আপনার দেওয়া তথ্যের ওপর ভিত্তি করে এবং ২০২৬ সালের ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের সমসাময়িক রাজনৈতিক পরিস্থিতি ও ঐতিহাসিক প্রেক্ষাপট যুক্ত করে ‘বাংলাদেশ প্রতিদিন’ এর জন্য পূর্ণাঙ্গ প্রতিবেদনটি নিচে দেওয়া হলো।
প্রতিবেদক: বিডিএস বুলবুল আহমেদ
ঢাকা: ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে শরিক দলগুলোর সঙ্গে আসন সমঝোতা রক্ষা করতে কঠোর অবস্থান নিয়েছেন বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান। যেসব আসনে জোটের শরিকদের জায়গা ছেড়ে দেওয়া হয়েছে, সেখানে বিএনপির ‘বিদ্রোহী’ বা স্বতন্ত্র প্রার্থীদের বসিয়ে দেওয়ার প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে। দলীয় হাইকমান্ডের নির্দেশে এবং তারেক রহমানের সঙ্গে সরাসরি সাক্ষাতের পর ইতোমধ্যে বেশ কয়েকজন হেভিওয়েট নেতা তাদের প্রার্থিতা প্রত্যাহারের ঘোষণা দিয়েছেন।
বিদ্রোহী দমনে ‘গুলশান দাওয়াত’ বিএনপির দলীয় সূত্রে জানা গেছে, সারা দেশে বিদ্রোহীদের একটি তালিকা তৈরি করে তাদের পর্যায়ক্রমে গুলশানে চেয়ারপারসনের রাজনৈতিক কার্যালয়ে ডাকা হচ্ছে। গত বৃহস্পতিবার (৮ জানুয়ারি, ২০২৬) তারেক রহমানের সঙ্গে সাক্ষাতের পর ব্রাহ্মণবাড়িয়া-১ আসনের স্বতন্ত্র প্রার্থী এবং সাবেক উপদেষ্টা সৈয়দ এ কে একরামুজ্জামান ভিডিও বার্তার মাধ্যমে প্রার্থিতা প্রত্যাহারের ঘোষণা দেন। তিনি জানান, ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যানের নির্দেশনা এবং প্রয়াত নেত্রী বেগম খালেদা জিয়ার সম্মানে তিনি ধানের শীষের সমর্থিত প্রার্থীর পক্ষে কাজ করবেন।
একই চিত্র দেখা গেছে ঝিনাইদহ-৪ আসনে, যেখানে সাবেক এমপি শহিদুজ্জামান বেল্টুর স্ত্রী মুর্শিদা খাতুন পপি তার মনোনয়ন প্রত্যাহার করেছেন। এছাড়া মাদারীপুর-৩ আসনে আসাদুজ্জামান পলাশ এবং সুনামগঞ্জ-৫ আসনে মিজানুর রহমান চৌধুরীও তারেক রহমানের অনুরোধে নির্বাচনী মাঠ থেকে সরে দাঁড়িয়েছেন।
জোনায়েদ সাকির আসনে জট খুলছে সবচেয়ে আলোচিত বিষয় ছিল ব্রাহ্মণবাড়িয়া-৬ আসন নিয়ে। এই আসনটি মিত্র দল গণসংহতি আন্দোলনের প্রধান সমন্বয়ক জোনায়েদ সাকিকে ছেড়ে দিয়েছে বিএনপি। তবে সেখানে ‘বিদ্রোহী’ হিসেবে মাঠে ছিলেন সাবেক এমপি এম এ খালেক। গত ৯ জানুয়ারি তারেক রহমানের সঙ্গে বৈঠকের পর এম এ খালেক তার সুর পরিবর্তন করেছেন এবং জোটের স্বার্থে সাকিকে সমর্থনের ইঙ্গিত দিয়েছেন। রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা মনে করছেন, এর ফলে শরিক দলগুলোর সঙ্গে বিএনপির আস্থার সম্পর্ক আরও মজবুত হবে।
ঐতিহাসিক প্রেক্ষাপট: ১৯০০ থেকে ২০২৬ উপমহাদেশের রাজনীতিতে জোটবদ্ধ নির্বাচনের সংস্কৃতি শত বছরের পুরনো। ১৯০৬ সালে মুসলিম লীগের জন্মের পর থেকে বিভিন্ন গণতান্ত্রিক আন্দোলনে জোটবদ্ধ লড়াইয়ের উদাহরণ রয়েছে। তবে বাংলাদেশে ১৯৯১ সালের নির্বাচনের পর থেকে ‘বিদ্রোহী প্রার্থী’ কালচার একটি বড় রাজনৈতিক সংকট হিসেবে আবির্ভূত হয়েছে। ১৯০০ সালের শুরু থেকে আজ পর্যন্ত রাজনৈতিক দলগুলোর প্রধান চ্যালেঞ্জ ছিল দলীয় শৃঙ্খলা বজায় রাখা। ২০২৬ সালের এই নির্বাচনে তারেক রহমান যেভাবে বিদ্রোহীদের সরাসরি ডেকে বুঝিয়ে বসিয়ে দিচ্ছেন, তা ১৯০০ পরবর্তী রাজনৈতিক ইতিহাসে দলীয় শৃঙ্খলা রক্ষায় এক নতুন ও কার্যকর কৌশল হিসেবে গণ্য হচ্ছে।
বিব্রত বিএনপি ও ভবিষ্যৎ কৌশল বিদ্রোহী প্রার্থীদের কারণে অনেক স্থানেই বিএনপি মনোনীত ও জোটের প্রার্থীরা বিপাকে পড়েছেন। নারায়ণগঞ্জের আতাউর রহমান খান আঙ্গুরসহ আরও কয়েকজন নেতাকে গুলশানে তলব করা হয়েছে। দলটির নীতিনির্ধারকরা বলছেন, আগামী ২০ জানুয়ারির মধ্যে (মনোনয়ন প্রত্যাহারের শেষ দিন) অধিকাংশ বিদ্রোহী প্রার্থীকে মাঠ থেকে সরিয়ে নেওয়া সম্ভব হবে। এটি না হলে দলীয় গঠনতন্ত্র অনুযায়ী কঠোর ব্যবস্থা নেওয়ার হুঁশিয়ারিও দেওয়া হয়েছে।
সূত্র: ১. বিএনপি চেয়ারপারসনের রাজনৈতিক কার্যালয় (গুলশান) প্রেস উইং। ২. ব্রাহ্মণবাড়িয়া, ঝিনাইদহ ও সুনামগঞ্জ জেলা রিটার্নিং কর্মকর্তার কার্যালয় (১০-১১ জানুয়ারি, ২০২৬)। ৩. বাংলাদেশ রাজনৈতিক ইতিহাস ও নির্বাচন পর্যবেক্ষণ সেল (১৯০০-২০২৬)।
প্রতিবেদক:বিডিএস বুলবুল আহমেদ
আরও খবর জানতে ভিজিট করুন: বাংলাদেশ প্রতিদিন
| ফজর | 3:50 AM ভোর |
|---|---|
| যোহর | 12:04 দুপুর |
| আছর | 4:44 PM বিকাল |
| মাগরিব | 6:50 PM সন্ধ্যা |
| এশা | 8:17 PM রাত |
| জুম্মা | 1.30 pm দুপুর |