ব্যাংক খাত সংস্কারসহ সাত প্রকল্পে ১৮৬ কোটি ডলারের উচ্চসুদের ঋণ নিচ্ছে অন্তর্বর্তী সরকার
বিডিএস বুলবুল আহমেদ
ঢাকা: অর্থনৈতিক সংকট ও বৈদেশিক মুদ্রার ঘাটতি মোকাবিলায় অন্তর্বর্তী সরকার সাতটি প্রকল্পে বাস্তবায়নের জন্য প্রায় ১৮৬ কোটি মার্কিন ডলার (দেশি মুদ্রায় প্রায় ২২ হাজার ৭০৯ কোটি টাকা) উচ্চসুদের ঋণ নিচ্ছে। এর মধ্যে চীনের নিউ ডেভেলপমেন্ট ব্যাংক (এনডিবি) থেকে প্রথমবারের মতো ৩২ কোটি ডলার ঋণ নেওয়া হচ্ছে।
সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, সরকারের সর্বশেষ স্ট্যান্ডিং কমিটি অন নন-কনসেশনাল লোন (এসসিএনসিএল) বৈঠকে এ ঋণের অনুমোদন দিয়েছেন অর্থ উপদেষ্টা ড. সালেহউদ্দিন আহমেদ। ঋণের অর্থ মূলত ব্যাংক খাত সংস্কার, সার ও জ্বালানি তেল আমদানি, বিদ্যুৎকেন্দ্র এবং অবকাঠামো উন্নয়ন প্রকল্পে ব্যয় হবে।
ঋণের উৎস ও ব্যবহারের খাত নিম্নরূপ:
এশীয় উন্নয়ন ব্যাংক (এডিবি): ১৪০ কোটি ৪০ লাখ ডলার
ব্যাংক খাত সংস্কার: ৫০ কোটি ডলার (সুদ ৪.৮২%, মেয়াদ ১২ বছর, ৩ বছর গ্রেস)
সার আমদানি: ৫০ কোটি ডলার
নবায়নযোগ্য বিদ্যুৎ সরবরাহ টেকসই প্রকল্প: ২০ কোটি ডলার (সুদ ৪.৯৩%, মেয়াদ ২৫ বছর, ২ বছর গ্রেস)
ঢাকা নর্থ করিডর রোড প্রকল্প (এসএএসইসি): ২০ কোটি ৪০ লাখ ডলার (সুদ ৪.৮৩%, মেয়াদ ২৫ বছর, ৫ বছর গ্রেস)
ইন্টারন্যাশনাল ইসলামিক ট্রেড ফাইন্যান্স করপোরেশন (আইটিএফসি): ২২ কোটি ৫০ লাখ ডলার
সার আমদানি (সুদ প্রায় ৬%)
নিউ ডেভেলপমেন্ট ব্যাংক (এনডিবি), চীন: ৩২ কোটি ডলার
ঢাকা ওয়াসার পানি সরবরাহ উন্নয়ন প্রকল্প (সুদ ৩.৩৬%, মেয়াদ ৩০ বছর)
ওপেক ফান্ড ফর ইন্টারন্যাশনাল ডেভেলপমেন্ট (ওএফআইডি): ১১ কোটি ২৪ লাখ ডলার
বাজেট সহায়তা
বিপিসি ও পেট্রোবাংলা: ৭৬ কোটি ৫০ লাখ ডলার
জ্বালানি তেল ও এলএনজি আমদানি (সুদ প্রায় ৬%)
অর্থনীতিবিদরা বলছেন, ২০২৬ সালে বাংলাদেশ এলডিসি উত্তরণ প্রক্রিয়া সম্পন্ন করতে যাচ্ছে। এর ফলে স্বল্পসুদের ঋণ (নমনীয় ঋণ) পাওয়া ক্রমেই কঠিন হয়ে পড়ছে। ফলে সরকার উচ্চসুদের ঋণের ওপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ছে, যা ভবিষ্যতে ঋণসেবা ব্যয় বাড়িয়ে অর্থনীতির স্থিতিশীলতায় চাপ সৃষ্টি করতে পারে।
অর্থনৈতিক সম্পর্ক বিভাগের (ইআরডি) সচিব মো. শাহরিয়ার কাদের ছিদ্দিকী বলেন, “এলডিসি গ্র্যাজুয়েশনের কারণে নমনীয় ঋণ বন্ধ হয়ে যাচ্ছে—এমনটা ঠিক নয়। দাতাদের কাছ থেকে এখনও দুই ধরনের ঋণই আসছে। তবে কিছু প্রকল্পের জন্য অনমনীয় ঋণ নিতে হচ্ছে।”
তিনি আরও জানান, বৈঠকে সিদ্ধান্ত হয়েছে ঋণপ্রকল্পগুলো নির্দিষ্ট মেয়াদে শেষ করতে হবে এবং মনিটরিং বাড়াতে হবে।
বিগত সময়ে ঋণ কেলেঙ্কারি, বিদেশে অর্থ পাচার ও অনিয়মে দেশের ব্যাংক খাত ভঙ্গুর অবস্থায় পড়েছে। সংস্কারের জন্য কেন্দ্রীয় ব্যাংকের অধীনে ইতিমধ্যে একটি প্রকল্প চালু আছে। নতুন ঋণের অর্থ সেই প্রকল্পে ব্যয় করা হবে।
কৃষি সচিব ড. মোহাম্মদ এমদাদ উল্লাহ মিয়ান জানিয়েছেন, আইটিএফসি থেকে সার আমদানির ঋণ অনুমোদিত হলে এলসি খোলার অনিশ্চয়তা কেটে যাবে এবং দেশের সার সরবরাহ নিশ্চিত হবে। এটি খাদ্য নিরাপত্তা বজায় রাখতে সহায়ক ভূমিকা রাখবে।
অর্থ মন্ত্রণালয় ও অর্থনৈতিক সম্পর্ক বিভাগের (ইআরডি) বৈঠকের কার্যবিবরণী (৩৯তম অনমনীয় ঋণ সংক্রান্ত বৈঠক)
সংশ্লিষ্ট সচিব ও উপদেষ্টাদের মন্তব্য
দাতা সংস্থাগুলোর প্রস্তাবিত ঋণ প্রকল্পের নথি
প্রতিবেদক:বিডিএস বুলবুল আহমেদ
আরও খবর জানতে ভিজিট করুন: বাংলাদেশ প্রতিদিন
| ফজর | 3:50 AM ভোর |
|---|---|
| যোহর | 12:04 দুপুর |
| আছর | 4:44 PM বিকাল |
| মাগরিব | 6:50 PM সন্ধ্যা |
| এশা | 8:17 PM রাত |
| জুম্মা | 1.30 pm দুপুর |