জুলাই গণ-অভ্যুত্থানে রামপুরা গণহত্যা মামলায় ডিএমপির সাবেক কমিশনারসহ চারজনের বিরুদ্ধে পরোয়ানা
প্রতিবেদক: বিডিএস বুলবুল আহমেদ
তারিখ: ১০ আগস্ট ২০২৫, ঢাকা
উৎস: যুগান্তর ও সংগৃহীত তথ্য
জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের সময় (১ জুলাই–৫ আগস্ট ২০২৪) রাজধানী ঢাকায় নিরস্ত্র ছাত্র-জনতার ওপর দমনপীড়নে নেতৃত্বের অভিযোগে ডিএমপির সাবেক কমিশনার হাবিবুর রহমানসহ চারজনের বিরুদ্ধে গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি করেছে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-১।
অভিযোগপত্র অনুযায়ী, ১৯ জুলাই ২০২৪ রামপুরায় নাদিম (৩৮) ও বৃদ্ধা মায়া ইসলাম (৬০) নিহত হন, আহত হন শিশু বাসিত খান মুসা (৬) এবং আরও অনেকে। একই দিনে অন্তত ২৩ জনকে গুলি করে হত্যা ও বহুজনকে আহত করার অভিযোগ রয়েছে।
আসামি ৫ জন—
হাবিবুর রহমান — তৎকালীন ডিএমপি কমিশনার (পলাতক)
মো. রাশেদুল ইসলাম — সাবেক এডিসি, খিলগাঁও জোন (পলাতক)
মো. মশিউর রহমান — সাবেক ওসি, রামপুরা থানা (পলাতক)
তারিকুল ইসলাম ভূঁইয়া — সাবেক এসআই, রামপুরা থানা (পলাতক)
চঞ্চল চন্দ্র সরকার — সাবেক এএসআই, রামপুরা পুলিশ ফাঁড়ি (গ্রেফতারকৃত)
পরোয়ানা জারি চারজনের বিরুদ্ধে, গ্রেফতার আসামি চঞ্চল চন্দ্র সরকারকে ট্রাইব্যুনালে হাজিরের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। পরবর্তী শুনানি ১৭ আগস্ট ২০২৫।
১৯ জুলাই ২০২৪ দুপুরে রামপুরায় জুমার নামাজ শেষে ছাত্র-জনতা মিছিল করলে পুলিশ গুলি চালায়।
শিশু বাসিতের মাথায় গুলি গিয়ে তার দাদি মায়ার পেটে লাগে; পরদিন মায়া মারা যান।
কর্মস্থল থেকে ফেরা আমির হোসেনকে ভবনের পাইপে ঝুলে থাকতে দেখে পুলিশের গুলি; গুরুতর আহত হন।
পুলিশের গুলিতে নাদিমসহ অন্তত ২৩ জন নিহত হন।
অভিযোগপত্রে ১,৭০২ রাউন্ড গুলি, সাউন্ড গ্রেনেড ও টিয়ার শেল ব্যবহারের কথা উল্লেখ।
তদন্তে গুলি চালানোর নির্দেশ সংবলিত অডিও ক্লিপস ও জিডির তথ্য মিলেছে।
প্রসিকিউটর বিএম সুলতান মাহমুদ জানান, এসব অপরাধ মানবতাবিরোধী অপরাধ হিসেবে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে বিচারাধীন।
একই দিনে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনারের চিফ প্রসিকিউটর কার্যালয়ে অভিযোগ দিয়েছেন মেজর (অব.) জাহিদুল ইসলামের স্ত্রী জেবুন্নাহার ইসলাম।
অভিযোগে বলা হয়—
২০১৬ সালের ২ সেপ্টেম্বর রাত ১০টার দিকে জেবুন্নাহার ও তার দুই শিশু কন্যাকে চোখ বেঁধে আটক করা হয়।
স্বামীকে জঙ্গি স্বীকারে চাপ দিয়ে হত্যার স্বীকারোক্তি আদায় না হওয়ায় তাকে ৪ মাস ৭ দিন গুম করে রাখা হয়।
বড় মেয়েকে “উদ্ধার নাটক” সাজিয়ে আজিমপুর থেকে এবং পরে জেবুন্নাহারকে আশকোনা থেকে উদ্ধার দেখানো হয়।
একাধিক মিথ্যা মামলা দিয়ে দীর্ঘ চার বছর কারাবন্দি রাখা হয়।
জামিনে মুক্তির দুই বছর পর আবারও গ্রেফতার করা হয়; ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের পর মুক্তি পান।
অভিযোগে সাবেক আইজিপি একেএম শহিদুল হকসহ ছয়জনের নাম রয়েছে।
বাংলাদেশের রাজনৈতিক ইতিহাসে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী কর্তৃক আন্দোলন দমন বহুবার সমালোচিত হয়েছে—
১৯৭১ মুক্তিযুদ্ধপূর্ব পাকিস্তানি বাহিনীর দমন অভিযান
১৯৯০ স্বৈরাচারবিরোধী আন্দোলনে গুলি চালনা
২০১৩–২০১৮ রাজনৈতিক বিক্ষোভে প্রাণহানি
২০২৪ জুলাই গণ-অভ্যুত্থান — যেখানে নিরস্ত্র ছাত্র-জনতার বিরুদ্ধে প্রাণঘাতী শক্তি ব্যবহারের অভিযোগ আন্তর্জাতিকভাবে নিন্দিত হয়েছে।
রামপুরা হত্যাকাণ্ড মামলাটি জুলাই গণ-অভ্যুত্থান-পরবর্তী সময়ে মানবতাবিরোধী অপরাধের বিচারের একটি বড় পদক্ষেপ। উচ্চপদস্থ পুলিশ কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে মামলা গৃহীত হওয়া বাংলাদেশের বিচার ব্যবস্থায় একটি নজির। একই সঙ্গে মেজর জাহিদুল হত্যার অভিযোগ দেখায় যে, রাষ্ট্রীয় ক্ষমতার অপব্যবহার ও “জঙ্গি নাটক” সাজিয়ে দমন অভিযান কেবল রাজনৈতিক আন্দোলন নয়, ব্যক্তিগত নিরাপত্তার জন্যও হুমকি হয়ে উঠেছিল।
যুগান্তর প্রতিবেদন, ১০ আগস্ট ২০২৫।
আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল, বাংলাদেশ; মানবতাবিরোধী অপরাধের নথি, ২০২৪–২০২৫।
প্রতিবেদক:বিডিএস বুলবুল আহমেদ
আরও খবর জানতে ভিজিট করুন: বাংলাদেশ প্রতিদিন
| ফজর | 3:50 AM ভোর |
|---|---|
| যোহর | 12:04 দুপুর |
| আছর | 4:44 PM বিকাল |
| মাগরিব | 6:50 PM সন্ধ্যা |
| এশা | 8:17 PM রাত |
| জুম্মা | 1.30 pm দুপুর |