| বঙ্গাব্দ

জি এম কাদেরকে একহাত নিলেন রুহুল আমিন হাওলাদার: “কারাগারে যাননি, মিছিলও করেননি”

রিপোর্টারের নামঃ BDS Bulbul Ahmed
  • আপডেট টাইম : 13-09-2025 ইং
  • 4161119 বার পঠিত
জি এম কাদেরকে একহাত নিলেন রুহুল আমিন হাওলাদার: “কারাগারে যাননি, মিছিলও করেননি”
ছবির ক্যাপশন: রুহুল আমিন হাওলাদার

জি এম কাদেরকে আক্রমণ করে রুহুল আমিন হাওলাদার: “একদিনও কারাগারে যাননি, বড় কোনো মিছিল-সমাবেশও করতে পারেননি”


প্রতিবেদক: বিডিএস বুলবুল আহমেদ

গুলশানে জাতীয় পার্টির মতবিনিময় সভা

রাজনীতির মাঠে অভিজ্ঞতা, আত্মত্যাগ ও আন্দোলন ছাড়া নেতৃত্ব প্রতিষ্ঠা সম্ভব নয়—এমনই মন্তব্য করেছেন জাতীয় পার্টির মহাসচিব এ বি এম রুহুল আমিন হাওলাদার
শনিবার সকালে রাজধানীর গুলশানে জাতীয় পার্টি ঢাকা মহানগর দক্ষিণের নেতাদের সঙ্গে মতবিনিময় সভায় তিনি এ কথা বলেন।

তিনি সরাসরি দলের সাবেক চেয়ারম্যান জি এম কাদেরকে উদ্দেশ করে বলেন—
“তিনি ভাই সূত্রে এরশাদের দলের চেয়ারম্যান হলেও একদিনও কারাগারে যাননি, বড় কোনো মিছিল-সমাবেশও করতে পারেননি।”

জুলাই বিপ্লব ও শিক্ষণীয় দিক

হাওলাদার তার বক্তব্যে গত বছরের জুলাই-আগস্টের গণঅভ্যুত্থান তথা ‘জুলাই বিপ্লব’ এবং সাম্প্রতিক ডাকসু ও জাকসু নির্বাচনকে রাজনৈতিক দলগুলোর জন্য বড় শিক্ষা বলে উল্লেখ করেন।
তার ভাষায়—
“রাজনীতিতে যদি দম্ভ, অহংকার, প্রতিহিংসা ও জিঘাংসার চর্চা থাকে, তবে পতন অনিবার্য।”

তিনি মনে করেন, ডাকসু ও জাকসু নির্বাচনে জনগণের ভালোবাসাই জয় লাভ করেছে। রাজনৈতিক দলগুলোকে এই অভিজ্ঞতা থেকে শিক্ষা নিয়ে আগামী দিনের পরিকল্পনা সাজাতে হবে।

ভালোবাসার রাজনীতি ও দলকে তৃণমূলে নিয়ে যাওয়া

জাতীয় পার্টির মহাসচিব বলেন—

  • মানুষের মন জয় করতে হলে ভালোবাসা দিয়ে জিততে হবে।

  • আস্থা ও বিশ্বাস অর্জনের জন্য সময়োপযোগী ও গঠনমূলক রাজনীতি অপরিহার্য।

  • ব্যক্তিস্বার্থমুক্ত রাজনীতি দীর্ঘস্থায়ী হয়, টেকে কেবল দেশ ও মানুষের কল্যাণের রাজনীতি।

তিনি আরও যোগ করেন—
“৩৫ বছর আমরা রাষ্ট্রক্ষমতার বাইরে। জেল-জুলুম, নির্যাতন সহ্য করেছি। মাঝে মাঝে রাজনৈতিক কৌশলের কারণে অন্য দলের সঙ্গে সমঝোতা হয়েছে, ভবিষ্যতেও হতে পারে। কিন্তু দলীয় প্রতীক লাঙ্গল আমাদের নির্বাচিত নেতৃত্বের হাতেই থাকবে।”

নেতৃত্ব নিয়ে অবস্থান

হাওলাদার দাবি করেন, জাতীয় পার্টি সব নিয়ম মেনে সম্মেলন সম্পন্ন করেছে। এখন দলের চেয়ারম্যান আনিসুল ইসলাম মাহমুদ এবং তার নেতৃত্বেই লাঙ্গল প্রতীক থাকবে।
তিনি দলের নেতাদের উদ্দেশে বলেন, কর্তৃত্ববাদ নয়, বরং তৃণমূলে সংগঠন শক্তিশালী করতে হবে। মানুষের ভালোবাসা অর্জন করতে পারলেই জাতীয় পার্টি আবারও দেশের মানুষের হৃদয়ে স্থান করে নিতে পারবে।


সভায় উপস্থিত নেতৃবৃন্দ

মতবিনিময় সভায় বক্তব্য রাখেন—

  • জাতীয় পার্টির কেন্দ্রীয় নেতা মাশরুর মাওলা

  • ঢাকা মহানগর দক্ষিণ জাতীয় পার্টির আহবায়ক শারফুদ্দিন আহমেদ শিপু

  • সদস্য সচিব মাসুক রহমান

  • নির্বাহী সদস্য আফতাব গনি, মেহেবুব হাসান, মোহাম্মদ সেলিম, মোতালেব হোসেন, ইদি আমিন অ্যাপোলো, মো. মোয়াজ্জেম, মো. ইসরাক, মো. নাসির, মো. রিপনমোহাম্মদ মাসুম প্রমুখ।

বিশ্লেষণ

বাংলাদেশের রাজনীতিতে জাতীয় পার্টি সবসময়ই একটি গুরুত্বপূর্ণ কিন্তু জটিল অবস্থানে থেকেছে। ১৯৮০-এর দশকে সামরিক শাসক এরশাদের ক্ষমতায় আসার পর থেকেই দলটির উত্থান হলেও, এরশাদের মৃত্যুর পর নেতৃত্বের দ্বন্দ্বে বিভক্তি প্রকট হয়েছে।

জি এম কাদের নেতৃত্বে দলটির গ্রহণযোগ্যতা নিয়ে প্রশ্ন থাকলেও, রুহুল আমিন হাওলাদারের বক্তব্য নেতৃত্বের টানাপোড়েনকে আরও সামনে নিয়ে এসেছে। বিশেষজ্ঞরা মনে করেন, আগামী জাতীয় নির্বাচন ঘিরে এই দ্বন্দ্ব দলটির রাজনীতিকে আরও দুর্বল করে দিতে পারে, যদি না নেতৃত্বে ঐক্য ও সংস্কার আসে।


সূত্র

  1. জাতীয় পার্টি ঢাকা মহানগর দক্ষিণের মতবিনিময় সভা, গুলশান, ১৪ সেপ্টেম্বর ২০২৫

  2. দলীয় মহাসচিব রুহুল আমিন হাওলাদারের বক্তব্য

  3. স্থানীয় সংবাদ প্রতিনিধি ও প্রত্যক্ষদর্শীর বিবরণ

    প্রতিবেদক:বিডিএস বুলবুল আহমেদ
    আরও খবর জানতে ভিজিট করুনবাংলাদেশ প্রতিদিন

নিউজটি শেয়ার করুন

এ জাতীয় আরো খবর..
ফেসবুকে আমরা...
নামাজের সময়সূচী
জাতীয় সঙ্গীত
©সকল কিছুর স্বত্বাধিকারঃ বাংলাদেশ প্রতিদিন সত্যের সন্ধানে সব সময় | আমাদের সাইটের কোন বিষয়বস্তু অনুমতি ছাড়া কপি করা দণ্ডনীয় অপরাধ
সকল কারিগরী সহযোগিতায় BDS Digital Marketing Agency