মনোনয়ন নিয়ে তীব্র বিরোধে বিব্রত বিএনপি হাইকমান্ড: অন্তত ৪০ আসনে ক্ষোভ–বিক্ষোভ, প্রার্থী বদলের দাবি বাড়ছে
প্রতিবেদক : বিডিএস বুলবুল আহমেদ
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ঘনিয়ে আসার সঙ্গে সঙ্গে বিএনপির প্রাথমিক মনোনয়নকে কেন্দ্র করে তৃণমূলে তীব্র বিরোধ দেখা দিয়েছে। অনেক আসনে মনোনয়ন পাওয়া নেতাদের সমর্থকরা প্রচারে নামলেও, মনোনয়নবঞ্চিত নেতাদের সমর্থকরা বিক্ষোভ, মিছিল, সমাবেশ ও মহাসড়ক অবরোধ–সহ নানা কর্মসূচিতে নেমেছেন। পরিস্থিতি শন্ত না হওয়ায় দলটির নীতিনির্ধারকরা বিব্রত অবস্থায় পড়েছেন।
বিরোধ মেটাতে বিদ্রোহীদের গুলশানস্থ বিএনপি চেয়ারপারসনের কার্যালয়ে ডেকে কথা বলা হচ্ছে। কিন্তু ইতোমধ্যে তৃণমূলে গড়ে ওঠা ক্ষোভ ও বিভক্তি দ্রুত সমাধান না হলে পরিস্থিতি আরও জটিল হয়ে উঠতে পারে বলে মনে করছেন মাঠপর্যায়ের নেতাকর্মীরা।
বিএনপি সংশ্লিষ্ট একাধিক সূত্র জানায়—একই আসনে দুই–তিনজন করে শক্তিশালী মনোনয়নপ্রত্যাশী থাকায় অনেক এলাকায় প্রতিযোগিতা তীব্র। প্রাথমিক মনোনয়ন পাওয়া নেতারা এলাকায় প্রচারাভিযানে টাকা খরচ করছেন, একইভাবে মনোনয়নবঞ্চিতরাও পুনর্বিবেচনার আশায় বিপুল ব্যয় করছেন। দুই পক্ষের প্রচার–প্রতিযোগিতায় দলের সংগঠনও চাপের মুখে পড়েছে।
এরই মধ্যে বেশ কয়েকটি আসনে ঘোষিত প্রার্থী সমর্থকরা পাল্টা কর্মসূচি দিচ্ছেন, যার ফলে সংঘর্ষের আশঙ্কা দেখা দিয়েছে। তৃণমূল নেতাদের ভাষায়—“বিরোধ যত বাড়ছে, ক্ষতি হচ্ছে বিএনপির; লাভবান হতে পারে প্রতিপক্ষ রাজনৈতিক দলগুলো।”
ঘোষিত ২৩৬ আসনের মধ্যে অন্তত ৪০টি আসনে তীব্র বিরোধ দেখা দিয়েছে বলে সাংগঠনিক সূত্র নিশ্চিত করেছে। এর মধ্যে বেশি আলোচিত আসনগুলো—
🔹 চাঁদপুর–২
🔹 সুনামগঞ্জ–৫
🔹 কুষ্টিয়া–১, কুষ্টিয়া–৪
🔹 ব্রাহ্মণবাড়িয়া–৪
🔹 নরসিংদী–৪
🔹 নাটোর–১
🔹 নারায়ণগঞ্জ–২
🔹 গাইবান্ধা–২
🔹 চট্টগ্রাম–১২, চট্টগ্রাম–১৩
এ ছাড়া চট্টগ্রাম–৪ ও ১৬, সিলেট–৬, রংপুর–৩, সাতক্ষীরা–২ ও ৩, গাইবান্ধা–৪, ঠাকুরগাঁও–৩, চাঁপাইনবাবগঞ্জ–২, কুড়িগ্রাম–২, নোয়াখালী–৫, নীলফামারী–৪, দিনাজপুর–২, হবিগঞ্জ–৪, জয়পুরহাট–১ ও ২, ময়মনসিংহ–৩, ৬, ৯ ও ১১, মুন্সীগঞ্জ–২, কুমিল্লা–৫, ৬ ও ১০, রাজশাহী–৪ ও ৫, রাজবাড়ী–২, নওগাঁ–১, ৩ ও ৪, পাবনা–৪, মৌলভীবাজার–২ আসনেও প্রার্থী পরিবর্তনের দাবিতে আন্দোলন চলছে।
তৃণমূল নেতাদের দাবি—অনেক আসনে জনপ্রিয় ও মাঠ-সংগঠিত নেতাদের বাদ দিয়ে অপেক্ষাকৃত দুর্বল নেতাদের সম্ভাব্য প্রার্থী তালিকায় রাখা হয়েছে; জরিপে ভুল বা তথ্য গোপন করার অভিযোগও উঠেছে।
বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ইকবাল হাসান মাহমুদ টুকু যুগান্তরকে বলেন,
“এটি চূড়ান্ত তালিকা নয়, সম্ভাব্য তালিকা। প্রয়োজন হলে অবশ্যই পরিবর্তন করা হবে। মনোনয়ন নিয়ে কোথাও ক্ষোভ থাকলে আমরা কথা বলে সমাধান করছি।”
দলীয় সূত্র জানায়—
🔸 কোন আসনে প্রকৃত ভোট-সমীকরণ কেমন
🔸 মনোনয়ন পাওয়া নেতার গ্রহণযোগ্যতা
🔸 মনোনয়নবঞ্চিতের শক্তি
🔸 এলাকায় ঐক্যের সম্ভাবনা
এসব যাচাইয়ে একটি বিশেষ টিম কাজ করছে। টিমের প্রতিবেদনের ভিত্তিতে প্রার্থী তালিকা পুনর্বিবেচনার সিদ্ধান্ত হবে।
বিএনপির হাইকমান্ডের স্পষ্ট নির্দেশনা ছিল—প্রাথমিক মনোনয়ন পাওয়া নেতারা মনোনয়নবঞ্চিতদের সঙ্গে নিয়ে ঐক্যবদ্ধভাবে প্রচারে নামবেন। কিন্তু বাস্তবে কিছু প্রার্থী নির্দেশনা মানছেন না বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে।
বঞ্চিতদের অভিযোগ—“মনোনয়ন পাওয়া নেতাদের আচরণে পরিবর্তন এসেছে; তারা সহযোগিতা চাইছেন না, ফোন পর্যন্ত করছেন না।”
কিছু এলাকায় বঞ্চিতদের সমর্থকদের ওপর হামলা ও পোস্টার ছিঁড়ে ফেলার অভিযোগও উঠেছে।
তবে ইতিবাচক উদাহরণও আছে—
🔹 গাজীপুর–২ আসনের প্রার্থী এম মঞ্জুরুল করিম রনি মনোনয়ন পাওয়ার পর বঞ্চিত নেতাদের বাসায় গিয়ে দেখা করেছেন এবং সবাইকে নিয়ে প্রচারে নেমেছেন।
🔹 বরিশাল–৫ আসনে মজিবর রহমান সরোয়ারও একইভাবে ঐক্যবদ্ধ প্রচারণা পরিচালনা করছেন।
তৃণমূল নেতাদের বক্তব্য—এভাবে ঐক্য গড়ে না তুললে নির্বাচনে বড় ক্ষতি হতে পারে।
১) বিএনপির সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ এখন নির্বাচন নয়, অভ্যন্তরীণ ঐক্য রক্ষা
২) মনোনয়ন চূড়ান্ত হতে বিলম্ব হলে বিরোধীরা মাঠ দখল করার সুযোগ পাবে
৩) তৃণমূল নেতৃত্বকে মূল্যায়ন করা না হলে নির্বাচনি কর্মক্ষমতা ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে
৪) হাইকমান্ড যদি দ্রুত সিদ্ধান্ত না নেয়, বিভাজন বাড়তে পারে
প্রতিবেদক:বিডিএস বুলবুল আহমেদ
আরও খবর জানতে ভিজিট করুন: বাংলাদেশ প্রতিদিন
| ফজর | 3:50 AM ভোর |
|---|---|
| যোহর | 12:04 দুপুর |
| আছর | 4:44 PM বিকাল |
| মাগরিব | 6:50 PM সন্ধ্যা |
| এশা | 8:17 PM রাত |
| জুম্মা | 1.30 pm দুপুর |