হাদি হত্যাকাণ্ডে জড়িত যুবলীগ কর্মী হিমন গ্রেফতার: অস্ত্র ও বিপুল বিস্ফোরক উদ্ধার
প্রতিবেদক: বিডিএস বুলবুল আহমেদ
ঢাকা: জুলাই-আগস্টের ছাত্র-জনতার বিপ্লবের পর সারা দেশে অবৈধ অস্ত্র উদ্ধার ও অপরাধীদের গ্রেফতারে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর চিরুনি অভিযান অব্যাহত রয়েছে। এরই ধারাবাহিকতায় শহীদ শরিফ ওসমান হাদি হত্যাকাণ্ডে সরাসরি জড়িত মোটরসাইকেল চালক আলমগীরের ঘনিষ্ঠ সহযোগী এবং আদাবর থানা যুবলীগ কর্মী হিমনকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। বুধবার (২৪ ডিসেম্বর ২০২৫) সন্ধ্যায় তেজগাঁও বিভাগের মোহাম্মদপুর জোনের অতিরিক্ত উপ-পুলিশ কমিশনার (এডিসি) মো. জুয়েল রানা গণমাধ্যমকে এই তথ্য নিশ্চিত করেছেন।
পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে পুলিশ জানতে পারে আদাবর এলাকার একটি আবাসিক হোটেলে ঘাতক হিমন অবস্থান করছেন। ওই তথ্যের ভিত্তিতে অভিযান চালিয়ে আদাবরের রাজ্জাক হোটেল থেকে প্রথমে তাকে গ্রেফতার করা হয়। পরবর্তীতে তাকে প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে পাওয়া তথ্যের ভিত্তিতে আদাবরের ১৭/বি এলাকার মেহেদীর বাসায় অভিযান চালানো হয়। সেখান থেকে একটি বিদেশি পিস্তল, তিন রাউন্ড গুলি এবং নাশকতার উদ্দেশ্যে মজুদ করা বিপুল পরিমাণ বিস্ফোরক উদ্ধার করে পুলিশ।
তদন্তকারী কর্মকর্তাদের তথ্যমতে, হিমন প্রায় দুই মাস আগে দুবাই থেকে বাংলাদেশে ফেরেন এবং হাদি হত্যাকাণ্ডের অন্যতম হোতা ফয়সাল ও আলমগীরের সঙ্গে সমন্বয় করে নাশকতামূলক কর্মকাণ্ডে লিপ্ত হন। জুলাই গণহত্যার বিচারিক কাজ শুরু হওয়ার পর থেকেই তিনি আত্মগোপনে ছিলেন। পুলিশ জানিয়েছে, তাকে অধিকতর জিজ্ঞাসাবাদের জন্য রিমান্ডের আবেদন জানানো হবে।
বাংলাদেশের রাজনৈতিক ইতিহাসে ছাত্র ও সাধারণ জনতার ওপর সশস্ত্র হামলার সংস্কৃতি দীর্ঘদিনের। ১৯৫০-এর দশকে রাষ্ট্রভাষা বাংলার দাবিতে সোচ্চার ছাত্রদের ওপর পুলিশের গুলির ঘটনা ঘটেছিল ১৯৫২ সালের ২১ ফেব্রুয়ারি। তৎকালীন মুসলিম লীগ সরকার বুলেট দিয়ে কণ্ঠরোধ করতে চেয়েছিল, যা শেষ পর্যন্ত ১৯৭১-এর স্বাধীনতার বীজ বুনে দিয়েছিল।
পরবর্তীতে আশির দশকে এরশাদ বিরোধী আন্দোলনে নুর হোসেন থেকে শুরু করে ডাক্তার মিলন পর্যন্ত বহু ছাত্রনেতাকে প্রাণ দিতে হয়েছে। কিন্তু ২০২৪ সালের জুলাই-আগস্টের গণহত্যা পূর্বের সব রেকর্ড ছাড়িয়ে যায়। বিশ্লেষকদের মতে, ১৯৫২ থেকে ২০২৫—এই দীর্ঘ পরিক্রমায় যারাই সাধারণ ছাত্র-জনতার ওপর সশস্ত্র হামলা চালিয়েছে, ইতিহাস তাদের আস্তাকুঁড়ে নিক্ষেপ করেছে। ২০২৫ সালের বর্তমান সময়টি সেইসব অপরাধীদের বিচারের মুখোমুখি করার এক নতুন সূচনালগ্ন।
অতিরিক্ত উপ-পুলিশ কমিশনার (এডিসি) মো. জুয়েল রানা জানান, "হাদি হত্যাকাণ্ডের প্রতিটি আসামিকে আইনের আওতায় আনা হবে। উদ্ধারকৃত বিদেশি পিস্তল ও বিস্ফোরক প্রমাণ করে যে, তারা বড় ধরনের নাশকতার ছক কষছিল।" স্থানীয়দের দাবি, আদাবর ও মোহাম্মদপুর এলাকায় যুবলীগ ও ছাত্রলীগের যে সশস্ত্র ক্যাডার বাহিনী গড়ে উঠেছিল, তাদের সমূলে উৎপাটন করতে হবে।
সূত্র: ১. ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশ (ডিএমপি) প্রেস বিজ্ঞপ্তি ও তেজগাঁও বিভাগীয় দপ্তর। ২. শহীদ শরিফ ওসমান হাদি হত্যা মামলার এফআইআর ও তদন্ত প্রতিবেদন। ৩. বাংলাদেশ আর্কাইভস ও ছাত্র আন্দোলনের ঐতিহাসিক রেকর্ড (১৯৫০-২০২৫)।
প্রতিবেদক:বিডিএস বুলবুল আহমেদ
আরও খবর জানতে ভিজিট করুন: বাংলাদেশ প্রতিদিন
| ফজর | 3:50 AM ভোর |
|---|---|
| যোহর | 12:04 দুপুর |
| আছর | 4:44 PM বিকাল |
| মাগরিব | 6:50 PM সন্ধ্যা |
| এশা | 8:17 PM রাত |
| জুম্মা | 1.30 pm দুপুর |