প্রতিবেদক: বিডিএস বুলবুল আহমেদ
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের ডামাডোলে রাজনীতির মাঠ এখন তপ্ত। এই মাহেন্দ্রক্ষণে এক জমকালো অনুষ্ঠানের মাধ্যমে নিজেদের নির্বাচনী ইশতেহার ঘোষণা করেছে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী। বুধবার (৪ ফেব্রুয়ারি ২০২৬) সন্ধ্যায় রাজধানীর বনানীর হোটেল শেরাটনে আয়োজিত অনুষ্ঠানে এই ইশতেহার উন্মোচন করা হয়। ইশতেহারে ‘জাতীয় স্বার্থে আপসহীন বাংলাদেশ’ গড়ার প্রত্যয় ব্যক্ত করে ২৬টি বিষয়কে অগ্রাধিকার দেওয়া হয়েছে।
জামায়াত আমিরের ঘোষিত ইশতেহারে রাষ্ট্র পরিচালনার প্রতিটি স্তরে পরিবর্তনের ছোঁয়া লক্ষ্য করা গেছে। এর মধ্যে উল্লেখযোগ্য কয়েকটি হলো:
রাষ্ট্রীয় সংস্কার: সমানুপাতিক (পিআর) পদ্ধতির নির্বাচন এবং শক্তিশালী তত্ত্বাবধায়ক সরকার ব্যবস্থা।
বিপ্লবের উত্তরাধিকার: জুলাই বিপ্লবের ইতিহাস সংরক্ষণ, শহীদ পরিবারের পুনর্বাসন এবং ‘জুলাই সনদ’ বাস্তবায়ন।
অর্থনীতি ও কর্মসংস্থান: ব্যাংক খাতের সংস্কার, মেধার ভিত্তিতে নিয়োগ এবং সরকারি চাকরিতে বিনামূল্যে আবেদন।
পরিকাঠামো: ঢাকার সঙ্গে বিভাগীয় শহরের যাতায়াত ২-৩ ঘণ্টায় নামিয়ে আনা এবং স্বল্পমূল্যে আবাসন নিশ্চিত করা।
নিরাপত্তা: চাঁদাবাজ ও সন্ত্রাসমুক্ত নিরাপদ রাষ্ট্র এবং ফ্যাসিবাদী ব্যবস্থার পুনর্জন্ম রোধ।
বাংলাদেশের রাজনীতির এই বিবর্তন কেবল একদিনের নয়, এটি শতাব্দী প্রাচীন সংগ্রামের ফসল:
১৯০৫-১৯৭১: বঙ্গভঙ্গ থেকে শুরু করে ১৯৪৭-এর দেশভাগ এবং পরবর্তীতে ১৯৫২-র ভাষা আন্দোলন ছিল এই ভূখণ্ডের মানুষের স্বাধিকারের ভিত্তি। ১৯৭১ সালের মুক্তিযুদ্ধে বাংলাদেশের জন্ম হলেও রাজনৈতিক অস্থিরতা পিছু ছাড়েনি।
১৯৯০-এর গণঅভ্যুত্থান: নব্বইয়ের স্বৈরাচার বিরোধী আন্দোলনে জামায়াতসহ প্রধান দলগুলোর অংশগ্রহণ সংসদীয় গণতন্ত্রের পুনর্জন্ম দিয়েছিল।
২০২৪-২০২৬: ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট ছাত্র-জনতার নজিরবিহীন অভ্যুত্থান এবং ১৫ বছরের ফ্যাসিবাদী শাসনের পতনের পর ২০২৬-এর এই নির্বাচনকে দেখা হচ্ছে ‘নতুন বাংলাদেশ’ গড়ার কারিগর হিসেবে। জামায়াতের ২৬ দফার অগ্রাধিকার মূলত এই দীর্ঘ বঞ্চনার অবসান ঘটিয়ে একটি ইনসাফভিত্তিক সমাজ গড়ার প্রতিশ্রুতি।
ইশতেহারে যুবকদের রাষ্ট্র পরিচালনায় প্রাধান্য এবং প্রযুক্তিনির্ভর স্মার্ট সমাজ গঠনের ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। নারীদের জন্য নিরাপদ ও মর্যাদাপূর্ণ কর্মপরিবেশ এবং ২০৩০ সালের মধ্যে ভেজালমুক্ত খাদ্য ও ‘তিন শূন্য ভিশন’ (শূন্য বর্জ্য, শূন্য বন্যা-ঝুঁকি ও শূন্য পরিবেশগত অবক্ষয়) বাস্তবায়নের অঙ্গীকার করা হয়েছে।
জামায়াত তাদের ইশতেহারে ‘সংখ্যাগুরু-সংখ্যালঘু’ বিভাজন মুছে ফেলে সকল নাগরিককে সমান অধিকার দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দিয়েছে। এটি বাংলাদেশের রাজনৈতিক ইতিহাসে এক নতুন ধারার সূচনা করতে পারে বলে ধারণা করছেন বিশ্লেষকরা।
সূত্র: জামায়াতে ইসলামীর কেন্দ্রীয় কার্যালয়, যুগান্তর, বাংলাদেশ প্রতিদিন আর্কাইভ এবং ৪ ফেব্রুয়ারি ২০২৬-এর ইশতেহার ঘোষণা অনুষ্ঠানের সরাসরি তথ্য।
বিশ্লেষণ: জামায়াতের এই ইশতেহারটি মূলত একটি আধুনিক ও প্রযুক্তিভিত্তিক কল্যাণ রাষ্ট্রের নীল নকশা। বিশেষ করে যাতায়াত ব্যবস্থার আমূল পরিবর্তন এবং দুর্নীতিমুক্ত করার অঙ্গীকার সাধারণ ভোটারদের মনে কতটা সাড়া ফেলে, সেটিই এখন দেখার বিষয়।
প্রতিবেদক:বিডিএস বুলবুল আহমেদ
আরও খবর জানতে ভিজিট করুন: বাংলাদেশ প্রতিদিন
| ফজর | 3:50 AM ভোর |
|---|---|
| যোহর | 12:04 দুপুর |
| আছর | 4:44 PM বিকাল |
| মাগরিব | 6:50 PM সন্ধ্যা |
| এশা | 8:17 PM রাত |
| জুম্মা | 1.30 pm দুপুর |