায়ী ২০২৬ সালের ১২ ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠিত নির্বাচনটি ছিল প্রকৃত অর্থেই জনগণের ভোটাধিকার পুনরুদ্ধারের মহাউৎসব। এবারই ২০০৮ সালের পর সর্বোচ্চ ৫১টি রাজনৈতিক দল এবং ২ হাজার ২৯ জন প্রার্থী এই নির্বাচনে অংশ নিয়েছেন।
নির্বাচন পরবর্তী এক বিশেষ সংবাদ সম্মেলনে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান বলেন, "রাজনীতি যদি দেশের মানুষের জন্য হয়, তাহলে পাস করার গ্যারান্টি নিয়ে কোনো নির্বাচন হয় না। মানুষ যেভাবে গ্রহণ করবে, সেটাকেই সম্মান জানাতে হবে।" তিনি আরও স্পষ্ট করেন যে, জামায়াত পুরনো রাজনৈতিক সংস্কৃতিতে ফিরে না গিয়ে একটি ইতিবাচক ও কল্যাণমুখী ধারা প্রতিষ্ঠা করতে চায়।
অন্যদিকে, বিজয়ী হওয়ার পর এক প্রতিক্রিয়ায় বিএনপির চেয়ারম্যান তারেক রহমানকে শুভেচ্ছা জানিয়েছেন ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি। মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর এক ফেসবুক পোস্টে লিখেছেন, "সর্বশক্তিমান আল্লাহর কাছে শুকরিয়া। দীর্ঘ ১৭ বছর সংগ্রামের পর আজকের এই বিজয় বাংলাদেশের বিজয়।"
রাজনৈতিক বিশ্লেষক বিডিএস বুলবুল আহমেদ মনে করেন, নীলফামারীর এই ফলাফল প্রমাণ করে যে সাধারণ ভোটাররা এখন উন্নয়নের পাশাপাশি আদর্শিক এবং কাঠামোগত পরিবর্তন চায়। বিশেষ করে এবার নির্বাচনে তরুণ ভোটারদের অভাবনীয় উপস্থিতিই জামায়াতের এই বিশাল জয়ের পেছনে মূল চালিকাশক্তি হিসেবে কাজ করেছে।
সূত্র: জেলা রিটার্নিং কর্মকর্তার কার্যালয় (নীলফামারী), যুগান্তর ডিজিটাল ডেস্ক, বাংলাদেশ প্রতিদিন নিউজ আর্কাইভ, নির্বাচন কমিশন সচিবালয় (২০২৬) এবং ঐতিহাসিক রাষ্ট্রীয় গেজেট।
প্রতিবেদক:বিডিএস বুলবুল আহমেদ
আরও খবর জানতে ভিজিট করুন: বাংলাদেশ প্রতিদিন
| ফজর | 3:50 AM ভোর |
|---|---|
| যোহর | 12:04 দুপুর |
| আছর | 4:44 PM বিকাল |
| মাগরিব | 6:50 PM সন্ধ্যা |
| এশা | 8:17 PM রাত |
| জুম্মা | 1.30 pm দুপুর |