| বঙ্গাব্দ

ভেনেজুয়েলার ডায়েরি: ট্রাম্পের গুন্ডামি নাকি মাদুরোর পাপের ফল?

রিপোর্টারের নামঃ BDS Bulbul Ahmed
  • আপডেট টাইম : 04-01-2026 ইং
  • 4226011 বার পঠিত
ভেনেজুয়েলার ডায়েরি: ট্রাম্পের গুন্ডামি নাকি মাদুরোর পাপের ফল?
ছবির ক্যাপশন: ভেনেজুয়েলার ডায়েরি

ভেনেজুয়েলা ডায়েরি: সার্বভৌমত্ব বনাম ভোটচুরি—ট্রাম্প কি নেহেরুর ছায়ায়?

বিশ্লেষণ: বিডিএস বুলবুল আহমেদ

ভেনেজুয়েলার রাজধানী কারাকাসে শনিবার শেষ রাতে যা ঘটে গেল, তাকে এক কথায় ‘রাজনৈতিক থ্রিলার’ বললেও কম বলা হবে। ডোনাল্ড ট্রাম্পের নির্দেশ— ‘যাও, ওকে তুলে আনো!’ আর সেই হুকুম তামিল করতে ডেল্টা ফোর্স ঢুকে পড়ল এক সার্বভৌম রাষ্ট্রের অন্দরে। প্রেসিডেন্ট নিকোলা মাদুরোকে সপরিবারে তুলে নিয়ে আসা হলো আমেরিকায়। এই ঘটনা বিশ্বজুড়ে নিন্দার ঝড় তুললেও, ইতিহাসের পাতা উল্টালে দেখা যায় অন্য কোনো এক দেশের রাষ্ট্রপ্রধানকে তুলে আনার নজির একদম নতুন নয়।

ইতিহাসের আয়নায় নেহেরুর ‘অপারেশন’

ভারতের প্রথম প্রধানমন্ত্রী জওহরলাল নেহেরু এমন দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছিলেন দু’বার। ১. নেপালের রাজা ত্রিভুবন: কাঠমান্ডু থেকে সপরিবারে তাকে তুলে ভারতে আনা হয়েছিল। ২. সুকর্ণো (ইন্দোনেশিয়া): ইন্দোনেশিয়ার তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী সুকর্ণোকে আনতে যে পাইলট গিয়েছিলেন, তিনি ছিলেন ওড়িশার প্রবাদপ্রতিম নেতা বিজু পট্টনায়ক।

তবে পার্থক্য একটাই—নেহেরুর সেই অপারেশন ছিল সংশ্লিষ্ট রাষ্ট্রপ্রধানদের নিরাপত্তার স্বার্থে এবং তাঁদের নিজেদের অনুরোধে। কিন্তু ট্রাম্প যা করেছেন, তা পরিষ্কার ভাষায় ‘অপহরণ’। ট্রাম্পের এই গুন্ডামির সাহস এসেছে মাদুরোর ক্ষমতার ওপর অবৈধ দখল থেকেই।

তেল, স্বচ্ছতা ও হুগো শাভেজের উত্তরাধিকার

ভেনেজুয়েলার রাজনীতি বুঝতে হলে গত ২০ বছরের ইতিহাস দেখা জরুরি। একসময় হুগো শাভেজ তেলের সম্পদের জোরে দেশটিকে উন্নত করেছিলেন। তিনি ছিলেন স্বৈরাচারী কিন্তু জনপ্রিয়। তাঁর আমলের নির্বাচন ব্যবস্থা ছিল ভারতের ভিভিপ্যাট-এর চেয়েও উন্নত। ইভিএম থেকে স্লিপ বের হতো, সেই স্লিপ ভোটাররা বাক্সে ফেলতেন এবং বুথেই গণনা হতো। সেই স্বচ্ছ ব্যবস্থায় শাভেজের জয়কে কেউ ভুয়া বলতে পারত না।

কিন্তু মাদুরো ক্ষমতায় আসার পর সব বদলে গেল। ২০২৪-এর নির্বাচনে যখন বিরোধী নেত্রী মারিয়া কোরিনা মাচাডো জনপ্রিয় হয়ে উঠছিলেন, মাদুরো তাকে ‘দেশবিরোধী’ তকমা দিয়ে অযোগ্য ঘোষণা করেন। ঠিক যেমনটা আমাদের দক্ষিণ এশীয় রাজনীতিতেও বিরোধীদের দমনে প্রায়ই দেখা যায়।

মাদুরো: একজন ‘সস্তা ভোটচোর’?

২০২৪-এর নির্বাচনে বিরোধী প্রার্থী এদমুন্দো গঞ্জালেজ ৮০% ভোটে জয়ী হওয়ার প্রমাণ (১৭সি ফর্মের মতো স্লিপের হিসাব) ইন্টারনেটে প্রকাশ করে দিয়েছিলেন। কিন্তু মাদুরো সেনাবাহিনী ও বিচারব্যবস্থাকে হাতে রেখে নিজেকে বিজয়ী ঘোষণা করেন। অর্থাৎ, তিনি রাষ্ট্রপ্রধান হিসেবে নিজেকে বৈধ দাবি করলেও জনগণের চোখে তিনি ছিলেন শুধুই একজন ‘ভোটচোর’।

গতকাল মাদুরোকে তুলে নিয়ে যাওয়ার পর ভেনেজুয়েলার রাস্তায় কোনো প্রতিবাদ নেই। নাগরিকরা তাদের ‘যশস্বী’ রাষ্ট্রপতির অপহণের পর কান্নাকাটি করছে না। প্রতিবাদ দেখা যাচ্ছে বরং ভারতের সোশ্যাল মিডিয়ায়!

সার্বভৌমত্ব বনাম বাস্তবতা

ট্রাম্প ভেনেজুয়েলায় গণতন্ত্র বাঁচাতে যাননি, তাঁর টার্গেট বিশ্বের বৃহত্তম তেলের খনি। কিন্তু তিনি জানতেন, মাদুরোর জনসমর্থন এখন শূন্যের কোঠায়। সার্বভৌমত্বের ওপর আঘাত অবশ্যই নিন্দনীয়, কিন্তু যে রাষ্ট্রপ্রধান জনগণের ভোট চুরি করে গদিতে বসেন, তার প্রতি সহানুভূতির ঢেউ তোলাও বৃথা।

আপনি কিছু মানুষকে কিছু সময়ের জন্য বোকা বানাতে পারেন, কিন্তু সব মানুষকে সব সময়ের জন্য নয়। মাদুরো আজ সেই সত্যেরই মুখোমুখি।

প্রতিবেদক:বিডিএস বুলবুল আহমেদ
আরও খবর জানতে ভিজিট করুনবাংলাদেশ প্রতিদিন

নিউজটি শেয়ার করুন

এ জাতীয় আরো খবর..
ফেসবুকে আমরা...
নামাজের সময়সূচী
জাতীয় সঙ্গীত
©সকল কিছুর স্বত্বাধিকারঃ বাংলাদেশ প্রতিদিন সত্যের সন্ধানে সব সময় | আমাদের সাইটের কোন বিষয়বস্তু অনুমতি ছাড়া কপি করা দণ্ডনীয় অপরাধ
সকল কারিগরী সহযোগিতায় BDS Digital Marketing Agency