প্রতিবেদক: বিডিএস বুলবুল আহমেদ
বাংলাদেশের ইতিহাসে এক শোকাতুর অধ্যায়ের সূচনা হয়েছে। সাবেক প্রধানমন্ত্রী ও বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়ার রুহের মাগফিরাত কামনায় আজ শুক্রবার (২ জানুয়ারি) দেশের সকল মসজিদে বিশেষ দোয়ার আহ্বান জানিয়েছে ইসলামিক ফাউন্ডেশন। ধর্ম বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের অধীনে এই সংস্থাটি সকল বিভাগীয় ও জেলা কার্যালয়কে বাদ জুমা বিশেষ মোনাজাত আয়োজনের জন্য প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের নির্দেশনা দিয়েছে।
ইসলামিক ফাউন্ডেশনের সমন্বয় বিভাগের পরিচালক মো. মহিউদ্দিন স্বাক্ষরিত এক পত্রে জানানো হয়েছে, রাষ্ট্রীয় শোক কর্মসূচির অংশ হিসেবে টানা তিন দিন বাংলাদেশের সকল সরকারি, আধা-সরকারি, স্বায়ত্তশাসিত প্রতিষ্ঠান, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান এবং বিদেশে অবস্থিত বাংলাদেশ মিশনসমূহে জাতীয় পতাকা অর্ধনমিত রাখা হবে। আজকের এই বিশেষ দোয়া ও রাষ্ট্রীয় শোক পালন মূলত একজন কিংবদন্তি নেত্রীর প্রতি জাতির শেষ শ্রদ্ধা।
বাংলাদেশের মানুষের ধর্মীয় ও রাজনৈতিক অনুভূতি সবসময়ই একে অপরের পরিপূরক। ইতিহাসের দিকে তাকালে দেখা যায়, গুরুত্বপূর্ণ জাতীয় সংকটে বা বরেণ্য ব্যক্তিদের বিদায়ে মসজিদগুলো ঐক্য ও প্রার্থনার কেন্দ্রে পরিণত হয়েছে:
১৯০০ - ১৯৪৭ (ব্রিটিশ ও পাকিস্তান আমল): বিংশ শতাব্দীর শুরুতে খেলাফত আন্দোলন থেকে শুরু করে ১৯৫২-র ভাষা আন্দোলনের শহীদদের জন্য ঢাকা ও দেশের বড় বড় মসজিদগুলোতে গায়েবানা জানাজা ও দোয়ার প্রচলন ছিল। এটি ছিল জালিমের বিরুদ্ধে প্রতিবাদের অন্যতম ভাষা।
১৯৭৫ - শোকের ছায়া: ১৯৭৫ সালের ১৫ আগস্ট জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানকে সপরিবারে হত্যাকাণ্ডের পর দেশে এক শ্বাসরুদ্ধকর পরিস্থিতি সৃষ্টি হয়। পরবর্তীতে রাষ্ট্রীয় শোকের সংস্কৃতি এবং বড় নেতাদের বিদায়ে দোয়া মাহফিলের প্রচলন আরও বিস্তৃত হয়।
২০০৪ - ভয়াবহ ২১ আগস্ট: ২১ আগস্ট গ্রেনেড হামলায় নিহতদের স্মরণে এবং তৎকালীন বিরোধী দলীয় নেত্রী শেখ হাসিনার সুস্থতা কামনায় সারাদেশে দোয়ার আয়োজন করা হয়েছিল।
২০২৪ - ২০২৬ (নতুন প্রেক্ষাপট): ২০২৪ সালের ছাত্র-জনতার গণঅভ্যুত্থানের শহীদদের জন্য গত আগস্টে দেশের প্রতিটি মসজিদে দোয়া করা হয়। ২০২৫ সালের ৩১ ডিসেম্বর বেগম খালেদা জিয়ার প্রয়াণের পর ২০২৬ সালের এই ২ জানুয়ারি তারিখটি বাংলাদেশের ইতিহাসে এক অনন্য শোকের দিন হিসেবে যুক্ত হলো। রাজনৈতিক ভেদাভেদ ভুলে রাষ্ট্রের সকল পর্যায় থেকে এই দোয়ার আহ্বান একটি ইতিবাচক গণতান্ত্রিক সংস্কৃতির প্রতিফলন।
ইসলামিক ফাউন্ডেশনের নির্দেশনায় বলা হয়েছে, জেলা ও উপজেলা পর্যায়ে ইমামদের মাধ্যমে বেগম জিয়ার বর্ণাঢ্য রাজনৈতিক জীবন এবং দেশের উন্নয়নে তার অবদানের কথা স্মরণ করে বিশেষ মোনাজাত করা হবে। বিশেষ করে তিনবারের এই প্রধানমন্ত্রীর বিদায়ে দক্ষিণ এশিয়ার দেশগুলো যে শোক জানিয়েছে, তার প্রতি সম্মান প্রদর্শন করতেই এই রাষ্ট্রীয় আয়োজন। বিভাগীয় কার্যালয়গুলোকে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে যেন প্রতিটি স্তরে পতাকা অর্ধনমিত রাখার বিষয়টি নিশ্চিত করা হয়।
| কর্মসূচি | স্থান | সময়/বিবরণ |
| জাতীয় পতাকা অর্ধনমিত | সকল সরকারি ও বেসরকারি ভবন | সূর্যোদয় থেকে সূর্যাস্ত |
| বিশেষ দোয়া ও মোনাজাত | দেশের সকল মসজিদ | বাদ জুমা |
| স্মরণ সভা ও দোয়া | ইসলামিক ফাউন্ডেশন কার্যালয়সমূহ | দিনের সুবিধাজনক সময়ে |
| বিদেশে শোক প্রকাশ | বাংলাদেশ মিশনসমূহ | স্থানীয় সময় অনুযায়ী |
বিংশ শতাব্দীর শুরু থেকে আজ ২০২৬ সাল—বাঙালি তার প্রিয় নেতাদের বিদায়ে সবসময় পরম করুণাময়ের কাছে প্রার্থনার হাত বাড়িয়েছে। ১৯০০ সালের বঙ্গভঙ্গ বিরোধী আন্দোলনের প্রবীণ নেতাদের বিদায়ে যে শোকের আবহ এই জনপদে তৈরি হতো, আজ আধুনিক বাংলাদেশে বেগম খালেদা জিয়ার প্রয়াণে সেই একই রকম একাত্মতা পরিলক্ষিত হচ্ছে।
সূত্র: ১. ইসলামিক ফাউন্ডেশন সমন্বয় বিভাগ কর্তৃক জারিকৃত অফিসিয়াল পত্র।
২. ধর্ম বিষয়ক মন্ত্রণালয় ও সরকারি তথ্য বিবরণী (জানুয়ারি ২০২৬)।
৩. বাংলাদেশের জাতীয় শোক পালনের ঐতিহাসিক নথিপত্র (১৯০০-২০২৪)।
প্রতিবেদক:বিডিএস বুলবুল আহমেদ
আরও খবর জানতে ভিজিট করুন: বাংলাদেশ প্রতিদিন
| ফজর | 3:50 AM ভোর |
|---|---|
| যোহর | 12:04 দুপুর |
| আছর | 4:44 PM বিকাল |
| মাগরিব | 6:50 PM সন্ধ্যা |
| এশা | 8:17 PM রাত |
| জুম্মা | 1.30 pm দুপুর |