প্রতিবেদক : বিডিএস বুলবুল আহমেদ
গত বছরের ৫ আগস্ট ছাত্র-জনতার ঐতিহাসিক গণঅভ্যুত্থানের মুখে সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নেতৃত্বাধীন সরকারের পতন এবং তাঁর দেশত্যাগের পর থেকেই সংসদ-সদস্যদের জন্য সংরক্ষিত ন্যাম (NAM) ভবনের ফ্ল্যাটগুলো ফাঁকা হয়ে যায়। ক্ষমতাসীন দলের সংসদ-সদস্যরা দ্রুত এলাকা ত্যাগ করায় এসব ফ্ল্যাটে এখন তালা ঝুলছে। তবে সেখানে এখনো পড়ে আছে তাদের ব্যবহৃত আসবাবপত্র ও ব্যক্তিগত মালামাল, যা নিয়ে সংসদ সচিবালয় একটি জটিল পরিস্থিতিতে পড়েছে।
সরকার পতনের দিন সংসদ-সদস্যরা দেশ ছেড়ে চলে যাওয়ায় তাদের কোনো আত্মীয় বা প্রতিনিধি মালামাল সরাতে আসেননি। সংসদ সচিবালয়ের পক্ষ থেকে কয়েক দফায় সাবেক সংসদ-সদস্যদের নিজস্ব আসবাবপত্র ও মালামাল নিয়ে যাওয়ার জন্য চিঠি দেওয়া হলেও সংশ্লিষ্ট পরিবারের পক্ষ থেকে কেউ যোগাযোগ করেননি। ফলে প্রতিটি ফ্ল্যাটে সবকিছু অপরিবর্তিত অবস্থায় পড়ে আছে।
জানা যায়, ৫ আগস্টের পর গণভবনসহ সংসদ ভবন এলাকায় ব্যাপক ভাঙচুর ও লুটপাটের ঘটনা ঘটেছিল, যার প্রভাব এসব ফ্ল্যাটেও পড়ে। কিছুদিন ভবনগুলো কর্মচারী ছাড়া প্রায় জনশূন্য ও নীরব ছিল।
৫ আগস্টের আগে পর্যন্ত ন্যাম ভবন এলাকা ছিল শিশুদের কোলাহল, এলাকার সাধারণ মানুষ এবং রাজনৈতিক নেতাকর্মীদের ভিড় ও তদবিরের কেন্দ্র। গণ-অভ্যুত্থানের মুখে সরকারের পতনের পর এই চকচকে এলাকায় নেমে আসে গভীর নীরবতা, যা রাতে 'ভূতুড়ে রূপ' নিত।
তবে সাম্প্রতিক সময়ে রাতে এসব ভবনের কয়েকটি ফ্ল্যাটে নিয়মিতই আলো জ্বলতে দেখা যাচ্ছে। খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, বর্তমানে এই ফ্ল্যাটগুলোয় থাকছেন সরকারি বিভিন্ন সংস্থার কর্মকর্তারা:
তিন নম্বর ভবন (৩৬টি ফ্ল্যাট): এসব ফ্ল্যাটে বর্তমানে সেনাবাহিনী, আনসারসহ আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর কর্মকর্তারা থাকছেন।
ছয় নম্বর ভবন (৫টি ফ্ল্যাট): আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে কর্মরত পাঁচজন রাষ্ট্রপক্ষের প্রসিকিউটর তাদের পরিবারের সদস্যদের নিয়ে বসবাস করছেন।
নাখালপাড়ার তিনটি ন্যাম ভবন (৪৯টি ফ্ল্যাট): ৫ আগস্টের পর এই তিনটি ভবনের সব ফ্ল্যাটেই তালা ঝুলছে।
শেরেবাংলা নগরের মানিক মিয়া অ্যাভিনিউয়ে মোট ছয়টি ভবন ও ২১৬টি ফ্ল্যাট রয়েছে, যার বেশিরভাগেই এখনো তালা ঝুলছে।
বর্তমানে সংসদ অকার্যকর এবং কার্যক্রমও নেই। আগামী ফেব্রুয়ারির প্রথমার্ধে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা রয়েছে। এই নির্বাচনকে সামনে রেখে সংসদ সচিবালয় প্রস্তুতি শুরু করেছে:
সংস্কার কাজ: সংসদ সচিবালয় ইতোমধ্যে ক্ষতিগ্রস্ত সংসদ ভবন সংস্কারের কাজ শুরু করেছে এবং ডিসেম্বরের মধ্যেই তা শেষ করতে চায়।
আবাসন নিশ্চিতকরণ: নির্বাচিত নতুন সংসদ-সদস্যদের আবাসনের ব্যবস্থা নিশ্চিত করতে ন্যাম ভবনের ফ্ল্যাটগুলোরও প্রয়োজনীয় সংস্কার করতে চায় সংসদ সচিবালয়।
এজন্য গৃহায়ন ও গণপূর্ত মন্ত্রণালয়ের সঙ্গে সংসদ সচিবালয়ের চিঠি চালাচালি চলছে। মন্ত্রণালয়ের সবুজ সংকেত মিললে ন্যাম ভবনের ফ্ল্যাটগুলোর সংস্কার কাজ শুরু হবে।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক সংসদ সচিবালয়ের এক কর্মকর্তা জানান, সংসদ-সদস্যরা চলে যাওয়ার পর ন্যাম ভবনের দেখভালের দায়িত্ব গৃহায়ন ও গণপূর্ত মন্ত্রণালয়ের কাছে চলে গেছে। বর্তমানে ভবনগুলোর ব্যবস্থাপনায় মন্ত্রণালয়ের অনুমতি নিয়ে কিছু সরকারি কর্মকর্তা বসবাস করছেন। মানিক মিয়া অ্যাভিনিউয়ের কিছু ফ্ল্যাটে সেনাবাহিনী, আনসার ও পুলিশের অস্থায়ী ক্যাম্প রয়েছে।
তবে সাবেক সংসদ-সদস্যদের ব্যবহৃত মালামাল ও আসবাবপত্রের ভাগ্যে কী ঘটবে, সে বিষয়ে এখনো কোনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়নি।
দৈনিক যুগান্তর: ন্যাম ভবনের বর্তমান পরিস্থিতি ও সংস্কার পরিকল্পনা (৩০ নভেম্বর, ২০২৫)।
সময় টিভি: সাবেক এমপিদের মালামাল নিয়ে সংসদ সচিবালয়ের জটিলতা (৩০ নভেম্বর, ২০২৫)।
প্রথম আলো: গণঅভ্যুত্থানের পর সংসদ ভবনের নিরাপত্তা ও পরিবর্তন (আগস্ট, ২০২৪)।
প্রতিবেদক:বিডিএস বুলবুল আহমেদ
আরও খবর জানতে ভিজিট করুন: বাংলাদেশ প্রতিদিন
| ফজর | 3:50 AM ভোর |
|---|---|
| যোহর | 12:04 দুপুর |
| আছর | 4:44 PM বিকাল |
| মাগরিব | 6:50 PM সন্ধ্যা |
| এশা | 8:17 PM রাত |
| জুম্মা | 1.30 pm দুপুর |