ঢাকা: আসন্ন ত্রয়োদশ সংসদ নির্বাচনকে দেশের দুটি বিপরীতমুখী শক্তির লড়াই হিসেবে মন্তব্য করেছেন বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। তিনি বলেছেন, একদিকে বাংলাদেশের পক্ষে উদার গণতন্ত্রের শক্তি, অন্যদিকে ধর্মের কথা বলে বিভ্রান্ত করা সেই পুরনো স্বাধীনতাবিরোধী শক্তি।
রোববার (১৪ ডিসেম্বর) রাজধানীর কাকরাইলের ডিপ্লোমা ইঞ্জিনিয়ার্স ইনস্টিটিউটের হলে জাতীয়তাবাদী মুক্তিযোদ্ধা দল ও জাতীয়তাবাদী মুক্তিযুদ্ধ প্রজন্মের উদ্যোগে বিজয় দিবস উপলক্ষে আয়োজিত এক আলোচনা সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ মন্তব্য করেন। সভার শিরোনাম ছিল—'জাতির ক্রান্তি লগ্নে গণতন্ত্র রক্ষায় জাতীয় সংসদ নির্বাচন অপরিহার্য'।
বিএনপি মহাসচিব এবারের নির্বাচনকে চিহ্নিত করে বলেন, “এবারের নির্বাচনটা হবে দুটো শক্তির মধ্যে। একটা শক্তি হচ্ছে বাংলাদেশের পক্ষের শক্তি। এই শক্তি হচ্ছে উদার গণতন্ত্রের পক্ষের শক্তি, এই শক্তি হচ্ছে সত্যিকার অর্থেই গণতন্ত্রকে প্রতিষ্ঠার শক্তি।”
তিনি দ্বিতীয় শক্তিটিকে উল্লেখ করে বলেন, “আর আরেকটি শক্তি হচ্ছে, সেই পেছনে পড়া—যারা আমাদেরকে সবসময় বিভ্রান্ত করতে ধর্মের কথা বলে।”
মির্জা ফখরুল ১৯৭১ সালের মুক্তিযুদ্ধের কথা স্মরণ করিয়ে দিয়ে বলেন, “আমরা একাত্তর সালকে ভুলতে পারি না। আমরা কি সেই (স্বাধীনতার পক্ষের) শক্তির দিকে থাকব নাকি, আমরা যারা সেটাকে নস্যাৎ করতে চেয়েছিল তাদের দিকে থাকব?”
তিনি বিশ্বাস করেন, দেশের মানুষ সঠিক সিদ্ধান্ত নেবে এবং সেই সিদ্ধান্ত হবে নির্বাচনে ধানের শীষের মার্কাকে (প্রতীক) বেছে নেওয়া। তার মতে, এবার শহীদ বুদ্ধিজীবী দিবস অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ, কারণ এটি বাংলাদেশের মানুষকে স্বাধীনতা, সার্বভৌমত্ব ও গণতন্ত্রকে বেছে নেওয়া নাকি অতীতের স্বাধীনতাবিরোধী শক্তিকে বেছে নেওয়া—এই মেরুকরণের (Polaization) সামনে এনে দিয়েছে।
মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর স্বাধীনতাবিরোধী শক্তির ইতিহাস টেনে আনেন। তিনি বলেন, এই শক্তিটিই আজকে আবার মাথা চাড়া দিয়ে উঠেছে এবং মানুষকে ধর্মের নামে বিভ্রান্ত করছে—যা তারা ১৯৭১ সালেও করেছিল। তিনি আরও বলেন, এই শক্তি কেবল একাত্তরেই নয়, ১৯৪৭ সালেও পাকিস্তান আন্দোলনের বিরোধিতা করেছিল।
তিনি পরিষ্কারভাবে বলেন, যারা তার জন্মকে (বাংলাদেশকে) অস্বীকার করেছে, স্বাধীনতাকে অস্বীকার করেছে, তাদের বিশ্বাস করার কোনো কারণ থাকতে পারে না।
আলোচনা সভার শেষ পর্যায়ে বিএনপি মহাসচিব দলের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান-এর প্রত্যাবর্তন প্রসঙ্গে কথা বলেন। তিনি আল্লাহর কাছে শুকরিয়া আদায় করে বলেন, “আমাদের নেতা তিনি দীর্ঘ ১৭ বছর নির্বাসনে থাকার পরে ইনশাআল্লাহ আগামী ২৫ ডিসেম্বর তিনি আমাদের মাঝে এসে উপস্থিত হবেন।”
তিনি নেতা-কর্মীদের প্রতি আহ্বান জানিয়ে বলেন, “আসুন, আমরা ২৫ তারিখে তাকে এমন এক সংবর্ধনা জানাই, যেটা অতীতে কখনো কোনো নেতা বাংলাদেশে পায়নি। আমরা সবাই প্রস্তুত আছি, ইনশাআল্লাহ।”
মুক্তিযোদ্ধা দলের সভাপতি ইশতিয়াক আজিজ উলফাতের সভাপতিত্বে সভায় আরও বক্তব্য দেন বিএনপি চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা আবদুস সালাম, সৈয়দ মোয়াজ্জেম হোসেন আলাল, মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক সম্পাদক লে. কর্নেল (অব.) জয়নুল আবেদিন, মুক্তিযোদ্ধা দলের মিজানুর রহমান, নজরুল ইসলাম, এমএ হালিম, এমএ হাকিম খান, এবং জাতীয়তাবাদী মুক্তিযুদ্ধ প্রজন্মের সদস্যসচিব কেএম কামরুজ্জামান নান্নু প্রমুখ।
১৪ ডিসেম্বর, ২০২৫ তারিখে রাজধানীর ডিপ্লোমা ইঞ্জিনিয়ার্স ইনস্টিটিউট হলে মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর-এর বক্তব্য।
জাতীয়তাবাদী মুক্তিযোদ্ধা দল ও জাতীয়তাবাদী মুক্তিযুদ্ধ প্রজন্মের আয়োজিত আলোচনা সভা।
বিডিএস বুলবুল আহমেদ (এসইও কনসাল্ট্যান্ট ও ডিজিটাল মার্কেটিং স্পেশালিস্ট)
আরও খবর জানতে ভিজিট করুন: পালসবাংলাদেশ ওয়েবসাইটে।
| ফজর | 3:50 AM ভোর |
|---|---|
| যোহর | 12:04 দুপুর |
| আছর | 4:44 PM বিকাল |
| মাগরিব | 6:50 PM সন্ধ্যা |
| এশা | 8:17 PM রাত |
| জুম্মা | 1.30 pm দুপুর |