প্রতিবেদক: বিডিএস বুলবুল আহমেদ
বাংলাদেশের রাজনৈতিক অঙ্গনে এখন আলোচনার কেন্দ্রে ‘জুলাই সনদ’। আসন্ন ১৫ অক্টোবর এই সনদে স্বাক্ষর হওয়ার কথা থাকায় দেশের বড় রাজনৈতিক দলগুলো একে ঘিরে অবস্থান জানাতে শুরু করেছে। এরই মধ্যে বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব অ্যাডভোকেট রুহুল কবির রিজভী জানিয়েছেন—বিএনপি এই সনদকে “ইতিবাচকভাবে দেখছে” এবং রাজনৈতিক দলগুলোর আলোচনার মাধ্যমে নির্ধারিত সময়ের আগেই একটি যৌক্তিক সমঝোতা সম্ভব বলে আশাবাদ ব্যক্ত করেছেন।
শুক্রবার সকালে রাজধানীর চন্দ্রিমা উদ্যানে শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের মাজারে এগ্রিকালচারিস্ট অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশের (AAB) নবগঠিত কমিটির পক্ষ থেকে পুষ্পার্ঘ্য অর্পণ ও ফাতেহা পাঠ শেষে সাংবাদিকদের মুখোমুখি হন রিজভী আহমেদ।
তিনি বলেন,
“আগামী ১৫ অক্টোবর স্বাক্ষর হতে যাওয়া জুলাই সনদকে বিএনপি ইতিবাচকভাবে দেখছে। গণতন্ত্রে বিশ্বাস করলে আলোচনার মাধ্যমে একটি যৌক্তিক সিদ্ধান্তে আসা সম্ভব। আমরা আশাবাদী, জুলাই সনদ নিয়ে একটি ইতিবাচক রাজনৈতিক সমঝোতা হবে।”
এই বক্তব্যের মধ্য দিয়ে বিএনপি স্পষ্ট করল—তারা সংঘাত নয়, আলোচনাভিত্তিক রাজনীতির পথেই অগ্রসর হতে চায়।
রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, ‘জুলাই সনদ’ হচ্ছে দেশের বিভিন্ন রাজনৈতিক দল, নাগরিক সমাজ ও অন্তর্বর্তী সরকারের মধ্যে একটি সমঝোতামূলক নীতি দলিল, যার লক্ষ্য আগামী সাধারণ নির্বাচন ও পরবর্তী শাসনব্যবস্থার মৌলিক কাঠামো নির্ধারণ করা। এতে গণতন্ত্র পুনঃপ্রতিষ্ঠা, মানবাধিকার সুরক্ষা, নির্বাচন কমিশনের স্বচ্ছতা ও বিকেন্দ্রীকরণমূলক প্রশাসনিক সংস্কারের প্রতিশ্রুতি থাকবে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
বিএনপি ইতিমধ্যেই এ বিষয়ে তাদের দৃষ্টিভঙ্গি দিয়েছে—দলীয় মনোনয়ন ও প্রার্থিতা নির্ধারণে স্বচ্ছতা, বিচার বিভাগের স্বাধীনতা, কৃষি ও অর্থনীতি পুনর্গঠন, এবং ডিজিটাল নজরদারি আইন বাতিলের মতো বিষয়গুলোকে প্রাধান্য দিয়েছে।
কৃষিখাত প্রসঙ্গে রিজভী আহমেদ বলেন,
“তারেক রহমান ঘোষিত ৩১ দফার মধ্যে কৃষি নিয়ে কাজের উপর বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। দেশের কৃষকরা আজ তাদের উৎপাদিত পণ্যের ন্যায্য মূল্য পাচ্ছেন না। এই পরিস্থিতিতে এগ্রিকালচারিস্ট অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশকে কার্যকর ভূমিকা রাখতে হবে।”
তিনি আরও যোগ করেন,
“এ্যাব এমন একটি নীতিমালা প্রণয়ন করবে, যাতে কৃষকদের স্বার্থরক্ষা হয় এবং দেশের সাধারণ মানুষ উপকৃত হয়। এই দিকনির্দেশনা আমাদের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের কাছ থেকেই এসেছে।”
রাজনীতিবিদদের মতে, বিএনপি বর্তমানে গ্রামীণ অর্থনীতি ও কৃষিভিত্তিক পুনর্গঠনকে তাদের নতুন নীতি এজেন্ডায় অন্তর্ভুক্ত করছে—যা ২০২৫ সালের নির্বাচনের প্রস্তুতির অংশ হিসেবেও দেখা যেতে পারে।
দীর্ঘ রাজনৈতিক সংঘাত, আন্দোলন, ও ক্ষমতার দ্বন্দ্বের পর বিএনপির এই ইতিবাচক বার্তা আসছে এমন সময়ে, যখন দেশ জুলাই বিপ্লব-পরবর্তী রাজনৈতিক পুনর্গঠনের মধ্য দিয়ে যাচ্ছে। দলটি এখন আর “বর্জন” নয়, বরং “আলোচনা ও সংলাপের রাজনীতি”-তে ফিরতে চায়—এমন ইঙ্গিত দিচ্ছে একাধিক নীতিনির্ধারকের বক্তব্য।
রাজনৈতিক বিশ্লেষক ড. নাসির উদ্দিন আহমেদ বলেন,
“বিএনপির এই অবস্থান বাস্তববাদী। জুলাই সনদে অংশগ্রহণ বা সমর্থন জানানো মানে তারা নতুন ক্ষমতার রূপরেখার অংশ হতে প্রস্তুত। এটি দলটির পুনর্বাসন প্রক্রিয়ারও অংশ।”
বর্তমান বৈশ্বিক খাদ্যসংকট ও দেশীয় উৎপাদন ব্যবস্থার সংকটে বিএনপি তাদের রাজনৈতিক বার্তায় কৃষক, তরুণ ও গ্রামীণ উদ্যোক্তা—এই তিন শ্রেণির মানুষকে সামনে আনছে।
দলের ভেতরে এটি “তৃণমূল শক্তি থেকে রাজনীতির পুনর্জাগরণ” হিসেবে পরিচিত হচ্ছে। তারেক রহমানের ৩১ দফা ঘোষণায় কৃষি, জ্বালানি, এবং স্থানীয় সরকার উন্নয়নকে অগ্রাধিকারে রাখা হয়েছে।
চন্দ্রিমা উদ্যানে আয়োজিত ওই অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন নবগঠিত এ্যাবের আহ্বায়ক কৃষিবিদ কামরুজ্জামান এবং সদস্য সচিব কৃষিবিদ শাহাদাৎ হোসেন বিপ্লব। তাঁরা জানান, বিএনপির নেতৃত্বে কৃষিখাতে দীর্ঘমেয়াদি নীতি প্রণয়নের কাজ শুরু হয়েছে, যা কৃষকের ন্যায্য মূল্য ও ভর্তুকি নিশ্চিত করবে।
জুলাই সনদকে ঘিরে বিএনপির এই ইতিবাচক অবস্থান দলটির কৌশলগত দিক পরিবর্তনেরই ইঙ্গিত। ১৭ বছর পর আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমে তারেক রহমানের ঐক্যের বার্তা এবং এখন রুহুল কবির রিজভীর সংলাপমুখী বক্তব্য—দুটিই ইঙ্গিত দেয়, বিএনপি এখন আর মুখোমুখি সংঘর্ষ নয়, বরং রাজনৈতিক পুনর্গঠন ও ঐক্যের রাজনীতিতে ফিরতে চায়।
Dhaka Tribune — “Rizvi: BNP views July Charter positively; hopes for consensus soon”, ১১ অক্টোবর ২০২৫
The Daily Star — “BNP sees room for dialogue over July Accord”, ১২ অক্টোবর ২০২৫
BBC Bangla — “Tarique Rahman’s 31-point reform plan puts focus on farmers and economy”, ১০ অক্টোবর ২০২৫
প্রতিবেদক:বিডিএস বুলবুল আহমেদ
আরও খবর জানতে ভিজিট করুন: বাংলাদেশ প্রতিদিন
| ফজর | 3:50 AM ভোর |
|---|---|
| যোহর | 12:04 দুপুর |
| আছর | 4:44 PM বিকাল |
| মাগরিব | 6:50 PM সন্ধ্যা |
| এশা | 8:17 PM রাত |
| জুম্মা | 1.30 pm দুপুর |