| বঙ্গাব্দ

কাজী নিয়োগে ঐতিহাসিক আইন সংশোধন: এখন থেকে কওমী দাওরায়ে হাদিস ডিগ্রিধারীরাও নিকাহ রেজিস্ট্রার হতে পারবেন - ড. আসিফ নজরুল

রিপোর্টারের নামঃ BDS Bulbul Ahmed
  • আপডেট টাইম : 07-12-2025 ইং
  • 4661682 বার পঠিত
কাজী নিয়োগে ঐতিহাসিক আইন সংশোধন: এখন থেকে কওমী দাওরায়ে হাদিস ডিগ্রিধারীরাও নিকাহ রেজিস্ট্রার হতে পারবেন - ড. আসিফ নজরুল
ছবির ক্যাপশন: ড. আসিফ নজরুল

কাজী নিয়োগে যুগান্তকারী পরিবর্তন: এখন থেকে কওমী মাদ্রাসার দাওরায়ে হাদিস ডিগ্রিধারীরাও নিকাহ রেজিস্ট্রার হতে পারবেন; আইন সংশোধন করে ঘোষণা দিলেন উপদেষ্টা ড. আসিফ নজরুল

প্রতিবেদকের নাম: বিডিএস বুলবুল আহমেদ

 ধর্মীয় শিক্ষা ও কর্মসংস্থান: কাজী নিয়োগে নতুন দিগন্ত

বাংলাদেশের ধর্মীয় শিক্ষাব্যবস্থা ও সরকারি নিয়োগ প্রক্রিয়ায় এক যুগান্তকারী পরিবর্তন আনা হলো। এখন থেকে কওমী মাদ্রাসার স্বীকৃত বোর্ড হতে দাওরায়ে হাদিস সনদধারী ব্যক্তিরাও নিকাহ রেজিস্ট্রার (কাজী) পদে আবেদন করার সুযোগ পাবেন। এই গুরুত্বপূর্ণ তথ্যটি রোববার (৭ ডিসেম্বর) নিজের ভেরিফায়েড ফেসবুক পেজের দেওয়া এক পোস্টে জানিয়েছেন অন্তর্বর্তী সরকারের আইন, বিচার ও সংসদ বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টা ড. আসিফ নজরুল

আইন উপদেষ্টা জানান, আগে এই পদে আবেদন করার সুযোগ কেবলমাত্র আলিয়া মাদ্রাসার আলিম সনদধারী ব্যক্তিদের জন্য সীমাবদ্ধ ছিল। আইন মন্ত্রণালয় এই সুযোগটি সমাজের বৃহত্তর জনগোষ্ঠীর জন্য উন্মুক্ত করার লক্ষ্যে সংশ্লিষ্ট আইন সংশোধন করেছে।

আইন উপদেষ্টার ঘোষণা: "আজ থেকে কওমী মাদ্রাসার স্বীকৃত বোর্ড হতে দাওরায়ে হাদিস সনদধারী ব্যক্তিরাও এই পদে আবেদন করতে পারবেন।"

১৯৫০ থেকে ২০২৫: কওমী শিক্ষার দীর্ঘ সংগ্রাম

বাংলাদেশের স্বাধীনতা পূর্ববর্তী সময় (১৯৫০-এর দশক) থেকেই কওমী মাদ্রাসা শিক্ষা স্রোতের বাইরে ছিল। এই ধারার শিক্ষা সরকার থেকে সরাসরি স্বীকৃতি পেত না। স্বাধীনতার পর বিভিন্ন সময়ে কওমী মাদ্রাসার সর্বোচ্চ ডিগ্রি দাওরায়ে হাদিসকে সাধারণ শিক্ষার মাস্টার্স ডিগ্রির সমমান দেওয়ার দাবি উঠলেও তা দীর্ঘদিন ধরে রাজনৈতিক বিতর্কের কেন্দ্রে ছিল।

  • ঐতিহাসিক স্বীকৃতি: দীর্ঘ আন্দোলনের পর, ২০১৮ সালে সরকার কওমী মাদ্রাসার দাওরায়ে হাদিসকে (যা মূলত আরবি ও ইসলামী আইনের ওপর সর্বোচ্চ ডিগ্রি) সাধারণ শিক্ষার স্নাতকোত্তর (মাস্টার্স) ডিগ্রির সমমান প্রদান করে প্রজ্ঞাপন জারি করে। এটি কওমী শিক্ষার ইতিহাসে এক বিশাল মাইলফলক ছিল।

  • কর্মসংস্থানের সুযোগ: যদিও এই সমমান প্রদানের ফলে শিক্ষার্থীরা সরকারি চাকরিতে আবেদনের সুযোগ পায়, কিন্তু নিকাহ রেজিস্ট্রার বা কাজীর মতো সরাসরি ধর্মীয় ও আইনি পদগুলোতে নিয়োগের ক্ষেত্রে আইনি সীমাবদ্ধতা রয়ে গিয়েছিল, যেখানে আলিয়া মাদ্রাসার আলিম বা ফাজিল ডিগ্রির শর্ত থাকত।

ড. আসিফ নজরুলের ঘোষণা (ডিসেম্বর, ২০২৫) সেই আইনি সীমাবদ্ধতাকে দূর করল। এই পদক্ষেপ দাওরায়ে হাদিস ডিগ্রিধারীদের জন্য মর্যাদাপূর্ণ সরকারি পদে সরাসরি আবেদনের সুযোগ সৃষ্টি করল, যা কওমী শিক্ষাব্যবস্থার রাষ্ট্রীয় স্বীকৃতি ও কর্মসংস্থানমূলক সুযোগকে ২০২৫ সালে এসে আরও এক ধাপ এগিয়ে নিয়ে গেল। এর ফলে দেশের লক্ষাধিক কওমী ডিগ্রিধারীর জন্য রাষ্ট্রীয় পরিসরে তাদের যোগ্যতা প্রমাণের পথ সুগম হলো।

সামাজিক ও আইনি তাৎপর্য

আইন মন্ত্রণালয়ের এই সিদ্ধান্ত দেশের ধর্মীয় শিক্ষাব্যবস্থাগুলোর মধ্যে বৈষম্য দূর করার একটি প্রচেষ্টা হিসেবে দেখা হচ্ছে। কওমী মাদ্রাসাগুলো থেকে প্রতি বছর বিপুল সংখ্যক শিক্ষার্থী ইসলামিক আইন ও শরিয়তের বিষয়ে উচ্চতর জ্ঞান অর্জন করে থাকেন। নিকাহ রেজিস্ট্রারের পদটি যেহেতু সরাসরি ইসলামিক শরিয়ত এবং দেশের বিবাহ সংক্রান্ত আইনের সাথে সম্পর্কিত, তাই এই ধরনের ডিগ্রিধারীদের সুযোগ দেওয়া আইনি কাঠামোতে বৃহত্তর সামাজিক ও ধর্মীয় অংশগ্রহণ নিশ্চিত করবে।

এই ঘোষণার ফলে দেশের তৃণমূল পর্যায়ে থাকা কওমী আলেমরা এখন স্থানীয় প্রশাসনের সঙ্গে কাজ করার সুযোগ পাবেন, যা দেশের আইন ও ধর্মীয় আচারের মধ্যে আরও দৃঢ় সমন্বয় তৈরি করবে বলে আশা করা হচ্ছে।


সূত্র ও বিশ্লেষণ

সূত্র: ১. আইন, বিচার ও সংসদ বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টা ড. আসিফ নজরুলের ভেরিফায়েড ফেসবুক পোস্ট (৭ ডিসেম্বর, ২০২৫)। ২. বাংলাদেশ সরকারের গেজেট, কওমী মাদ্রাসার দাওরায়ে হাদিস ডিগ্রির সমমান সংক্রান্ত (২০১৮)। ৩. বাংলাদেশ নিকাহ রেজিস্ট্রার (কাজী) আইন ও নীতিমালা।

বিশ্লেষণ প্রতিবেদন কারির নাম: বিডিএস বুলবুল আহমেদ

আরও খবর জানতে ভিজিট করুনবাংলাদেশ প্রতিদিন

বিশ্লেষণ: ড. আসিফ নজরুলের এই ঘোষণা বাংলাদেশের ধর্মীয় শিক্ষা ও কর্মসংস্থানমূলক নীতিমালায় একটি উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন আনলো। ২০২৫ সালে এসে এই পরিবর্তন দাওরায়ে হাদিস ডিগ্রিধারীদের নিকাহ রেজিস্ট্রার পদে নিয়োগ পাওয়ার পথ সুগম করে দিল। মূলত, ২০১৮ সালে যখন দাওরায়ে হাদিসকে মাস্টার্স সমমান দেওয়া হয়, তার পর থেকেই এমন একটি আইনি পরিবর্তন প্রত্যাশিত ছিল। এই সিদ্ধান্ত একদিকে যেমন কওমী শিক্ষা ব্যবস্থার প্রতি রাষ্ট্রের পূর্ণাঙ্গ স্বীকৃতির ইঙ্গিত দেয়, তেমনি দেশের বিবাহ সংক্রান্ত আইন প্রয়োগের ক্ষেত্রে শিক্ষিত ধর্মীয় নেতৃত্বের অংশগ্রহণ বাড়াবে। এটি দীর্ঘদিনের বৈষম্য দূর করে একটি অন্তর্ভুক্তিমূলক সমাজ গঠনের পথে সরকারের একটি গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ।

নিউজটি শেয়ার করুন

এ জাতীয় আরো খবর..
ফেসবুকে আমরা...
নামাজের সময়সূচী
জাতীয় সঙ্গীত
©সকল কিছুর স্বত্বাধিকারঃ বাংলাদেশ প্রতিদিন সত্যের সন্ধানে সব সময় | আমাদের সাইটের কোন বিষয়বস্তু অনুমতি ছাড়া কপি করা দণ্ডনীয় অপরাধ
সকল কারিগরী সহযোগিতায় BDS Digital Marketing Agency